ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার: হৃত সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে হুমায়ুন

মো. রেদোয়ান হোসেন
5
(7)
Bookmark

No account yet? Register

  • গ্রন্থের নাম: অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল: ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার
  • ভাষা: ইংরেজি
  • লেখক: অ্যালেক্স রাদারফোর্ড
  • মূল আলোকপাতকৃত চরিত্র: মুঘল সম্রাট হুমায়ুন
  • অনুবাদের ভাষা: বাংলা
  • অনুবাদক: সাদেকুল আহসান কল্লোল

প্রেক্ষাপট 

ভারতবর্ষের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজবংশ হলো মুঘল রাজবংশ। এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম মুঘল সম্রাট মির্জা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। তৈমুরীয় প্রথার অনুসরণ করে তিনি তাঁর সাম্রাজ্য চার পুত্রের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু সৎ ভাইদের চক্রান্ত, নিজের অতি-আত্মবিশ্বাস, উদাসীনতা, হিন্দুস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজ্যভিত্তিক রাজনীতির কারণে বাবরপুত্র হুমায়ুন এই সিংহাসন হারান। ভাইদের সাথে তাঁর সম্পর্কের এতটাই অবনতি হয় যে, তাঁর সৎভাই কামরান মির্জা হুমায়ুনের একমাত্র পুত্র আকবরকে অপহরণ করেন। এই সমস্ত তথ্যই ফুটে উঠেছে হুমায়ুনের সৎবোন গুলবদন বেগমের লিখিত হুমায়ুননামা গ্রন্থে। এই গ্রন্থে গুলবদন লিখেছিলেন,

অসামান্যতে লিখুন

ভ্রাতৃসম আবেগ বিসর্জন দাও, যদি তুমি সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ কর … কেউ কারো ভাই নয়। ওরা সবাই তোমার সাম্রাজ্যের শত্রু।

এই একটিমাত্র কথাই প্রমাণ করে, ভাইদের সাথে হুমায়ুনের সম্পর্ক কেমন ছিল!  

লেখনীর প্রকৃতি 

বৃহৎ পরিসরে এই রচনাকে উপন্যাস হিসেবে অভিহিত করা যায়। সূক্ষ্মভাবে বিবেচনা করলে এটি আসলে এক ধরনের প্রামাণ্য-কথাচিত্র (ডকু-ফিকশন)। এই ধরনের রচনায় লেখক ইতিহাসকে আশ্রয় করে লিখলেও কাহিনির প্রয়োজনে তিনি মূল কাহিনির সমান্তরালে বেশ কিছু কাল্পনিক ঘটনার আশ্রয় নেন। এই ক্ষেত্রে লেখকের সফলতা তখনই, যখন তাঁর এই কাল্পনিক ঘটনা মূল ঘটনার সাথে সমন্বিত হয়ে যায়। আলোচ্য রচনাও এমন একটি ডকু-ফিকশন। 

লেখকের পরিচিতি 

অ্যালেক্স রাদারফোর্ড আসলে কোনো একজন মানুষের নাম না। ডায়ানা প্রিস্টোন এবং তাঁর স্বামী মাইকেল প্রিস্টোন একত্রে এই ছদ্মনামে লিখেন। তাঁরা উভয়েই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা সমাপ্ত করেছেন। ডায়ানা প্রিস্টোনের মেজর ছিল ইতিহাস এবং মাইকেল প্রিস্টোনের মেজর ছিল ইংরেজি ভাষা।

এই দম্পতি প্রচণ্ড ভ্রমণপিপাসু। বিশ্বের নানা প্রান্তে তাঁরা ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন তাজমহল পরিদর্শন করে। তাজমহলের প্রেমে পড়ে যান তাঁরা। ইতিহাসের পাতায় পাতায় খুঁজতে শুরু করেন তাজমহলকে। খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে আসে সেই মহান রাজবংশ, মুঘল সাম্রাজ্যের কথা। দুজনে মিলে শুরু করেন গবেষণা। তারই ফসল হলো মুঘল রাজবংশ বিষয়ে তাঁদের দুইজনের সম্মিলিত লেখা অ্যাম্পেয়ার অব দ্য মোগল সিরিজের ছয়টি বই। 

