Portrait_of_Sherlock_Holmes_by_Sidney_Paget

শার্লক হোমস: এক বিশ্বখ্যাত কাল্পনিক গোয়েন্দার আখ্যান

করবী কানন শিশির
4.6
(47)
Bookmark

No account yet? Register

দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহৃত জিনিসপত্রে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের ছাপ রেখে যায়। আপনাকে একটা পুরোনো ঘড়ি ও আতশ কাঁচ দেয়া হলো। ঘড়ির মালিকের চরিত্র, স্বভাব, ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাপনের বিশদ বিবরণ দিতে পারবেন? আপনি বা আমি কেউই নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে পারবো না। শিরোনাম দেখে এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন কাকে নিয়ে আজকের নিবন্ধ আর কেই বা ঘড়ি দেখেই বলে দিতে পারবে মালিকের বৃত্তান্ত! শার্লক হোমস, যাকে সৃষ্টি করে সৃষ্টিকর্তা নিজেই তার খ্যাতির জন্য হিংসে করতে শুরু করেন! অবশেষে মেরে ফেলেন! এবং ভক্তকুলের অনুরোধে আবার বাঁচিয়ে তোলেন!

অসামান্যতে লিখুন

চাবিস্কুট দিয়ে অসামান্য পাঠকদের আপ্যায়িত করার পর লেখক ভাবলেন, তার প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রটিকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে! 

শার্লক হোমস এর মূর্তি
শার্লক হোমসের মূর্তি । চিত্রসূত্র: Pixabay

আর্থার কোনান ডয়েল ও শার্লক হোমস

শার্লক হোমস, স্কটিশ লেখক স্যার আর্থার কোনান ডয়েল নির্মিত বিখ্যাত একটি কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র। ডয়েল নিজে একজন ডাক্তার ছিলেন। এডিনবার্গের মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনার সময় তার শিক্ষক অধ্যাপক ও সার্জন ড: জোসেফ বেল এর সাথে পরিচয় হয়। তিনিই ছিলেন ডয়েলের চোখে শার্লক হোমসের মডেল। ডয়েল মাত্র সতেরো বছর বয়সে ড: জোসেফ বেলের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যিনি তখন উনত্রিশ। ডাক্তার অল্পবয়স্ক ছাত্রটির উপর একটি অদম্য ছাপ রেখে গিয়েছেন। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন ড: বেল কীভাবে আপাতদৃষ্টিতে সহজ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে রোগীদের সম্পর্কে অনেক বড় সত্যগুলো নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি পর্যবেক্ষণ, যুক্তি, কর্তন এবং নির্ণয়ের একজন মাস্টার ছিলেন। এই সমস্ত গুণাবলীই গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমসের ব্যক্তিত্বে পাওয়া যায়। 

শার্লক হোমস এর রচয়িতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
স্যার আর্থার কোনান ডয়েল । চিত্রসূত্র: Pixabay 

১৮৮৭ সালের শেষের দিকে শার্লক হোমসের চরিত্রটি “এ স্টাডি ইন স্কারলেট” নামে একটি গল্প আকারে “বিটন্স ক্রিসমাস অ্যানুয়াল” নামক ম্যাগাজিনে প্রথম প্রকাশ করেছিল। ১৮৮৮ সালে এটি একটি বই হিসাবে আবারও মুদ্রিত হয়েছিল।

বিটন্স ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ, শার্লক হোমস যেখানে প্রথম প্রকাশিত হয়
বিটন্স ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons   

ডয়েলের মতে, ক্রমবর্ধমান ব্রিটিশ ম্যাগাজিনের মার্কেটে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি তার নতুন ধারাবাহিক চরিত্রের সূচনা করতে পারেন। এই ভাবনা নিয়ে তিনি “স্ট্র্যান্ড” পত্রিকায় যোগাযোগ করলেন এবং ১৮৯১ সাল থেকে নিয়মিত “স্ট্র্যান্ড” পত্রিকায় শার্লক হোমস প্রকাশ করতে শুরু করলেন।

স্ট্র‍্যান্ড পত্রিকার প্রচ্ছদ
স্ট্র‍্যান্ড পত্রিকার প্রচ্ছদ । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons 

