প্রচ্ছদ চিত্র

ব্যোমকেশ বক্সী: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সত্যান্বেষী

4.8
(4)
Bookmark

No account yet? Register

পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য বিখ্যাত সাহিত্যের মধ্যে বাংলা সাহিত্যেরও নিজস্ব গোয়েন্দা চরিত্র রয়েছে। যার মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ব্যোমকেশ বক্সী। কুয়াশার ঘেরাটোপ থেকে প্রকাশ্য দিনে দেখলে মনে হয় হয়তো রাতের পাহারায় ছিলেন, কিন্তু ইনি দিনের দেবতা। এমন একজন শ্রী ব্যোমকেশ বক্সী, একমেবাদ্বিতীয়ম ও ঘটনাক্রমে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সত্যান্বেষী আটপৌরে ভাষায় বঙ্গ সংস্কৃতির প্রধান গোয়েন্দা। কিন্তু কৌতূহল জাগে যে এতগুলো বছর জুড়ে বাঙালীর বিনোদনের মঞ্চে তিনি প্রায় অপরিহার্য ও পরিত্রাতা হয়ে উঠলেন কেন? বাংলা বইয়ের ব্যবসা যত পড়ন্তই হোক কলেজ স্ট্রীটে, জেলা শহরে ও মফস্বলে, এমনকি চলচ্চিত্র জগতে ব্যোমকেশই মুশকিল আসান। কিন্তু ব্যোমকেশ বক্সীর বিষয়বস্তু জানলেও অন্যন্য সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক দিক এবং রহস্যজট সকলের কাছেই অজানা।

ব্যোমকেশ বক্সীর পরিচয়

ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে অনির্বাণ ; চিত্রসূত্র: CT
ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে অনির্বাণ ; চিত্রসূত্র: CT

বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় সব চরিত্রগুলোর মধ্যে একটি হলো শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্র। এই ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় যে, কল্পনা থেকে উঠে এসে কখন যে সাহিত্য-প্রেমীদের মনে বাস্তবিকভাবে জায়গা করে নিয়েছে তা বলা মুশকিল। ব্যোমকেশ বক্সী তেইশ-চব্বিশ বছরের একজন যুবক। ধারালো নাক, লম্বা ও ফর্সা চেহারা। ব্যোমকেশের বাবা স্কুলে অঙ্কের শিক্ষক ছিলেন ও বাড়িতে অসংখ্য দর্শনের চর্চা করতেন এবং ব্যোমকেশের মা বৈষ্ণব বংশের মেয়ে ছিলেন। ব্যোমকেশের যখন সতেরো বছর বয়স, তখন প্রথমে তার পিতা ও পরে তার মাতা যক্ষ্মা রোগে মারা যান। পরে ব্যোমকেশ তার নিজের পরিশ্রমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেন।

ব্যোমকেশ বক্সী পেশায় একজন গোয়েন্দা। কিন্তু ব্যোমকেশ নিজেকে গোয়েন্দা বা ডিটেকটিভ হিসেবে পরিচয় দিতে নারাজ। ব্যোমকেশ নিজেকে একজন ‘সত্যান্বেষী’ হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি পছন্দ করেন। যার কাজ শুধুমাত্র সত্যের অন্বেষণ করা। ব্যোমকেশ বক্সীর আছে রহস্য সমাধানে অসামান্য দক্ষতা। ব্যোমকেশ বক্সী সকল রহস্যের জট সমাধান করে নিজের ধারালো বুদ্ধি আর অব্যর্থ অনুমান শক্তি দিয়ে। সমাজ যখন রহস্যের জালে ধীরে ধীরে আবৃত হতে শুরু করে তখন সত্যন্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী কখনও নিজে থেকেই লেগে যায় রহস্যের সমাধান করতে আবার কখনও বা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। আবার কখনও এমন হয়েছে ব্যোমকেশকে দেখেই রহস্য আপনা আপনিই তৈরি হয়েছে।

