আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর টাকার ঝনঝনানিতে আইপিএল বর্তমান পৃথিবীর সবথেকে জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট

যে উপায়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা লাভবান হয় (শেষ পর্ব)

3.4
(5)
Bookmark

No account yet? Register

আলোচ্য ধারাবাহিকের প্রথম পর্বে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অর্থের বেশ কিছু উৎস বর্ণনা করা হয়েছে। চলমান পর্বে এরূপ আরো এরূপ কিছু মাধ্যমের কথা উল্লেখ করা হলো।

আইপিএল প্রাইজ মানি 

অংশগ্রহণকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো টুর্নামেন্টের প্রাইজ মানি বাবদ বড় অংকের একটি অর্থ পায়। ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন দল চেন্নাই সুপার কিংস প্রাইজ মানি হিসেবে পেয়েছিল মোট ২০ কোটি রুপি। 

আইপিএল ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি
চিত্র: আইপিএল ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস; চিত্রসূত্র – ক্রিক ট্র্যাকার

এই অর্থ মোট দুই ভাগে ভাগ হয়েছিল। ১০ কোটি রুপি দলের সকল খেলোয়াড়, কোচ এবং অন্যান্য সকল স্টাফের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। আর বাকি ১০ কোটি রুপি পেয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। রানার্স-আপ দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদও বাদ যায়নি। তারা পেয়েছিল সাড়ে ১২ কোটি রুপি। সেমিফাইনালের অন্য দুই দলও বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছিল। 

২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রাইজ মানি ছিল ২০ কোটি রুপিতে। ভাগাভাগি হয়েছিল ঠিক আগের মতই। 

আইপিএল ২০১৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজি
চিত্র: আইপিএল ২০১৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ; চিত্রসূত্র – ইউটিউব

আর রানার্স-আপ চেন্নাই সুপার কিংস পায় সাড়ে ১২ কোটি রুপি। 

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মার্চেন্ডাইজ বিক্রি 

মার্চেন্ডাইজ বিক্রি যেকোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির জনপ্রিয়তার বৃদ্ধির সাথে সাথে এই খাতে আয়ের পরিমাণও বাড়তে থাকে। 

প্রতিটি দল আইপিএলের মৌসুমে নিজেদের দলের জার্সি, ক্যাপ এবং শু বিক্রি করে। 

আইপিএল চলাকালীন জার্সি বিক্রি ফ্র্যাঞ্চাইজি সমূহের আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস
চিত্র: আইপিএল চলাকালীন জার্সি বিক্রি ফ্র্যাঞ্চাইজির আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস; চিত্রসূত্র – আইস্পোর্টস লীগ 

জার্সি আবার দুইরকম হয়; অফিসিয়াল জার্সি এবং আনঅফিসিয়াল জার্সি। অফিসিয়াল জার্সি সাধারণত খুবই কম সংখ্যক তৈরি করা হয় এবং চড়া দামে বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে আনঅফিসিয়াল জার্সি প্রচুর পরিমাণে তৈরি করা হয়।

অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি আবার জার্সি, ক্যাপ এবং শু বিক্রির দায়িত্ব অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে দেয়। সেই প্রতিষ্ঠান নিজেদের দায়িত্বে এসব জিনিস তৈরি এবং বিক্রি করে। পরিবর্তে তাদের লাভের একটি বড় অংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো গ্রহণ করে। 

ফ্র্যাঞ্চাইজি সমূহের মার্চেন্ডাইজের নমুনা
চিত্র: ফ্র্যাঞ্চাইজির মার্চেন্ডাইজের নমুনা; চিত্রসূত্র – ইনসাইড স্পোর্ট

ক্লাব ফুটবলে মার্চেন্ডাইজ বিক্রি অনেক জনপ্রিয়। ফুটবল ক্লাবের মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। তবে ক্লাব ফুটবল প্রায় সারা বছর ধরে চলে। সেই তুলনায় আইপিএলের স্থায়িত্ব মাত্র দুই থেকে আড়াই মাস।