স্ট্র‍্যান্ড ম্যাগাজিনের গল্পগুলো ইংল্যান্ডে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছিলো। যুক্তি ব্যবহারকারী নতুন এই গোয়েন্দা চরিত্রটি খুব দ্রুতই সবার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে পেরেছিলো। নতুন অ্যাডভেঞ্চারের জন্য পাঠকগণ আগ্রহী হয়ে অপেক্ষায় থাকতো।

শার্লক হোমসের গল্পগুলোর জন্য চিত্র সংযোজন করতেন চিত্রশিল্পী সিডনি পেজেট। তিনি পাঠকদের চিন্তাধারা মাথায় রেখেই চিত্রগুলো তৈরি করতেন। তিনিই তার চিত্র গুলোতে শার্লককে ডিয়ারস্টকার ক্যাপ ও কেপ পড়িয়েছিলেন। অথচ মূল উপন্যাস বা গল্পে কোথাও এর উল্লেখ ছিলো না।

সিডনি পেজেট অঙ্কিত চিত্র, শার্লক হোমস ও জন ওয়াটসন
সিডনি পেজেট অঙ্কিত চিত্র । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons

হোমসকে নিয়ে ৪টি উপন্যাস ও ৫৬টি ছোটগল্প লেখেন ডয়েল। পাঠক সমাজের কাছে হোমসের কল্যাণে আর্থার ডয়েল তখন তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা এটাই ছিলো যে, লেখকের চেয়ে শার্লক হোমসের জনপ্রিয়তাই ছিলো অধিক!

শার্লক হোমস: পরিচয়

আর্থার প্রথমে শার্লকের নাম দিয়েছিলেন শেরিনফোর্ড হোমস। পরবর্তীতে তা পছন্দ না হওয়ায় রাখলেন উইলিয়াম শার্লক স্কট হোমস। তবে তিনি শার্লক হোমস নামেই পরিচিত।

শার্লক হোমস

  • জন্ম : ৬ জানুয়ারি, ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দ 
  • পিতা : সাইগার হোমস
  • মাতা : ভায়োলেট হোমস
  • ভাই : মাইক্রফট হোমস, শেরিনফোর্ড হোমস
  • বোন : ইউরাস হোমস
  • জাতীয়তা : ব্রিটিশ 
  • পেশা : রসায়নবিদ ও পরামর্শদাতা গোয়েন্দা

হোমস কখনো অনুমানে বিশ্বাসী ছিলো না। তার মতে অনুমান যুক্তিবোধের সর্বনাশ করে ছাড়ে। নির্ভুল যুক্তিসঙ্গত কার্যকারণ অনুধাবন ও ছদ্মবেশ ধারণে পারদর্শিতা ছিলো হোমসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সে পর্যবেক্ষণ ও অবরোহ মতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো। অর্থাৎ প্রথমে তার প্রখর মেধা আর দৃষ্টিশক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে পর্যবেক্ষণ করতো, তারপর ধাপে ধাপে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো। সে তার অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বিশ্লেষণী শক্তির দ্বারা সমস্ত জটিল বিষয় সমূহ সমাধান করতো। তার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এতটাই ধারালো ছিলো যে, একজন মানুষের হাতের কব্জি, গায়ের রং, শার্টের হাতা, কলার, হাতের বুড়ো আঙুল এমনকি প্যান্টের হাঁটু দেখে লোকের পেশা থেকে শুরু করে স্বভাব, প্রকৃতি, ব্যক্তিত্ব, অতীত, বর্তমান নিয়ে অনেক কিছুই বলে দিতে পারতো। এমনকি এগুলো যথাসম্ভব নির্ভুল হতো। তার এতটা জনপ্রিয়তার মূল কারণ হিসেবে এই সব বিশেষত্বকেই ধরে নেয়া হয়। 