ব্যোমকেশ বক্সীর বাসস্থান ; চিত্রসূত্র: HT
ব্যোমকেশ বক্সীর বাসস্থান ; চিত্রসূত্র: HT

ব্যোমকেশ বক্সী অন্য সকল গোয়েন্দা চরিত্রগুলো থেকে একেবারে আলাদা, তেমনি ব্যোমকেশ বক্সীকে নিয়ে লেখা রচনাগুলোও একদম আলাদা। অন্য সকল গোয়েন্দা রচনাগুলোর মতো জীবনকে বাদ দিয়ে লেখা নয় এই ব্যোমকেশ বক্সী। জীবনকে জীবনের সকল জটিলতাকে সাথী করেই লেখা সত্যন্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী। ব্যোমকেশ বক্সী বেশিরভাগ গোয়েন্দাদের মতো অবিবাহিত নয়, তিনি বিবাহিত। সত্যবতীকে ভালোবেসে ব্যোমকেশ বক্সী তাকে বিয়ে করে। তাদের “খোকা” নামে একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।

আরও পড়ুন: শার্লক হোমস: এক বিশ্বখ্যাত কাল্পনিক গোয়েন্দার আখ্যান

সত্যবতী ও খোকা ছাড়াও ব্যোমকেশ বক্সীর আরেকজন আপনজন রয়েছে। সাহিত্যিক অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সীর সাথেই থাকে। ব্যোমকেশ ও অজিত দুজনে মিলেই জায়গা কিনে বাড়ি করেছে। অজিতকে ব্যোমকেশ বক্সীর বন্ধু, সহকারী কিংবা ভাই বললেও কম বলা হবে। বলা যায়, ব্যোমকেশ বক্সী আর অজিত দুইজন আলাদা মানুষ হলেও তাঁদের ছায়া এক। ব্যোমকেশ বক্সীর সকল কেসেই অজিতকে দেখা যায়। অজিতই ব্যোমকেশ বক্সীর সকল কেস নিয়ে উপন্যাস লেখে এবং গল্প করে। ব্যোমকেশ বক্সীর বাড়ি একটু উদ্ভুদ হলেও তার বাড়ির পরিচিতি ছিল অনেকটা বেশি, সত্যান্বেষী শব্দটি যে একমাত্র তারই নামের পাশে মানায় এটি প্রায় সকলেই জানতো।

গল্প ও উপন্যাসে ব্যোমকেশ বক্সী

জনপ্রিয় বই ব্যোমকেশ সমগ্র ; চিত্রসূত্র: লেখকের নিজস্ব সংগ্রহ
জনপ্রিয় বই ব্যোমকেশ সমগ্র ; চিত্রসূত্র: লেখকের নিজস্ব সংগ্রহ

রচনাকাল অনুসারে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প ‘পথের কাঁটা’ (৭ই আষাঢ়, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ) এবং দ্বিতীয় গল্প ‘সীমন্ত-হীরা’ (৩রা অগ্রহায়ণ, ১৩৩৯ বঙ্গাব্দ)। এই দুইটি গল্প লেখার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্র নিয়ে সিরিজ লেখার কথা চিন্তা করে ১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ২৪শে মাঘ সত্যান্বেষী গল্প রচনা শেষ করে ব্যোমকেশ চরিত্রকে পাঠকের সামনে উপস্থিত করেন। সেই কারণে ‘সত্যান্বেষী’ গল্পটিকে ব্যোমকেশ সিরিজের প্রথম গল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। ১৩৩৯ থেকে ১৩৪৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত দশটি গল্প লেখার পর পাঠকদের ভালো লাগবে না ভেবে পনেরো বছর ব্যোমকেশকে নিয়ে আর কোন গল্প লেখেননি। এরপর কলকাতার পরিমল গোস্বামীর বাড়ির ছেলেমেয়েদের অনুরোধে ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ৮ই পৌষ ‘চিত্রচোর’ গল্পটি লেখেন। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যোমকেশ চরিত্র নিয়ে তেত্রিশটি কাহিনী রচনা করেছেন। এর মাঝে ‘বিশুপাল বধ’ গল্পটি তিনি সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি।