কেন তাঁরা অ্যালেক্স রাদারফোর্ড নামকেই বাছাই করলেন? এই প্রশ্নের জবাবে তাঁদের উত্তর ছিল, 

রাদারফোর্ড নাম দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল নোবেলপ্রাপ্ত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী রাদারফোর্ডকে শ্রদ্ধা জানানো। আর অ্যালেক্স নামের উদ্দেশ্য ছিল এমন কোনো নাম খুঁজে বের করা যা পুরুষ বা মহিলা যে কারোরই নাম হতে পারে।

ডায়ানা প্রিস্টোন এবং তাঁর স্বামী মাইকেল প্রিস্টোন,
চিত্র : ডায়ানা প্রিস্টোন এবং তাঁর স্বামী মাইকেল প্রিস্টোন, চিত্রসূত্র – srutis.blogpost

স্থান এবং কাল 

ঘটনার সূচনা ১৫৩১ সালের একদম শুরুর দিকে হিন্দুস্তানের স্যাঁতস্যাঁতে মৌসুমি আবহাওয়াতে। মুঘল সেনাধিনায়ক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তখন চেষ্টা করে যাচ্ছেন নতুন এই ভূমিতে মানিয়ে নিতে। আগ্রাতে তখন মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। বৈমাত্রেয় ভাইদের চক্রান্তে একের পর এক অধিকৃত অঞ্চলের কতৃত্ব হারাতে থাকেন হুমায়ূন। ১৫৪০ সালে শের শাহের হাতে নিজের সাম্রাজ্য হারান তিনি। তারপরে ঘুরতে থাকেন নানা জায়গায় সামরিক সহায়তার আশায়। সাহায্যের আশায় তিনি পারস্যের সাফাভি বংশের শাহ তামাস্পের দ্বারস্থ হন। 

 শাহ তামাম্প ছিলেন পারস্য সম্রাট
চিত্র: শাহ তামাস্প; চিত্রসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স 

পারস্য সম্রাটের সামরিক সহায়তায় কান্দাহারে বিরাট বিজয় লাভ করেন। এই ধারাবাহিকতায় ১৫৫২ সালের ২২ জুন, সেনাপতি বৈরাম খানের অধিনায়কত্বে এবং শাহ তামাম্পের সামরিক সহায়তায় সিরহিন্দের যুদ্ধে সিকান্দর শাহকে পরাজিত করে হুমায়ুন ভারতবর্ষে মুঘল রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। 

শিরহিন্দের যুদ্ধ মুঘল সাম্রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
চিত্র: সিরহিন্দের যুদ্ধ; চিত্রসূত্র – Gazabhai

 এই ঘটনার এক বছর পরে, ১৫৫৬ সালে হুমায়ুন দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেন। 

হুমায়ুনের সমাধি দিল্লিতে অবস্থিত। ;
চিত্র: হুমায়ুনের সমাধির বহির্ভাগ; চিত্রসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স 

আরো পড়ুন: রাইডার্স ফ্রম দ্য নর্থ: অনুসন্ধিৎসুর চোখে বাবর

চরিত্র বিশ্লেষণ 

নিঃসন্দেহে হুমায়ুন এই গ্রন্থের মুখ্য চরিত্র। পিতা বাবরের মৃত্যুর পরে তার সিংহাসনের আংশিক উত্তরাধিকারী হন তিনি। কিন্তু সময় সবসময় তার পক্ষে ছিল না। তাই, পদে পদে হোঁচট খেতে হয়েছে তাকে। নিজের খামখেয়ালি এবং উদাসীন স্বভাবের কারণে তার পিতার অর্জিত পুরো সাম্রাজ্য এবং সম্মান তিনি নিজ পায়ে ঠেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তীব্র ইচ্ছাশক্তি এবং আঞ্চলিক রাজনীতির সহায়তা নিয়ে পিতার পূর্ণ সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। 