ব্যক্তিত্ব ও কাজের ধরন

প্রথমেই হোমসের কাজের কথায় আসা যাক! পরামর্শদাতা গোয়েন্দা পেশাটি হোমস নিজেই নিজের জন্য তৈরি করেছে। তার মতে পৃথিবীতে আর কেউ এই ধরনের কাজ করে না। তার কাজের জন্য সে কারোর কাছে বাধ্য নয়। লন্ডন শহরের সমস্ত গোয়েন্দা এবং পুলিশ যখন কোনো রহস্যের সমাধান করতে ব্যর্থ হতো তখন তারা শার্লক হোমসের শরণাপন্ন হতো। হোমসের কাজের জন্য কোনো পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড  এর পুলিশ অফিসার লেস্ট্রেডের কাছে সাহায্য গ্রহণ করতো।

শার্লক হোমস ও ওয়াটসন
হোমস ও ওয়াটসন । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons  

হোমসের সাথে সার্বক্ষণিক বন্ধু হিসেবে ডা: জন ওয়াটসনকে পাওয়া যায়। মাত্র ৪টি গল্প ব্যতীত প্রায় সব গল্প বা উপন্যাসই ওয়াটসনের জবানিতে লেখা। ওয়াটসন আর হোমস একই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ওয়াটসনের মতে, হোমস ছিলো বোহেমিয়ান ধরনের মানুুুষ। মুখে সবসময় একটা পাইপ থাকতো। নিজের খাওয়া দাওয়ার প্রতি তেমন কোনো মনোযোগ ছিলো না। ফরেন্সিক সাইন্স নিয়ে প্রচুর গবেষণা করতো। এমনকি নিজের উপরও পরীক্ষাগুলো চালাতো সে। তার প্রিয় গবেষণার বিষয় ছিলো তামাকের ছাই। অপরাধতত্ত্ব নিয়েও সে লেখালেখি করতো। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে সে মার্শাল আর্টস, ঘোড়সওয়ার, বন্দুক ও তলোয়ার যুদ্ধ এবং বক্সিংয়েও পারদর্শী ছিলো।

শার্লক হোমস এর প্রতীকী চিত্র
শার্লক হোমসের প্রতীকী চিত্র । চিত্রসূত্র: Pixabay

নিজের প্রতি উদাসীনতা থাকলেও তার মধ্যে অন্যের প্রতি যত্নশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। শার্লক তার মামলায় জড়িত লোকদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করতো। সে নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করতে দ্বিধা করতো না কিন্তু তার মক্কেলকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতো। নারীদের ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ ছিলো না! কিন্তু প্রায়ই একজনের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করতো, সে ছিলো আইরিন অ্যাডলার। একমাত্র নারী যে কিনা হোমসের ছদ্মবেশ ধরতে পেরেছিলো এবং তার পরিকল্পনা ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছিলো। যদিও পরবর্তীতে হোমস তাকে ধরতে পেরেছিলো। 

২২১ বি বেকার স্ট্রিট

২২১ বি বেকার স্ট্রিট শার্লকিয়ান্সদের জন্য একটা আবেগের নাম! হ্যাঁ, শার্লক ভক্তদের শার্লকিয়ান্স নামে ডাকা হয়। ডয়েলের গল্প অনুসারে, শার্লক হোমস এবং জন ওয়াটসন ১৮৮১ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত ২২১ বি বেকার স্ট্রিটে বাস করতেন। তবে অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য হলো ২২১ বি বেকার স্ট্রিটটি ১৮৮১ সালে ছিলই না। ১৮৮৭ সালে যখন “স্টাডি ইন স্কারলেট” প্রকাশিত হয়েছিল তখন বেকার স্ট্রিটের বাড়ির সংখ্যা কিছু থাকলেও ২২১ বি নাম্বারে কোনো বাড়ি ছিলো না। ১৯৯০ সালে শার্লক হোমস আন্তর্জাতিক সোসাইটি দ্বারা ২২১ বি বেকার স্ট্রিটে শার্লক হোমস জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রশ্ন হতে পারে, “তাহলে এই জাদুঘরটি কোথায় অবস্থিত?”