সময়ের মুখে কিছু ব্রণের দাগ থাকে। এমন নয় যে নিসর্গ, নারী বা ইতিহাসের দিকে তাকাতে গেলে আমাদের বস্তুর হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করতেই হবে। এই ধারণাটাও একদিক থেকে যেন কুসংস্কার। বাস্তবতা এত রহস্যে মোড়া যে অনেক সময় মনে হয় সে পেঁয়াজের খোসা। তাকে যতই পরতে পরতে খুলে দেওয়া যাক, কেন্দ্র আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই মুখের দিকে তাকানো, এই তাকানো বস্তুত আধুনিকদের ক্ষেত্রে একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হয়ে রয়েছে কম-বেশি দেড়শো বছর ধরে। প্রত্যেক সভ্যতার গায়ে ফুটে ওঠে নানা চিহ্ন যা দিয়ে আমরা সেই সভ্যতার আধ্যাত্মিক মাপজোক করতে পারি।

জার্মান দার্শনিক জিগফ্রিড ক্রাকাওয়ের এই ধরনের অবলোকনকে “ফেনোমেনোলজি অব দ্য সারফেস” হিসেবে অখ্যায়িত করেছেন। আর তার অবিস্মরণীয় বন্ধু ও সহকর্মী ওয়াল্টার বেঞ্জামিন সভ্যতার পরিত্যক্ত জঞ্জাল সমূহের মধ্যে দিয়ে একধরনের ইতিহাস রচনার প্রকল্প নির্মাণ করেন। আমরা সেই ঘুঁটে-কুড়ুনিদের উপনিষদে একটু ঢুকতে পারি। আর তাহলে আমাদের খেয়াল করতে হবে এমন কিছু সাংস্কৃতিক রোডম্যাপ যেখানে উত্তর কলকাতার মেসবাড়ি, ট্রামলাইন, গোপন চাউনি ও অপরাধ, গোয়েন্দা ও বেকার, তাসের আড্ডা, বৈঠকখানার তালিকা তৈরি করি তবে দেখব যে আমরা এক স্বর্গীয় তদন্তে নিযুক্ত রয়েছি যার ফাঁকফোকর থেকে বেরিয়ে আসছে সমকালীন জীবনের নিষিদ্ধ দ্যুতি।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ব্যোমকেশ বক্সী

ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে যীশু ; চিত্রসূত্র: TOI
ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে যীশু ; চিত্রসূত্র: TOI

সেই বিখ্যাত ট্রামলাইন ১৯৩০-১৯৩৮ এই আটবছর। লম্বাটে ঘর, পুরোনো দরজা খুলে দিলেই মহাত্মা গান্ধী রোডের সেই বিখ্যাত ট্রামলাইন নজরে আসে, চোখে পড়ে চলমান জনতার অশেষ যাতায়াত। এখান থেকেই তিনি লিখেছিলেন সাতটি তারার তিমির সেসব বিখ্যাত চরণ বিকেলের বারান্দা থেকে সব জীর্ণ নর/নারী, চেয়ে আছে পড়ন্ত রোদের পাড়ে সূর্যের দিকে খণ্ডহীন মণ্ডলের মতো বেলোয়ারি ইত্যাদি। দূর থেকে, বারান্দার থেকে, দেখার একটি নিরাসক্ত, গোয়েন্দাপ্রতিম চলন না থাকলে রাত্রি বা এই কাব্যগ্রন্থের পাতায় যেমন দৃষ্টির কোলাজ তা গড়ে তোলা যায় না।

