নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার ৭টি সেরা উপায়

4.7
(12)
Bookmark

No account yet? Register

আপনি কে তাতে কিছু আসে যায় না, আপনি কী করেন তাতেও কিছু আসে যায় না, আপনি কোত্থেকে এসেছেন তাতেও কিছু আসে যায় না; আপনি সর্বদা পরিবর্তিত হতে পারেন, হতে পারেন নিজের সেরা সংস্করণ।

ম্যাডোনা

আপনি কি জানেন কীভাবে নিজের সেরা সংস্করণ হতে হয়?

অসামান্যতে লিখুন

১৮৮৫ সালে একজন ঋষি ১০০০ দিন দৌড়ানোর একটি ম্যারাথনে বেরিয়ে ছিলেন। আরও স্পষ্ট করে বললে, ওই ঋষি এবং তার সঙ্গী ঋষিরা ১০০ দিন ধরে প্রতিদিন ৪০ কিলোমিটার করে দৌড়েছিলেন। 

আরে হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন। প্রতিদিন ৪০ কিলোমিটার করে ১০০ দিন! এখানে কোনও টাইপিং মিসটেক হয় নি। 

এভাবে তারা ৫ বছর দৌড়েছিলেন। তাদেরকে বলা হয় ম্যারাথন মঙ্ক। আর এই ঋষিরা অসম্ভব কাজই করে থাকে। মারাথন মঙ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় জন স্টিভেনের দ্য ম্যারাথন মঙ্ক অফ মাউন্ট হেইবইটি থেকে। 

একজন মঙ্ক ম্যারাথনের জন্য তৈরি হচ্ছেন
একজন মঙ্ক ম্যারাথনের জন্য তৈরি হচ্ছেন। চিত্রসুত্র : Wikimedia 
  • প্রথম ৫ বছর তারা প্রতিদিন ৪০ কিলোমিটার করে ১০০ দিন দৌড়ায়।
  • ৬ষ্ঠ বছরে গিয়ে তারা ৬০ কিলোমিটার করে ১০০ দিন দৌড়ায়।
  • ৭ম বছরে তারা ৮৪ কিলোমিটার করে ১০০ দিন দৌড়ায়। এবং তারপর আরও ১০০ দিন তারা ৪০ কিলোমিটার করে দৌড়ায়।

ওহ, দুঃখিত! বলতে ভুলে গেছি, ১০০০ দিনের ৫ম বছরে তাদেরকে সাড়ে সাত দিন কোনও খাবার, পানি এবং বিশ্রাম ছাড়াই দৌড়াতে হয়েছিল।

১৮৮৫ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪৬ জন ঋষি এই ম্যারাথন সম্পন্ন করেন। এই ঋষিরা অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহস দেখিয়েছিলেন। কেননা, তারা জানতেন কীভাবে তাদের সেরা সংস্করণ হতে হয়। তারা নিজেদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়ার জন্য নিজেকে ঠেলার সাহস রাখেন। তারা নিজেদের সেরা হওয়ার কৌশল জানেন।

আপনিও কি চান নিজের সেরা সংস্করণ হতে?  

উত্তরে নিশ্চয়ই, হ্যাঁ বলেছেন। কিন্তু আপনি যদি জোর গলায় বলে না থাকেন তবে আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। আর আপনার আত্মবিশ্বাসকে চাঙ্গা করতে এই নিবন্ধে থাকছে নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার ৭টি সেরা উপায়।

#১ : নিজের লক্ষ্য জানুন
#২ : ব্যর্থতার ভয়কে জয় করুন
#৩ : নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন
#৪ : চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন 
#৫ : কিছুটা ভাগ্য
#৬ : বাকিটা প্রত্যাশা 
#৭ : প্রতিযোগিতার চিত্র পাল্টে নিন 

তবে আর দেরি কিসের? চলুন জানি, ধাপে ধাপে শিখি সেরা সংস্করণ হওয়ার ৭টি উপায় কী কী।

#১ : নিজের লক্ষ্য জানুন

“বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
কুঁড়ে ঘরে থাকি কর শিল্পের বড়াই?”