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মোট আয়ের ৫ শতাংশ এই খাত থেকে আসে। 

বিসিসিআই কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থ

বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মিডিয়া স্বত্ব বাবদ অর্থ তো পায়ই, এর পাশাপাশি তারা আইপিএলের অফিসিয়াল স্পন্সরশিপ ও পার্টনারশিপ বাবদও অর্থ পেয়ে থাকে। আইপিএল পরিচালনার মূল কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিসিসিআইও আর্থিকভাবে ভালোই লাভবান হয়। আর তাই মুনাফার একটি অংশ তারা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে ভাগ করে নেয়। 

বিসিসিআই আয়োজিত আইপিএল থেকে বিসিসিআই প্রচুর অর্থ উপার্জন করে
চিত্র: বিসিসিআই আয়োজিত আইপিএল থেকে বিসিসিআই প্রচুর অর্থ উপার্জন করে; চিত্রসূত্র – ইনসাইড স্পোর্ট

বিসিসিআইয়ের সেন্ট্রাল পুল থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কী পরিমাণ অর্থ লাভ করবে, তা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তবে সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হলো লিগ টেবিলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবস্থান।

স্টল ভাড়া 

প্রতিটি ম্যাচ চলাকালীনই দর্শকরা যাতে খাবার ও পানীয় কিনতে পারে, সেজন্য স্টেডিয়ামের ভেতর স্টল বসে। তবে এসব স্টল ফ্র্যাঞ্চাইজিরা নিজেরা চালায় না। তারা কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে স্টল ভাড়া দেয় এবং তার বিনিময়ে তারা অর্থ পায়। সাধারণত তৃতীয় পক্ষের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তি ম্যাচের সংখ্যা হিসেবে হয়। নিজেদের মাঠে ম্যাচের সংখ্যা যত বাড়ে, এই খাতে আয়ের পরিমাণও তত বাড়তে থাকে। 

নিজস্ব ব্র্যান্ডের প্রচারণা 

আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিক কোনো সাধারণ ব্যবসায়ী না। তাদের প্রত্যেকের নিজের মালিকানাধীন অসংখ্য ছোট বড় প্রতিষ্ঠান আছে। নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে স্পন্সরদের বাণিজ্যিক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি নিজেদের কম জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডেরও প্রচারণা চালান মালিকেরা। 

উদাহরণ হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী আম্বানি পরিবারের কথা উল্লেখ করা যায়।

 আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
চিত্র: আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান; চিত্রসূত্র – স্টক এজ

আম্বানি পরিবারের কথা বললেই সবার মাথায় রিলায়েন্স গ্রুপের কথা আসবে। কিন্তু রিলায়েন্স ছাড়াও আম্বানি পরিবারের আরো অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো তুলনামূলক কম পরিচিত। 

আইপিএলের সুবাদে আম্বানি পরিবার মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যানারে নিজেদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি সরাসরি আর্থিকভাবে লাভবান না মনে হলেও, পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের সামগ্রিক আয় 

যদিও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি কখনোই নিজেদের আর্থিক খতিয়ান জনসমক্ষে প্রকাশ করে না, সেই সত্ত্বেও বিসিসিআই এর প্রতি বছরের চুক্তি এবং পয়েন্ট টেবিলে বিভিন্ন দলের অবস্থান দেখে তাদের আয়ের সম্পর্কে একটি ধারণা করা যায়। ২০১৮ সালের আসরের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সকল ফ্র্যাঞ্চাইজি কমপক্ষে ৭৫ কোটি রূপি উপার্জন করেছে। আর কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ১২৫ থেকে ১৫০ কোটি রূপি উপার্জন করেছে।

প্রছদ চিত্রসূত্র – Fran9

তথ্যসূত্র:

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on যে উপায়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকেরা লাভবান হয় (শেষ পর্ব)

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!