মুঘল সম্রাট হুমায়ুন নিজের তীব্র ইচ্ছাশক্তি দিয়ে হিন্দুস্তান পুনরুদ্ধার করেন।
চিত্র: মুঘল সম্রাট হুমায়ুন; চিত্রসূত্র – পিন্টারেস্ট 

মির্জা কামরান এবং মির্জা আসকারি, হুমায়ুনের বিমাতা গুলরুখের দুই পুত্র। হুমায়ুনের সাথে কামরানের বয়সের ব্যবধান ছিল খুবই অল্প। তাই, হুমায়ুনের সাথে সকল বিষয় নিয়েই তার প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব ছিল; যা পরবর্তীতে ঈর্ষায় রূপ নেয়। আর মির্জা আসকারি ছিলেন ভাইয়ের ন্যাওটা। তাই, প্রায় সকল সময়েই মির্জা আসকারি তার ভাইয়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে ছিলেন। রাজধানী এবং হুমায়ুন, উভয় থেকেই দূরে থাকার কারণে দুই ভাই নিজেদের মত পরিকল্পনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। শের শাহ যখন মুঘল সাম্রাজ্যকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন, তখন সাময়িকভাবে এই দুই ভাই হুমায়ুনের সাথী হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সুযোগের অপব্যবহার করে এই দুই ভাই মিলে আকবরকে অপহরণ করেন। সবশেষে হুমায়ুন যখন সাফাভি সামরিক সহায়তা নিয়ে পুনর্বার ঝাঁপিয়ে পড়েন হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের কাজে, তখন মির্জা কামরান ধরা পড়েন হুমায়ুনের হাতে এবং পরে ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত হন। অন্যদিকে এক সামরিক অভিযানে মির্জা আসকারি নিহত হন। 

হুমায়ুন এবং কামরানের মধ্যকার যুদ্ধ
চিত্র: হুমায়ুন এবং কামরানের মধ্যকার যুদ্ধ; চিত্রসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স 

বাবরের কনিষ্ঠ পুত্র, মির্জা হিন্দাল; এই রচনার সর্বাধিক বহুমাত্রিক চরিত্র। বাবরের তৃতীয় স্ত্রী দিলদারের এই পুত্র ছোটবেলা থেকেই প্রতিপালিত হয়েছিলেন হুমায়ুনের মা মাহামের কাছে। তাই হুমায়ুনের প্রতি তার একটা প্রচ্ছন্ন মায়ার বাঁধন ছিল। আবার, মির্জা আসকারি ছিলেন তার সমবয়সী। তাই, মানসিকভাবে মির্জা আসকারি এবং মির্জা কামরানের নিকটবর্তী ছিলেন তিনি। এই দুই টানাপোড়নের মাঝেই তার পিতার মৃত্যুর পরের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে। আবার, মির্জা হিন্দাল পূর্ব থেকেই হামিদা বেগমকে পছন্দ করতেন, যাকে হুমায়ুন ঘটনাক্রমে বিবাহ করেন এই খবর না জেনেই। পরবর্তীতে আকবর অপহৃত হলে মির্জা হিন্দাল তাকে মির্জা কামরানের থেকে পালিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গুপ্ত ঘাতকের হাতে নিহত হন। আর এভাবেই, মির্জা হিন্দাল এই রচনার সর্বাধিক ব্যতিক্রমী চরিত্র।

খানজাদা, বাবরের আপন বোন; এই রচনার আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ভাইয়ের প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়ে তৈরি করা সাম্রাজ্য যখন ভ্রাতুষ্পুত্রের উদাসীনতার কারণে তিলে তিলে ক্ষয়ে যাচ্ছিল, তিনি সর্বস্ব দিয়ে তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করে গিয়েছেন। বাবরের মত, হুমায়ুনের জীবনেও খানজাদার প্রভাব ছিল অপরিসীম। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হুমায়ুনকে প্রতি পদক্ষেপে সদুপদেশ দিয়ে সাহায্য করেছেন। 