মিউজিয়াম
শার্লক হোমস মিউজিয়াম । চিত্রসূত্র: Pixabay  

এমনকি ১৯৩০এর দশকেও সেখানে কিছু ছিলো না। অ্যাবে ন্যাশনাল বিল্ডিং সোসাইটির অধিকৃত বড় বড় ভবন নির্মাণের দ্বারা তা দখলীকৃত হয়ে গেলো। দেশ বিদেশ থেকে যখন হোমসের নামে ২২১ বি বেকার স্ট্রিটের ঠিকানায় চিঠি আসতে শুরু করলো তখন থেকেই শুরু হলো বিপত্তি। অ্যাবে ন্যাশনাল বিল্ডিং সোসাইটিতে চিঠিগুলো আসতে শুরু করলো এবং তার উত্তর করার জন্য তারা ফুল টাইম সচিব নিয়োগ করলো। কিন্তু এরপর যখন কোনান ডয়েলের কল্পনার আলোকে ২৩৯ বেকার স্ট্রিটে শার্লক হোমস মিউজিয়াম তৈরি করা হলো তখন চিঠি কোন ঠিকানায় আসবে সেটা নিয়ে সমস্যা তৈরি হলো। অ্যাবে ন্যাশনাল সোসাইটি চাচ্ছিলো তাদের কাছেই চিঠিগুলো আসুক, কিন্তু শেষে তা হোমস মিউজিয়ামেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং রয়্যাল মেইল আসল ঠিকানা না হওয়া সত্ত্বেও কল্পিত ২২১ বি বেকার স্ট্রিটে পৌঁছে দিতে স্বীকৃতি জানায়। আসলে শার্লক হোমস মিউজিয়ামটি ২৩৭-২৪১ বেকার স্ট্রিটে অবস্থিত।

 

শার্লক অনুরাগীদের জন্য দর্শনীয় স্থান

বছরের পর বছর শার্লকিয়ান্সরা শুধু বই পড়ে আর সিনেমা দেখেই হোমসের সব দুঃসাহসিক অভিযানে রোমাঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু আজকে তাদের জন্য থাকছে হোমসের স্মৃতিবিজরিত কয়েকটি স্থানের নাম। যে কেউ চাইলেই দেখে আসতে পারে।

১.বার্থেলোমিউ হাসপাতাল

স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের প্রথম হোমস মাস্টারপিস, “স্টাডি ইন স্কারলেট” এ শার্লক তার চিরকালীন সঙ্গী জন ওয়াটসনের সাথে এই হাসপাতালেই দেখা করেছিলেন এবং বাকিটা  ইতিহাস।

বার্থেলোমিউ হাসপাতাল
বার্থেলোমিউ হাসপাতাল । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons   

এখনো হাসপাতালের যাদুঘরে শার্লক স্মৃতি ফলক রয়েছে। শার্লকের ভক্তদের জন্য হাসপাতাল ভবনের বাইরে এখনও তার ফোন বাক্সটি রাখা আছে। যাতে ভক্তরা তাদের লেখা নোট বিবিসি শো শার্লক এর জন্য পাঠাতে পারে। 

শার্লক হোমসের ব্যবহৃত ফোন বাক্স
শার্লক হোমসের ব্যবহৃত ফোন বাক্স । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons  

২.ডার্টমুর জাতীয় উদ্যান

এটিই সেই অঞ্চল যেখানে কোনান ডয়েল কাজের অনুপ্রেরণা পেতে প্রায় ১৫ দিনের মতো পরিদর্শন করেছিলেন। এই অন্বেষণের মূল ফলাফলটি ছিলো “দ্য হাউন্ড অফ দ্যা বাসকারভিলস” উপন্যাস। 

৩.ক্যাফে রয়্যাল

১৮৬৫ সালে নির্মাণের পর থেকে এটি এমন একটি ভেন্যু যা সমস্ত ধরণের লেখকদের আকর্ষণ করেছে। 

“দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ দ্য ইলাস্ট্রিয়াস ক্লায়েন্ট” বইয়ে শার্লককে ক্যাফের ঘাঁটির নিচে আক্রমণ করা হয়েছে এবং তার জীবনের জন্য লড়াই করতে বাধ্য করা হয়েছে।

৪.পিকার্ডি প্লেস, এডিনবার্গ

স্যার ডয়েল ১৮৫৯ সালে এডিনবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে পিকার্ডি প্লেসে হোমসের একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি রাখা আছে। যা লেখকের শৈশবের স্মৃতি বিজরিত বাড়িতে রয়েছে। শার্লকিয়ান্সদের পদচারণায় সারা বছর তা মুখরিত থাকে।