প্রকৃত প্রস্তাবে, এডগার অ্যালান পোর ভিড়ের মানুষই বোদলেয়ারকে প্ররোচনা দেয় ডিটেকটিভের খুব গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে থাকা কবির ছবি আঁকতে। কবি গোয়েন্দার মতো নিজেকেই যদি অদৃশ্য না করতে পারেন তবে অন্যকে দৃশ্য ভাবতে পারবেন না। জীবনানন্দের নগরীর মহৎ রাত্রিতে যেরকম সন্দেহভাজনদের আনাগোনা ভিখিরি, লোল নিগ্রো, ল্যাম্পপোস্ট, চুরুট ইত্যাদি গোয়েন্দা কাহিনীর প্রায় কাছাকাছি। প্যারিসে মধ্য-উনিশ শতকে যা ঘটেছিল তা চল্লিশ দশকের শুরু থেকেই কলকাতায় অপরাধের চরিত্র পালটাতে থাকে। জীবনানন্দ নরকের সরাই ঠিকই চিনতেন, কিন্তু রহস্যোপন্যাস লেখেননি।

বিখ্যাত মহাত্মা গান্ধী রোড ; চিত্রসূত্র: WM
বিখ্যাত মহাত্মা গান্ধী রোড ; চিত্রসূত্র: WM

কিন্তু শরদিন্দু তুলনায় পার্থিব সভ্যতার জীব বলেই তাঁর দায় ছিল আপাত বিশৃঙ্খলার একটি যুক্তি নির্মাণ। হয়তো পরিবেশ তাঁকে সুযোগও দিয়েছিল। তিনি প্রবাসী বাঙালী ফলে কলকাতাকে নিরুত্তাপ ভাবে দেখার শিক্ষা তাঁর রক্তে ছিল। একটি আধুনিক পুঁজিবাদী শহর কীভাবে নতুন নতুন অপরাধের জন্ম দেয় আর অপরাধ মাত্রই যে পাপ নয় এসব কথা বলার জন্য শরদিন্দু ব্যোমকেশের বয়ানই বেছে নেন। ব্যোমকেশ বক্সী যুক্তির ধারটুকু পেয়েছেন তার মফস্বল নিবাসী গনিত শিক্ষক বাবার থেকে। স্বভাবে ক্ষমার গুণটুকু পেয়েছেন মা বৈষ্ণব বংশের মেয়ে বলে। আর এটুকু বলা যায়, শরদিন্দু একধরনের হিন্দু রাজনীতির সমর্থক বলেই বঙ্গশাসনে সুরাবর্দির ভূমিকা তাঁকে সংশয়ান্বিত করে তুলেছিল।

আরও পড়ুন: কাকাবাবু সমগ্র ১: কিশোর সন্তুর চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখার গল্প

অগত্যা একটি আদর্শ যুক্তির প্রকল্প গড়ে তুলতে শরদিন্দু হ্যারিসন রোডের সন্নিকটে তাঁর তথাকথিত প্রথম গল্প সত্যান্বেষীতে একটি অলীক কলকাতার জন্ম দেন। যারা কলকাতা শহরের ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তাদের মধ্যেও অনেকে হয়তো জানেন না যে এই শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি পল্লী রয়েছে, যার এক দিকে দুঃস্থ ভাটিয়া-মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের বাস, অন্য দিকে খোলার বস্তি এবং তৃতীয় দিকে তীর্যক্‌চক্ষু পীতবর্ণ চীনাদের উপনিবেশ। এই ত্রিবেণী সঙ্গমের মধ্যস্থলে যে ব্যোমকেশ সৃষ্টি হয়েছে, দিনের কর্ম-কোলাহলে তাকে দেখে একবারও মনে হয় না যে, তার কোনো অসাধারণত্ব বা অস্বাভাবিক বিশিষ্টতা রয়েছে। কলকাতা শহর যে বদলে যাচ্ছে তা শরদিন্দু অনুভব করেন কিন্তু জীবনানন্দের থেকে ভিন্ন ভাবে।

