সেরার সেরা দাবাড়ুগণ ৪: মিখাইল তাল, দ্য ম্যাজিশিয়ান ফ্রম রিগা, শেষ পর্ব

ইমরান শরীফ শুভ
5
(1)
Bookmark

No account yet? Register

দাবা নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক চলছে, দাবার ধারাবাহিক না বলে দাবাড়ুদের ধারাবাহিক বলা শ্রেয়! এ আবার কেমন কথা, আচ্ছা ভেঙে বলি, কারণটা হলো এই সিরিজে দাবা শেখার থেকে বরং আমরা দাবাড়ুদের জীবনেই বেশি ফোকাস করছি। দাবার প্রাথমিক ধারণা পেতে বরং মগজের লড়াই: শতরঞ্জ পড়ে আসতে পারেন! যাক, আর কথা না বাড়াই, প্রথম যাকে দিয়ে এই বর্ণাঢ্য ধারাবাহিকের সূচনা করেছিলাম আমরা, তিনি আর কেউ নন, দ্য পাইরেট অফ লাতভিয়া, মিখাইল তাল। দাবার অষ্টম এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে নিয়ে এই ধারাবাহিকের শেষ পর্ব হবে আজ।   

প্রথম পর্বে এবং দ্বিতীয় পর্বে আমরা তালের বাল্যকাল, দাবায় আগমন, খেলার ধরন, ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জয় এবং রেকর্ড সৃষ্টি করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জয় দেখেছি। এবং তৃতীয় পর্বে দেখেছি তালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব হারানো, তৎপরবর্তী ক্যারিয়ার, অসুস্থতা, মৃত্যু। আজকে শেষ পর্বে আমরা তার ব্যক্তিগত জীবন, লেখালেখি এবং লেগ্যাসি তথা তার স্মরণে অন্যান্য বিশ্বখ্যাত দাবাড়ুদের বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করবো। 

তিনি ছিলেন এক জ্বলজ্বলে দ্যুতি, যার দ্রুতই উদয় ঘটেছে এবং দ্রুতই পতনও ঘটেছে। উপমা দিয়ে বলতে গেলে, তারাটি এত উজ্জল হয়ে জ্বলেছিল যে, সেটি দীর্ঘসময় নিজেকে জ্বালিয়ে রাখতে পারেনি, একবারে পুড়ে গেছে।

তালের ব্যাপারে ক্রামনিক
 ক্রামনিক বরাবরের মতই বেশ উচ্চকণ্ঠেই তালের প্রশংসা করেছেন|
বেশ উচ্চকণ্ঠেই তালের প্রশংসা করেছেন ক্রামনিক; ছবি কৃতজ্ঞতা: EPA-EFE/OMER MESSINGER via Tass.com

লেখক তাল

চৌষট্টি খোপে যেমন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন তাল, তেমনই কলম হাতেও ছিলেন সামনের সারিতে! অনেক কালোত্তীর্ণ বই যেমন লিখেছেন, তেমনই পুরো এক দশক (১৯৬০-৭০) ছিলেন রিগা শাহ’স ম্যাগাজিনের সম্পাদক। শাহ’স শব্দের অর্থ দাবা। বতভিনিকের বিরুদ্ধে ১৯৬০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের উপর লেখা তাল-বতভিনিক ১৯৬০-কে বলা হয়, যে-কোনো ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে লেখা সেরা বই। 
তার আত্মজীবনী দ্য লাইফ অ্যান্ড গেমস অফ মিখাইল তাল তো যে-কোনো দাবা বিষয়ক শ্রেষ্ঠ বই বলে বিবেচ্য। এই বইয়ের বিশেষত্ব হল তার সাথে একজন সাংবাদিকের কাল্পনিক কথোপকথনের ধাঁচে এটি লিখিত। এক্ষেত্রে তার সহলেখক ইয়াকভ দামস্কির মুন্সিয়ানাও আছে বলতেই হবে। এই দুইটি মাস্টারপিস ছাড়াও ১৯৬৬ সালের পেত্রসিয়ান-স্পাস্কি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে তাল লিখেছেন World Championship: Petrosian vs. Spassky 1966. চেস ডাইজেস্ট প্রকাশ করেছে এটি। আর আত্মজীবনীর প্রকাশক Everyman Chess থেকে তার অ্যাটাকিং দাবা নিয়ে বের হয়েছে অ্যাটাক উইথ মিখাইল তাল। এগুলো ছাড়াও সর্বমোট তার দশের অধিক বই আছে।