পিকার্ডি প্লেসে শার্লকের মূর্তি ।
পিকার্ডি প্লেসে শার্লকের মূর্তি । চিত্রসূত্র: Pixabay 

৫. শার্লক হোমস মিউজিয়াম 

২২১ বি বেকার স্ট্রিটের শার্লক হোমসের বাড়িতে মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। মিউজিয়ামে গেলেই বসার ঘরে চোখে পড়বে হোমসের বিখ্যাত চেয়ার, বেহালা, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, পাইপ, রসায়ন সরঞ্জাম, টেস্টটিউব, নোটবুক, অনেকগুলো সংবাদপত্র, ফারসি স্লিপার এবং ছদ্মবেশের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। যে কোনো শার্লকিয়ান্সের কাছে এগুলো সত্যিই রোমাঞ্চকর। কেননা এই জিনিসগুলোই শার্লক হোমসের জীবনের সূচক।

হোমসের বসার ঘর
হোমসের বসার ঘর । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons  

শার্লকের মৃত্যু এবং পুনরায় জীবিতকরন

স্যার আর্থার কোনান ডয়েল তার নিজের সৃষ্ট শার্লক হোমসের জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে হতে চেয়েছিলেন একজন ইতিহাস নির্ভর লেখক যেন লোকে তাকে একজন ইতিহাসের লেখক হিসেবেই মনে রাখে। কিন্তু হোমসের উত্তরোত্তর জনপ্রিয়তা তাকে চিন্তিত করে তুললো। কেননা হোমসের গল্প লিখতে গিয়ে তিনি তার নিজের লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। তিনি ভাবতে লাগলেন কি করে হোমসের গল্পের সমাপ্তি টানবেন! ভাবনা অনুযায়ী তিনি ‘দ্য ফাইনাল প্রবলেম’ গল্পে মরিয়ার্টির সাথে রেইচেনবাচ জলপ্রপাতে একটি মারামারির দৃশ্য রাখলেন এবং কৌশলে হোমসকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলেন! 

সিডনি পেজেট অঙ্কিত দৃশ্য
হোমসের মৃত্যুদৃশ্য। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons   

১৮৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্ট্র‍্যান্ড ম্যাগাজিনে ‘দ্য ফাইনাল প্রবলেম’ প্রকাশিত হয়। পাঠকদের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠে যায়। যার ফলশ্রুতিতে প্রায় ২০হাজার সাবস্ক্রাইবার হারায় স্ট্র‍্যান্ড ম্যাগাজিন! 

অবশেষে স্ট্র‍্যান্ড ম্যাগাজিনের অনুরোধে আর পাঠকদের অনুরোধে আবারও শুরু হয় শ্বাসরুদ্ধকর সব শার্লক হোমস সিরিজ!

লেখকের চেষ্টায়ই যখন শার্লককে মেরে ফেলা সম্ভব হয় নি! তখন আর কার সাধ্য আছে, কোটি ভক্তের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবে? ঠিক যেমনটি আমরা সেদিনই একজন শার্লকিয়ান্সের থেকে নতুন করে হোমসের গল্প উপহার পেলাম! 

শার্লক হোমস, যাকে নিয়ে হাজার হাজার শব্দ লিখলেও কম হয়ে হবে! 

শার্লক হোমস, যে শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে থাকবে, তার কোটি ভক্তের হৃদয়ে!

ফিচার ছবিসূত্র: Wikimedia Commons 

তথ্যসূত্র:  

  1. ThoughtCo
  2. Yours
  3. Inverse 
  4. Britannica
  5. Psychology Wikia
  6. Baker Street Fandom
  7. SmithSonian Magazine 
  8. Fair Investment 
  9. The Travel
  10. BBC
  11. Conan Doyle

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
10 Thoughts on শার্লক হোমস: এক বিশ্বখ্যাত কাল্পনিক গোয়েন্দার আখ্যান
    Tansir Alam
    16 Sep 2020
    8:25pm