ব্যোমকেশ বক্সীর স্রষ্টা

ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে রাজিত কাপুর ; চিত্রসূত্র: TOI
ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রে রাজিত কাপুর ; চিত্রসূত্র: TOI

ব্যোমকেশের চরিত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য শরদিন্দুকে সত্যান্বেষী গল্পের অপরিচয়ের দায় নিতে হয়েছে। কেননা ব্যোমকেশের স্রষ্টা নানাভাবে বোঝানোর দায় নেন যে গোয়েন্দা গল্প জীবনযাপনের এক ধরনের অনুবাদ। শরদিন্দুর গোয়েন্দা শেষপর্যন্ত ইউরোপীয় যুক্তিবাদের প্রতিনিধি। ব্যোমকেশ বক্সী একটি উন্মোচনকারী চরিত্র যে নিম্নবর্গীয় বাসনা ও উচ্চবর্গীয় জীবনচর্যায় সেতুবন্ধ বিশেষ। ব্যোমকেশ পেশাগত গোয়েন্দা এবং শরদিন্দুর যুক্তি অনুযায়ী ঈশ্বরের অনুপস্থিতিতে এই পাপগ্রস্ত নগরীতে পরিচালনার সূত্র। তিনিই একমাত্র অন্যের কাছে যা গোপন, তা প্রকাশ্যে টেনে আনেন। অধঃপতনের সীমাহীন রেখাচিত্রে গোয়েন্দা যুক্তিপরায়ণতার অন্তিম প্রতিনিধি। সুতরাং প্রায় নিয়তিনির্দিষ্ট ভাবে তিনিই বিশ্বাস করতে বাধ্য যে বিশ্ব-প্রকৃতি যুক্তির দ্বারা শাসিত ও যুক্তিই অপরাধ থেকে পরিত্রাণের উপায়স্বরূপ। সভ্যতার প্রতি এক গভীর আস্তিক্যবোধ থেকেই শরদিন্দুর ব্যোমকেশ বক্সী বিধাতার দূত, কারণ সে সব রহস্যের অন্ত দেখতে পায়।

বস্তুত, বিশ্বরূপদর্শন তার ভাগ্যে থাকে না কেননা পেশার শর্ত হিসেবে অপরাধের আদিটুকু তাকে জানানো হয় না, মধ্যভাগে সে অবতীর্ণ হয়, শুধু অন্তিমে যথাযথ নিষ্পত্তি করবে বলেই। সে জন্যই সে সত্যান্বেষী আর পুলিশ রাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেই নেহাত আইনের রচনা, অর্থশূন্য। পুলিশের কর্তব্য শুধু নবজাত সামাজিক পরিসরে শিষ্টতা বজায় রাখা। ব্যোমকেশ বক্সী গোয়েন্দা হিসেবে এমন মান্য পরিধিতে বিচরণ করতে চায় না। একটু তলিয়ে দেখলেই দেখা যাবে মানুষ হিসেবে ব্যোমকেশ ততটা অমানবিক নন, যতটা মানবিকতা রয়েছে তার মধ্যে। শরদিন্দু একটি আইন-অতিরিক্ত পরিসরে ওকালতি চালিয়ে যান, অপরাধ-মৃগয়া মোটেও ব্যোমকেশের মূল কাজ নয় বরং ব্যোমকেশ বক্সী পতনের নন্দনতত্ত্বকে যুক্তিসমর্থিত ভাবে ব্যবহার করে। তিনি সমাজদিশারী কিন্তু কোনক্রমেই চূড়ান্ত দণ্ডাদেশ দেওয়া তার কাজ নয়। গোয়েন্দা হিসেবে তিনি বাস্তবিক পৃথিবীর দেবদূত এবং বিধিবহির্ভূত।

প্রচ্ছদ চিত্রসূত্র: Facebook

তথ্যসূত্র:

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on ব্যোমকেশ বক্সী: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় সত্যান্বেষী

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!