রজনীকান্ত সেন

কখনও বাবুই পাখির বাসা দেখেছেন? এতটাই সুন্দর যে ওদেরকে শিল্পী বললে ভুল হবে না। কিন্তু তারা এত সুন্দর বাসা কীভাবে বানায়? তারা কাঁচা ঘাসের ডগা কেটে এনে এনে বাসা বুনতে থাকে। একসময় এমন সুন্দর রূপ পায়। 

কখনও অন্যকোনও রূপ কেন হয় না? কারণ তারা জানে তাদের লক্ষ্য কী? তারা জানে তাদেরকে ঠিক কী বানাতে হবে।

নিশানায় তীর লাগানো
লক্ষ্য নির্ধারন । চিত্রসুত্র : Pixabay 

কোনও কিছুতে সেরা হতে চান? আগে জানুন আপনার লক্ষ্য কী। লক্ষ্য সবসময় ক্ষমতা বা খ্যাতির কিছু হতে হবে, এমন না। 

আপনি হতে পারেন সেরা বাবা বা মা,
আপনি হতে পারেন সেরা বন্ধু,
আপনি হতে পারেন সেরা কর্মী বা সেরা বস,
আপনি হতে পারেন স্কুলের সেরা শিক্ষক,
কিংবা ক্লাসের সেরা ছাত্র ।

কেবল একজন ডাক্তার হয়েই সন্তুষ্ট হবেন না,
নিজের সেরাটা হোন।
নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে উঠুন। 

দিনের পর দিন আপনি যাই করবেন, একদিন আপনি সেটাতেই সেরা হয়ে উঠবেন। আপনি যদি নিজের পছন্দের কাজটি খুঁজে না নেন, তবে আমার ভয় হচ্ছে আপনি না সেটাতেই সেরা হয়ে উঠেন যা আপনি ঘৃণা করেন।  

#২ : ব্যর্থতার ভয়কে জয় করুন

লক্ষ্য খুঁজে নেয়ার জন্য আপনাকে স্বাগত জানাই। এখন নিশ্চয়ই আপনার মনে হচ্ছে আমাকে দিয়ে এসব হবে না। আমি পারব না। ব্যর্থ হওয়ার ভয় কাজ করছে আপনার মধ্যে, তাই না?

খুব ভালো, আপনাকে আরও একবার স্বাগত জানাই। ভয় না থাকলে সে জয়ের যেমন কোনও আনন্দ নেই, তেমনি এই ভয়ই আমাদেরকে লক্ষ্যের দিকে মনযোগী আর অনুপ্রাণিত রাখে। 

ভীত একাকী একটি বালক
ভয়। চিত্রসুত্র : Pexels 

এলিট মাইন্ডস’ বইয়ে লেখক ডঃ স্টান বিক্যাম বলেছেন, “আমাদের এমন স্বপ্ন দেখা উচিত যেখানে ৬০% সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পুরো ১০০% নয়।” 

তাহলে বাকি ৪০%? এই বাকি ৪০% আপনাকে মনে করিয়ে দিবে যদি ব্যর্থ হই, তবে এতদিন যা কিছু করলাম সেগুলো কী কিছুই নয়? এই ভয়টাই আপনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

যে লক্ষ্য বা স্বপ্ন জয়ে কোনও ভয়ের চিহ্ন নেই, সে লক্ষ্য আসলে কোনও লক্ষ্যই নয়। নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য এমনই লক্ষ্য বেছে নিন যেখানে আপনার জন্য ভয়ের চিহ্ন থাকবে, যেই ভয় আপনাকে লক্ষ্যের দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে।

#৩ : নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন

দাবাবোর্ড ও কুইন
মন নিয়ন্ত্রণ । চিত্রসুত্র : Pexels 

হাতি এবং দড়ির গল্পটি শুনেছেন?