রচনার প্রধান নেতিবাচক চরিত্র ছিলেন শের শাহ। একজন নামমাত্র গ্রামপতি থেকে বাংলার সুবেদার, আর সেখান থেকে দিল্লির সালতানাত; যাত্রাপথ সবসময় মসৃণ ছিল না। কিন্তু বুদ্ধি, কর্মদক্ষতা আর পরিমিত আত্মবিশ্বাসের জোরে সেই পথকে তিনি নিজের করে নিয়েছিলেন। যদিও খুব বেশিদিন রাজত্ব তিনি করতে পারেননি, কিন্তু যেভাবে তিনি মুঘলদের যুদ্ধকৌশলে পরাস্ত করেছিলেন এবং নিজের প্রশাসনিক কার্যক্রম বিন্যস্ত করেছিলেন, তা সকল শাসকের কাছেই অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। 

শের শাহ ছিলেন হুমায়ুন এবং মুঘল সাম্রাজ্য উভয়ের মূল প্রতিপক্ষ।
চিত্র: শের শাহ সুরি; চিত্রসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স 

মুঘল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার অভিযানে হুমায়ুনের সেনাদলের দায়িত্ব ছিল বৈরাম খানের কাঁধে ন্যস্ত। মুঘল এবং পারস্যের অধিবাসীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা এই সেনাদলকে পরিচালনা করা এতটাও সহজ ছিল না। কিন্তু এই গুরুদায়িত্ব তিনি সফলতার সাথেই পালন করেছেন।   

কোহিনুর, এই উপন্যাসের একমাত্র জড় চরিত্র। এই হীরক খণ্ড হুমায়ুনের প্রতি শাহ তামাস্পের সামরিক এবং রাজনৈতিক সহায়তার মূল্য ছিল। শাহ তামাস্পের সামনে যাতে তিনি একজন ভিখারী হিসেবে প্রতিপন্ন না হন, তার জন্য তাদের এই রাজনৈতিক মৈত্রীকে উদযাপন করতে এই অমূল্য হীরক খণ্ড তাকে উপহার দেন। 

ঘটনাপ্রবাহ

বাবরের মৃত্যুর পরে খামখেয়ালি এবং উদাসীনতার কারণে হুমায়ুন ঠিকভাবে নিজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেননি। পাশাপাশি বৈমাত্রেয় ভাইদের প্রতিহিংসার শিকার ও হন তিনি। তাই শের শাহের হাতে তিলে তিলে নিজের সাম্রাজ্য হারাতে থাকেন তিনি। যুদ্ধবন্দির মত আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরতে থাকেন ভারতবর্ষের এক কোণ থেকে আরেক কোণে। এরই মাঝে এক পারস্য জাতীয়তার মুঘল কর্মকর্তার কন্যার সাথে তার বিবাহ হয়। 

হুমায়ুন এর স্ত্রী হামিদা বেগম।
চিত্র: হামিদা বেগম; চিত্রসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স 

কিন্তু তার ভাই কামরান মির্জা শঠতা করে এই দম্পতির পুত্র সন্তানকে অপহরণ করে। পারস্যের সম্রাট শাহ তামাস্প হুমায়ুনকে সামরিক সহায়তা দিতে রাজি হন। এই সামরিক সহায়তার উপর ভর করেই তিনি পুনরায় হিন্দুস্তানে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 

হেরে যাওয়া মানেই যে শেষ নয় এই প্রতিশ্রুতির গল্প এটি, নিজের পিতৃপুরুষের কীর্তিকে আরো মহিমান্বিত করার গল্প। একই মোড়কে ভ্রাতৃত্বের দুই ভিন্নরূপ পর্যবেক্ষণের গল্প এটি। এখানে পাঠক দেখবেন কীভাবে মানুষের কর্মস্পৃহা তার ভাগ্যের বলিরেখাকে পর্যন্ত পরিবর্তন করে দিতে পারে। ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যপ্রান্তে মধ্য এশিয়া থেকে আসা একদল অভিবাসী কর্তৃক ভারতবর্ষের সাথে নিজেদের একীভূত করে নেওয়ার প্রাণান্তকর এই চেষ্টায় পাঠককে জানাই স্বাগত।

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার: হৃত সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে হুমায়ুন

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!