ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট: দেশভাগের এক পূর্ণাঙ্গ আখ্যান

4.6
(9)
Bookmark

No account yet? Register

  • গ্রন্থের নাম: ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট
  • ভাষা: ইংরেজি
  • লেখক: ল্যারি কলিন্স এবং ডমিনিক ল্যাপিয়ের
  • অনুবাদক: রবিশেখর সেনগুপ্ত
  • অনুবাদের ভাষা: বাংলা
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬১৬
  • প্রথম ইংরেজি সংস্করণের প্রকাশ সন: ১৯৭৫
  • আইএসবিএন নাম্বার: ৯৮৪৭০১৪৫০২১৬৫

১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতবর্ষের এযাবতকালের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। আর্য জাতির ভারতবর্ষে আগমনের পরে খুব সম্ভবত দেশভাগ এমন ঘটনা, যা এই অঞ্চলের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কোনো না কোনোভাবে প্রভাব রেখেছিল। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান এই তিন দেশেরই বহু সাংবাদিক, ইতিহাসবেত্তা, রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষক দেশভাগ নিয়ে সূক্ষ্ম চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে উপমহাদেশের বাইরের ব্যক্তি হিসেবে ল্যারি কলিন্স এবং ডমিনিক ল্যাপিয়ের দেশভাগ নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছেন যা প্রকৃতপক্ষেই সুখপাঠ্য। ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থটি দেশভাগ সংক্রান্ত বিদেশি গ্রন্থের খরা পূরণ করবে বলে আশা করা যায়।

লেখনীর প্রকৃতি 

ইতিহাসের মূল ধারাকে অক্ষুণ্ণ রেখে এই গ্রন্থটি রচিত। তবে বর্ণনার প্রয়োজনে লেখক সময়ে সময়ে কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন। ইতিহাসের ভারে যাতে পাঠক ক্লান্ত বোধ না করেন, সেদিকেও যথাযথ নজর রেখেছেন লেখক। এই বিবেচনায় গ্রন্থটি মূলত একটি ডকু-ফিকশন।

লেখক পরিচিতি 

ল্যারি কলিন্স ১৯২৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পরে বেশ কিছু বছর তিনি নানাবিধ কাজ করেছেন; যেমন সেনাবাহিনীতে খণ্ডকালীন সেবা, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করা বা বিভিন্ন সংস্থায় জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ফ্রান্সের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস নামক সংবাদ সংস্থায় যোগ দেন। 

ডমিনিক ল্যাপিয়ের ১৯৩১ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে ফ্রেঞ্চ আর্মিতে কাজ করার সময়ে তাঁর পরিচয় হয় ল্যারি কলিন্সের সাথে। ১৯৬৫ সালে প্রথম এই দুইজনের যৌথ লেখনীতে ‘ইজ প্যারিস বার্নিং’ প্রকাশিত হয়। 

১৯৭৫ সালে এই জুটির লেখা ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ প্রকাশিত হয়। ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সরকারই এই বইয়ের বেশ কিছু অধ্যায়ের তথ্যের বিরোধিতা করে। যদিও ব্রিটিশ সাংবাদিক জেমস ক্যামেরন এই বইয়ের যথেষ্ট প্রশংসা করেন। 

ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট গ্রন্থের লেখক ল্যারি কলিন্স এবং ডমিনিক ল্যাপিয়ের.
চিত্র: ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট গ্রন্থের লেখক ল্যারি কলিন্স এবং ডমিনিক ল্যাপিয়ের; চিত্রসূত্র – ভাস্কর আর্কাইভ

এই বইয়ের অনুকরণে ২০১৭ সালে হলিউডে ‘ভাইসরয়স হাউস’ মুক্তি পায়। 

ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট' গ্রন্থের অনুকরণে নির্মিত চলচ্চিত্রের পোস্টার।
চিত্র: ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের অনুকরণে নির্মিত চলচ্চিত্রের পোস্টার; চিত্রসূত্র – অল মুভি