তালের আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ
তালের আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ; ছবি কৃতজ্ঞতা: আমাজন 

ব্যক্তিজীবন

শৈশব থেকেই তালের স্বাস্থ্য ছিল বেশ ভঙ্গুর, এবং সেই সাথে তার জীবনযাত্রারও নেতিবাচক প্রভাব ছিল। আকর্ষণীয়, হাস্যরসিক, উচ্চশিক্ষিত এবং পার্টিপ্রিয় তাল তার জীবনের শেষ বছরগুলোতে খুব অসুস্থ ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি মারা যান মাত্র ৫৬ বছর বয়সে। তার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে কম জানা যায়, কিন্তু যদ্দুর জানা যায় তিনি নিপাট ভালমানুষ ছিলেন। তার জীবনে কোন উচ্চাশা ছিল না। 

এ সম্পর্কে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্রামনিক বলেন, 

তাল একজন তারকা ছিলেন, ছিলেন এক প্রকৃত দাবা-প্রতিভা। যতদূর আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তার জীবনে কোনো উচ্চাশা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। তিনি খেলাটাকে শুধুই উপভোগ করে গেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি অপেশাদার ঠেকতে পারে কিন্তু তার ট্যালেন্ট এতটাই মায়ার ইন্দ্রজাল সৃষ্টিকারী ছিল যে, তার অ্যামেচার অ্যাপ্রোচেই তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যান।

তালের জীবন-যাপন এবং প্লেইং-স্টাইল সম্পর্কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ দাবাড়ু হবার অন্যতম দাবিদার গ্যারি ক্যাসপারভ বলেন, 

তালের লাইফ-স্টাইল ছিল সাধারণের থেকে অনেক আলাদা এবং এটা অনুসরণ করা যে-কারো জন্যই কঠিন ছিল। কিন্তু খেলার ধাঁচের কথা বললে, সেটা একেবারেই অসম্ভব তার মত খেলতে পারা। 

গ্যারি ক্যাসপারভ সাইমাল্টেনাস এক্সিবিশন খেলছেন
গ্যারি ক্যাসপারভ সাইমাল্টেনাস এক্সিবিশন খেলছেন; ছবি কৃতজ্ঞতা: Viktor Korotayev/Reuters via Business Insider

স্মরণিকা 

মিখাইল নেখমেভিচ দ্য এইটথ, তথা তালের লেগ্যাসি নিয়ে লিখতে বসলে লিখে শেষ করা যাবে না। তবুও কিছু কথা না বললেই নয়। শ্রেষ্ঠ দাবাড়ুদের সেরা খেলাগুলো নিয়ে ২০০৪ সালে সংকলিত The Mammoth Book of the World’s Greatest Chess Games বইয়ে অন্য যে-কোনো দাবাড়ুর থেকে তালের বেশি গেম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 

তালের মৃত্যুর পর মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার রবার্ট ব্রাইন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন

এটা শুনতে খুব সাধারণ শোনাতে পারে, কিন্তু খুব কম খেলোয়াড়ই তার মত দাবাকে ভালবাসত। অনেকের কাছেই খেলাটা একটা পরিশ্রমের মত, যেখানে তাল আসলে সেটা উপভোগ করতেন।

মিখাইল তালের ১৯৬৮ সালের একটি ছবি
মিখাইল তালের ১৯৬৮ সালের একটি ছবি; ছবি কৃতজ্ঞতা: উইকিমিডিয়া কমন্স

পঞ্চম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স উ বলেন, 

তাল তার পূর্ববর্তী বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের থেকে বেশকিছু গুণ পেয়েছিলেন। পল চার্লস মরফি থেকে চেস ব্রিলিয়ান্স, স্টেইনিজ থেকে কিছুটা ম্যাজিক, ইম্যানুয়েল ল্যাস্কারের থেকে সাইকোলজিক্যাল অ্যাপ্রোচ, অ্যালেক্সান্ডার অ্যালেখাইন থেকে আক্রমণ আর মিখাইল বতভিনিক থেকে এনার্জি; এসব মিলেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তাল! 