    পুরো আর্টিকেলটাই দারুণ উপভোগ করলাম। শার্লককে নিয়ে যেন সংক্ষেপে একটা তথ্যসমৃদ্ধ বিবরণীই পড়ে গেলাম। এটা বেশ অবাক করল যে একটা ফিকশনাল ক্যারেক্টার কতটা শক্তিশালী আর যুক্তিনির্ভর হলে সেটি পাঠকদের মাঝে এতটাই জীবন্ত হয়ে ওঠে যে তাঁরা ক্রমাগত সেই ক্যারেক্টারের ঠিকানা বরাবর চিঠি পাঠাতে থাকেন।
    আমার একটা ত্রুটি রয়ে গেছে এখন অবধি। তা হলো, আমি এখনও শার্লক সিরিজ পড়ে ওঠতে পারিনি। তবে স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সাথে একটা দিক দিয়ে মিল পেয়েছি বাংলা সাহিত্যের শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ডয়েলের যেমন ইচ্ছে ছিল ইতিহাস রচনা করা, শরদিন্দুও তেমনি বেশিমাত্রায় ঝুঁকে পড়েছিলেন ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাস রচনায়। যদিও এখন সকলেই শরদিন্দুর সাথে পরিচিত হয় তাঁর সৃষ্ট চরিত্র ‘ব্যোমকেশ বক্সী’র মাধ্যমে। তবে তাঁর ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাসগুলো বেশ পাঠকনন্দিত।

    লেখিকা করবী কাননের আগের লেখাগুলোর মতই এটি বেশ উপভোগ্য ছিল। ‘অসামান্য’ ব্লগে এসে এমন অসামান্য রচনাকর্মের সন্ধান পাব, তা ভাবিনি। এর সন্ধান পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবানই মনে হচ্ছে।

    করবী কানন আরো লিখে যান, এটাই কামনা। তাঁর জন্যে ভালোবাসা ও দু’আ।

    17
    0
      করবী কানন শিশির
      17 Sep 2020
      12:13pm

      শার্লক হোমস আমার অনেক পছন্দের একটা চরিত্র। হোমস ভক্তদের নিরাশ করবো কিনা, এই ভয়ে ছিলাম! আর যারা হোমস পড়ে নি তারা কিভাবে নেবে সেটা নিয়েও শঙ্কায় ছিলাম। আপনার মন্তব্য দেখে সত্যি খুব ভালো লাগছে। অনুপ্রেরণা দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।❤

      10
      0
    সাকিব রায়হান
    16 Sep 2020
    9:01pm

    Mind Blowing 😍

    10
    1
      করবী কানন শিশির
      17 Sep 2020
      12:15pm

      Thank you little one😍

      8
      0
    Golam Rony
    18 Sep 2020
    2:36pm

    এই চরিত্রটির বিশ্লেষ-কৌশল আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা প্রশিক্ষনে পড়ানো হয়। ভালো লাগলো সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে জানানোর জন্য। লেখককে ধন্যবাদ।

    7
    0
      করবী কানন শিশির
      18 Sep 2020
      4:06pm

      অনেক ধন্যবাদ। শার্লক হোমস আমার অনেক পছন্দের একটা চরিত্র। নিজের কৌতুহল থেকেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি এবং আমার মতো শার্লক ভক্তদের কিছু জানানোর চেষ্টা করেছি।

      6
      0
    রণি
    18 Sep 2020
    2:38pm

    এই চরিত্রটির বিশ্লেষণ-কৌশল আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা প্রশিক্ষনে পড়ানো হয়। ভালো লাগলো তার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে জানানোর জন্য। লেখককে ধন্যবাদ।

    8
    0
      করবী কানন শিশির
      18 Sep 2020
      4:07pm

      ধন্যবাদ

      7
      0
    Shimul parvez
    24 Oct 2020
    1:02pm

    এক কথায় অসাধারণ।
    অনেক তথ্য বহুল লেখা,
    অনেক ভালো লাগলো এই
    বিশেষ চরিএটি সম্পর্কে যেনে।
    লেখককে ধন্যবাদ।

    4
    0
      করবী কানন শিশির
      26 Oct 2020
      9:41am

      প্রিয় চরিত্র নিয়ে নিজের কৌতুহল থেকেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা। আপনাদের প্রশংসা আমার জন্য অনুপ্রেরণা। অসংখ্য ধন্যবাদ।

      4
      0

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!