একবার একজন লোক কিছু হাতির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ সে দাঁড়িয়ে পড়লো।

সে দেখলো যে হাতি গুলো দড়ি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা রয়েছে। কিন্তু ওই দৈত্যাকার প্রাণিগুলো খুব সাধারণ মানের ছোট একটি দঁড়ি দিয়ে বাঁধা। সে তখন হাতির মালিককে জিজ্ঞাসা করলো কেন হাতিগুলোকে এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। 

হাতির মালিক বলল, “যখন এই হাতিগুলো ছোট ছিল তখন এদেরকে ছোট একটি দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। এবং তখন তাদেরকে ধরে রাখার জন্য অমন একটি দঁড়িই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু যখন তারা বড় হয়ে উঠলো, তারা এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গেলো যে তারা এই সামান্য দঁড়িটাও ছিড়তে পারবে না। তাই তারা কখনও চেষ্টাও করে না।” 

হাতির গল্প থেকে আমরা এটাই শিখতে পারি যে আপনি যদি আপনার অবস্থান যেভাবে আছে সেভাবেই মেনে নেন, তাহলে আপনি হচ্ছেন ওই গাছের সাথে বেঁধে রাখা হাতির মতোই।

ছোট থেকে বড় হতে হতে আমরা যেসব বিশ্বাসের সাথে বেড়ে উঠতে থাকি সেগুলো সম্পর্কে জানা নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য খুব বড় সুযোগ তৈরি করে দেবে।

#৪ : চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন 

সফল ব্যক্তিরা বড় বড় চিন্তা করে থাকে।

আরও নির্দিষ্ট করে বললে, যারাই সফলতার খুব উঁচু স্তরে পৌঁছেছে তারা তাদের মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ ব্যবহার করে থাকে। থিংকিং ফাস্ট এন্ড স্লো বইয়ের লেখক প্রফেসর ড্যানিয়েল কাহনেম্যান যাকে বলেন, “সিস্টেম টু (২)”।

মস্তিষ্ক
মস্তিষ্ক । চিত্রসুত্র : Pexels 

এই সিস্টেম টু হচ্ছে ‘সুচিন্তিত এবং ধীর ও সতর্কভাবে’ চিন্তা করার একটি উপায়। যখন কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বা ‘আউট-অফ-দ্যা-বক্স’ চিন্তা করা হয় তখন সাধারণত এই উপায়ের সাহায্য নেয়া হয়। 

যখন আমরা মস্তিষ্কের সিস্টেম টু’কে ব্যবহার করি তখন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আরও সৃজনশীল হয়ে উঠি। আমরা আমাদের পুরাতন চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি। 

কিন্তু কীভাবে আমরা সিস্টেম টু ব্যবহার করতে পারি? এর জন্য কেবল এবং কেবলমাত্র একটাই উপায় রয়েছে – অখণ্ড মনোযোগ। হ্যাঁ, এটা এমনই সিম্পল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বেশীরভাগ মানুষ তাদের লক্ষ্য এবং স্বপ্নের প্রতি তাদের অখণ্ড মনোযোগ দেয় না।

একটা কথা যেন আমরা ভুলে না যাই – আপনি যতই ভাববেন যে সম্ভব, ততই সেটি সম্ভব হয়ে উঠবে। নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য নিজের লক্ষ্যের প্রতি অখণ্ড মনোযোগ দিতে শিখে নিন। 

যখন আপনি যেকোনো ক্ষেত্রের সেরাদেরকে নিয়ে পর্যালোচনা করবেন, কোন জিনিসটা তাদেরকে সবার থেকে আলাদা করে সেটা তাদের শারীরিক দক্ষতা নয়, সেটি হচ্ছে তারা কীভাবে তাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

স্টান বিক্যাম

#৫ : কিছুটা ভাগ্য

কিন্তু আমার কপাল খুব খারাপ। 

হ্যাঁ, আমি জানি আপনি ঠিক এই কথাটাই বলতে যাচ্ছেন। আমার কিচ্ছু মনে থাকে না, আমি কিচ্ছু পারি না। আমার কপালটা সবসময় খারাপ হয়। 

যারা সেরা তারা বিশ্বাস করে যে তারা ভাগ্যবান – তারা সম্ভাব্যতার ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। আর এটাই তাদের সফলতার চিত্রে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়।

কিন্তু কারণ কী?