ষষ্ঠ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মিখাইল বতভিনিক তালের ব্যাপারে বলেন, 

মানুষ তাকে ভালবাসত, এটাই কি সুখী হবার জন্য যথেষ্ট নয়? দাবাবোর্ডে তাল বড় দুর্ধর্ষ ছিলেন, পক্ষান্তরে বাস্তব জীবনে তিনি ততটাই অহিংস লোক। এর সাথে যুক্ত ছিল তার বুদ্ধিমত্তা আর রসিকতা। তিনি কম্বিনেশনের ঝড় তুলতে ভালবাসতেন, দাবার বোর্ডে সব প্যারাডক্সিক্যাল সমাধানে বুঁদ থাকতে ভাল্লাগতো তার।  

মিখাইল বতভিনিক-এর ১৯৬২ সালের একটি ছবি
মিখাইল বতভিনিক-এর ১৯৬২ সালের একটি ছবি; ছবি কৃতজ্ঞতা: উইকিমিডিয়া কমন্স 

তালের এক্সিলেন্সির কথা সপ্তম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভাসিলি স্মিস্লভের মুখে শুনুন, 

বৃহদার্থে চিন্তা করলে তালের আবির্ভাবটা হয়েছিল এক বিস্ফোরণের মত। কম্বিনেটিভ ব্রিলিয়ান্সির অসাধারণত্ব ধরা দিয়েছিল তার মাধ্যমে। দাবার ঘুঁটিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠত তার গেমে। 

অষ্টম চ্যাম্পিয়ন তালের ব্যাপারে নবম চ্যাম্পিয়ন তিগ্রান পেত্রসিয়ান বলেন, 

হাতে গোনা মাত্র ক’জনকে আমি জিনিয়াস মানি, যারা কিনা ছিলেন তাদের সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে, তাদের এই প্রভাবটা আমরা ধরতে পারি বেশ পরে। এমন জিনিয়াস আমার কাছে মনে হয়, পল চার্লস মরফি, অ্যালেক্সান্ডার অ্যালেখাইন আর তাল। সমসাময়িক বোদ্ধারা যেটা পারেননি, রিগার এই গ্র্যান্ডমাস্টার সেটিই করে দিয়েছেন। দুঃখের বিষয় হল এত তাড়াতাড়ি তার স্মৃতিচারণে বসতে হচ্ছে আমাদের! [তাল অকালে মারা যান, মাত্র ৫৬ বছর বয়সে, সেদিকে ইঙ্গিত করে] 

দশম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বরিস স্পাস্কি তালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন,

আমার সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুবই দারুণ, একটা বারের জন্যও আমরা কোনো সমস্যায় জড়াইনি। খেলার মাঠে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হলেও বাস্তব জীবনে আমাদের চমৎকার আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল বরাবরই। গ্রেট খেলোয়াড়দের মধ্যে মিশাই মনে হয় একমাত্র যার ভেতর অহংকারের ছিটে ফোঁটাও ছিল না। 

তালের ব্যাপারে দ্বাদশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আনাতোলি কারপভ উপমা দেন “এলেন, দেখলেন, জয় করলেন”, 

সেরা সময়ের তালকে নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, “তিনি এলেন-দেখলেন-জয় করলেন”, তার কম্বিনেটিভ ট্যালেন্টে পরাস্ত হয়েছিল সবাই। ব্যতিক্রমী প্রজ্ঞা, মন-মেমরির সুতীক্ষ্ণ ব্যবহার এগুলোই তাকে অপ্রতিরোধ্য বানিয়ে দিয়েছিল। 

তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বাঁ থেকে কারপভ, উ , স্মিস্লভ
তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বাঁ থেকে কারপভ, উ (নিচে), স্মিস্লভ; ছবি কৃতজ্ঞতা: উইকিমিডিয়া কমন্স