ভাগ্য তাদের সহায় আছে – তাদের এধরণের চিন্তাভাবনা তাদের ব্যবহার এবং তারা তাদের সামনে আসা যেকোনো সুযোগকে মেপে দেখার ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন আনে। 

হাতের উপর লুডুর গুঁটি নিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ
ভাগ্য । চিত্রসুত্র : Pexels 

উকলা (UCLA) এবং কলাম্বিয়া (Columbia) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা যায় ভাগ্যের প্রতি আমাদের বিশ্বাস সাধারণত দুটি ক্যাটেগরিতে পড়ে : অনড় এবং ভাসমান। 

যারা অনড় ক্যাটেগরির ভাগ্যে বিশ্বাস করে তারা বিশ্বাস করে তারা হয় ভাগ্যবান নয়তো নয়। 
যারা ভাসমান ক্যাটেগরির ভাগ্যে বিশ্বাস করে তারা বিশ্বাস করে যে ভাগ্য আসে আর যায় এবং প্রায় ধারণার বাইরে।

কিন্তু এতে কি কোনও ফারাক আছে?

হুম, আছে বৈকি। যারা অনড় ক্যাটেগরির ভাগ্যে বিশ্বাস করে তাদের সফল হওয়ার মাত্রা অনেক বেশী। ভাগ্যে বিশ্বাস করা আপনাকে সফল করে তুলবে।

নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার পথে আমি ভাগ্যবান নই, কথাটাকে উল্টে নিন, এবং বিশ্বাস করুন ভালো কিছুই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

#৬ : বাকিটা প্রত্যাশা 

বলুন তো ভাগ্যের উপরেই কি আমাদের সফলতা নির্ভর করে?

উত্তরে অনেকেই হ্যাঁ বলবে। কিন্তু সে ভাগ্য হোক আর যাই হোক, বিজ্ঞান বলছে এতে কিচ্ছু যায় আসে না। আসলেই যাতে কিছু আসে যায় তা হলো – ফলাফলের প্রতি আপনার প্রত্যাশা। 

রিলে দৌড়ের লেন
প্রত্যাশা । চিত্রসুত্র : Pexels 

“ভাগ্যই সফলতা নির্ধারণ করে না, নির্ধারণ করে আপনার প্রত্যাশা।”

ডঃ স্টান বিক্যাম 

প্রত্যাশাকে এড়ানো যায় না, কেবলমাত্র পাল্টানো যেতে পারে। আপনি যদি ভেবে থাকেন, “কীভাবে আমি আমার সেরা সংস্করণ হবো?”

ঠিক আছে, আপনাকে ভাগ্য নিয়ে ভাবতে হবে না, আপনি কেবল প্রত্যাশায় বিশ্বাস করুন। প্রত্যাশা করুন আপনি আপনার সেরা সংস্করণ হতে পারবেন। 

এবং অতি অবশ্যই নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে হটিয়ে। 

#৭ : প্রতিযোগিতার চিত্র পাল্টে নিন 

দৌড়ানো প্রতিযোগিতা
দৌড়ানো প্রতিযোগিতা । চিত্রসুত্র : Pexels 

স্কুলের দিনগুলা কেউ কি ভুলতে পারে? একজন আরেকজনের সাথে পাল্লা দিয়ে পরীক্ষার খাতায় নম্বর তোলা। কটা চুলের ছেলেটা কেন আমার থেকে হাফ নম্বর বেশী পেলো তা নিয়ে সারা ক্লাস মাথায় তোলা। 

প্রতিযোগিতা মানুষকে আরও বেশী কিছু অর্জন করতে সাহায্য করে। প্রতিযোগী থাকলে তারা একরকম আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তারাই হয়ে উঠবে আপনার ছুটে চলার জ্বালানী। আপনার অনুপ্রেরণা।

দৌড় প্রতিযোগিতার কথাই ধরুন। কখনও ভেবেছেন দৌড়ানো শুরুর জন্য কোন লেনটি সবথেকে সেরা? 