তালের আত্মজীবনীর মুখবন্ধে সম্পাদক জন নান বলেন, 

মিশার ব্যক্তিত্ব ছিল বেশ উষ্ণ এবং আন্তরিক, যেখানে কদর্যতার লেশমাত্র ছিল না। দাবার প্রতি ছিল তার অসীম আবেগ। জীবনের শেষদিনগুলোতে অসুস্থতা তাকে অনেক ভুগিয়েছে কিন্তু তিনি কখনই কোনো অজুহাতের আশ্রয় নেননি। [খেলাটাকে তিনি প্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন।] ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হলেও তিনি ম্যাচ পেছাতেন না কখনও, গেম পোস্টপন করাকে মন থেকে ঘৃণা করতেন তাল।

ভ্লাদিমির ক্রামনিকের এই মূল্যায়নটি ছাড়া স্মরণিকা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে, 

তালের ব্যাপারে কিছু বলা কঠিন, কারণ তিনি ছিলেন খুবই প্রতিভাবান, তাকে শুধুই ন্যাচারাল ফেনমেনন বলাই মানায়। আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, যদি তিনি দাবায় না আসতেন তবে অন্য যেদিকে ফোকাস করতেন, সেখানেই সেরা হতেন। যদি তিনি বিজ্ঞানী হতেন, তবে সম্ভবত নোবেল পুরস্কার পেতেন। তার বৈশিষ্ট্য ছিল জাগতিক গুণাবলীর বাইরে। যারা তাকে ব্যক্তিগতভাব চিনতেন, তাদের অনেকেই বলেছেন, তার মধ্যে হোমো-স্যাপিয়েন্স এর কোনো বৈশিষ্ট্যই ছিল না। তিনি ছিলেন এলিয়েন। তার দাবা নিয়ে আলোচনা করা হলো ঈশ্বর কেমন দেখতে, সেটা নিয়ে আলোচনা করার মতো! 

মিশা আজ নেই, কিন্তু তার গেমগুলো আছে। তার স্যাক্রিফাইসিং-রোমান্টিক-অ্যাটাকিং স্টাইলে আজ দাবাপাড়া বুঁদ। শুধু এক-দুইটি নয়, গোটা কয়েক প্রজন্মের দাবার পাঠ তিনি দিয়েছেন সামনে থেকে। তার লালিত স্বপ্ন আজ বাস্তবতার মুখ দেখছে। কুইন স্যাক্রিফাইস হরহামেশাই হচ্ছে, এমনকি ১২ তম মুভেও! তবুও যন্ত্রের দাপটের এই যুগে সবাই যেভাবে সুপার কম্পিউটারসুলভ মেশিনের মত খেলছে, সেখানে তালের অ্যান্টি-পজিশনাল প্লেইং-স্টাইল কতটা কাজে আসবে, এই চিন্তা করেন অনেক বোদ্ধাই। 

বর্তমানের দানিয়েল দুবভের ব্যাপারে মশহুর আছে যে, Dubov is the new Tal!
বর্তমানের দানিয়েল দুবভের ব্যাপারে মশহুর আছে যে, Dubov is the new Tal!; ছবি কৃতজ্ঞতা: নিকি রিগা/টুইটার

তবে বর্তমান প্রজন্মও বসে নেই, হালের দানিয়েল দুবভকে অনেকে ভালবেসে এই জমানার তাল বলে ডাকেন (Dubov is the new Tal!)। দুবভের খেলার ধরনও যে, তালের মতই! স্যাক্রিফাইসিং-রোমান্টিক-অ্যাটাকিং দাবা বেঁচে থাকুক আজীবন! বেঁচে থাকুন তাল, তার অনন্য সব ম্যাচের মাঝে, কুইন স্যাক্রিফাইসের মাঝে!

প্রচ্ছদ চিত্রসূত্র: উইকিমিডিয়া কমন্স

গ্রন্থসূত্র: 

  • Tal, Mikhail. Damsky, Iakov. The Life and  Games of Mikhail Tal. Cadogan Chess Series. 1998. ISBN: 1 85744 202 4. 
  • Tal, Mikhail. Tal-Botvinnik 1960. Revised & Expanded Fifth Edition. 2000. ISBN: 1-888690-08-9. 
  • Kasparov, Garry. My Great Predecessors II. Everyman Chess Series. 2003. ISBN: 1 85744 342 X. 

তথ্যসূত্র:

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on সেরার সেরা দাবাড়ুগণ ৪: মিখাইল তাল, দ্য ম্যাজিশিয়ান ফ্রম রিগা, শেষ পর্ব

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!