প্রথম লেনটি, যেখান থেকে আপনি সবার শেষে দৌড়ানো আরম্ভ করবেন এবং বাকি সবার উপর নজর রাখতে পারবেন? 

না কি আট নম্বর লেন, যেখান থেকে আপনি সবার আগে দৌড়ানো শুরু করবেন এবং কাউকেই দেখতে পাবেন না?

যদিও এটা খেলোয়াড়দের উপর নির্ভর করে, তারপরও সাধারণত কেউই আট নম্বর লেনে যেতে চায় না। কারণ কী জানেন?

এক নম্বর লেনে, দৌড়ে সবার আগে থেকে আপনি একরকম নিজের সাথেই প্রতিযোগিতা করছেন। যখন কোনও প্রতিযোগিতা নেই, তখন কেবলমাত্র একজনই আছে প্রতিযোগিতা করার জন্য – আপনি। 

দৌড়ানোর জন্য একটি সেরা লেন হচ্ছে মাঝের লেন, বা যাকে বলে ‘মারকুই পজিশন’ (marquee position)। এই লেনে রানার তার প্রতিযোগিদের দেখতে পারে এবং সমস্ত প্রতিযোগিতায় তাদেরকে হারাতে হারাতে ছুটতে পারে। 

সহজ ভাবে বললে, একজন ভালো মানের প্রতিযোগী আপনার প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দিবে, কী সম্ভব না সম্ভব সে সম্পর্কে আপনার দুশ্চিন্তাকে দূর করে খুব উঁচুতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিবে। সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য যা খুবই দরকার। 

আপনার পক্ষে হওয়া সম্ভব এমন কিছুর থেকে নিচুতে যদি নিজের লক্ষ্যকে নির্ধারণ করেন, জীবনের বাকি দিনগুলো আপনি সম্ভবত অসুখী থেকেই পার করবেন।

আব্রাহাম মাসলো

সবার আগে নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিতে হবে। শুধু লক্ষ্য খুঁজে পেলেই কি হবে? লক্ষ্য অর্জনের পথে আসা সমস্ত ভীতি জয়ের মতো সাহস থাকতে হবে। 

একদিনেই আমরা সেরা সংস্করণ হতে পারব না। ধৈর্য ধরে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। ভাগ্য অনুকূলে আছে জেনে কঠোর পরিশ্রম করে লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। 

তাহলে সেরা সংস্করণ হওয়ার জন্য আমরা একটি সমীকরণ দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি।  

আপনার সেরা সংস্করণ = লক্ষ্য x সাহস x  আত্মনিয়ন্ত্রণ x ভাগ্য x কঠোর পরিশ্রম  

কিছু কি বাদ পড়লো?


ফিচার চিত্রসূত্র – Pixabay
তথ্যসুত্র : 
১। The Guardian 
২। Science of People 
৩। Irrational Academy 

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
2 Thoughts on নিজের সেরা সংস্করণ হওয়ার ৭টি সেরা উপায়
    N Mahmud
    19 Aug 2020
    6:04pm

    বেয়ার গ্রিলস এর একটা কথা মনে পড়ল ” কাজে সফল হতে দরকার ইচ্ছা, সঠিক কর্মপন্থা আর একটুখানি ভাগ্য “।

    3
    0
      মোঃ শামীম হোসেন
      12 Sep 2020
      11:29am

      ধন্যবাদ নিশাত। বেয়ার গ্রিলস নিজেই একটি অনুপ্রেরণা। আমার খুব পছন্দের একজন।

      3
      0

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!