আরো পড়ুন: রাইডার্স ফ্রম দ্য নর্থ: অনুসন্ধিৎসুর চোখে বাবর

‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের স্থান এবং কাল

এই বইয়ের ঘটনাপ্রবাহের সূচনা ১৯৪৭ সালের জানুয়ারি মাসে। ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনে ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জের ব্যক্তিগত সভাকক্ষে জ্ঞাতি ভাই লুইস মাউন্টব্যাটেনের সাথে সম্রাটের বৈঠক চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল আর্থিক ক্ষতি এবং ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের ক্রমাগত বিস্তৃতির কারণে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভারত থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নিতে চায়। এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলার জন্যই ব্রিটিশ সম্রাটের প্রতিনিধি হিসেবে লুইস মাউন্টব্যাটেনকে ভারতে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন সম্রাট পঞ্চম জর্জ।

সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং লুইস মাউন্টব্যাটেন
চিত্র: সম্রাট পঞ্চম জর্জ এবং লুইস মাউন্টব্যাটেন; চিত্রসূত্র – The Rake

১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে আসেন লুইস মাউন্টব্যাটেন। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ, উভয় রাজনৈতিক দলের সাথেই তিনি বৈঠক করেন। স্বাধীনতা আনয়নের পুরো প্রক্রিয়া যে কতটা কঠিন হবে, প্রতি পদে পদে তিনি তা বুঝতে পারেন। 

১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপিন্ডেন্স অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করেন লুইস মাউন্টব্যাটেন।

ইন্ডিয়ান ইন্ডিপিন্ডেন্স অ্যাক্ট
চিত্র: ইন্ডিয়ান ইন্ডিপিন্ডেন্স অ্যাক্ট; চিত্রসূত্র – কোরা

এই অ্যাক্টের আওতায় ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষ ত্যাগ করবে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামের দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্মগ্রহণ করবে। ১৮ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই অ্যাক্ট সম্রাটের অনুমোদন পায় এবং সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 

এরপরে শুরু হয় ভাগাভাগির পালা। কোন অঞ্চল কোন দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে, এটি ছিল সর্বাধিক স্পর্শকাতর বিষয়। তাই, কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ উভয়েই চাচ্ছিলেন একজন নিরপেক্ষ মানুষকে দেশভাগ করার দায়িত্ব দেওয়া। সেই সূত্রে স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফকে বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান হিসেবে ব্রিটেন থেকে ডেকে আনা হয়, যার ভারতবর্ষের জটিল ভৌগোলিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় ইতিহাস বিষয়ে কোনোরূপ ধারণাই ছিল না। 

স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
চিত্র: স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ; চিত্রসূত্র – Home Grown

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পূর্বে দেশভাগ সংক্রান্ত কোনো সমস্যার উদ্ভব যাতে না হয়, তাই স্বাধীনতার দুইদিন পরে, ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ পায়। রিপোর্টে পাঞ্জাব এবং বাংলা, এই দুই প্রদেশকে দেশভাগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারত এবং পাকিস্তানের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়।

শুরু হয় মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জোরপূর্বক অভিবাসন। প্রায় দেড় কোটি লোক ভারত থেকে পাকিস্তানে এবং পাকিস্তান থেকে ভারতে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে খাবার এবং নিরাপদ পানির সংকটের কারণে প্রচুর শিশু এবং বৃদ্ধ মারা যান। 

মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন
চিত্র: মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন; চিত্রসূত্র – ইউনিভার্সিটি অফ পেনিসিলভানিয়া

আরো পড়ুন: মমতাজ ও শাহজাহানের তাজমহল: ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য (পর্ব ১)

এর সাথে যুক্ত হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। বাংলায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় এবং পাঞ্জাবে হিন্দু, মুসলিম ও শিখ সম্প্রদায় একে অপরের রক্ত ঝরাতে থাকে। এক বৈরী অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশভাগ প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটে। 

১৯৪৭ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
চিত্র: ১৯৪৭ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা; চিত্রসূত্র – বিবিসি

দেশভাগ প্রক্রিয়া যথাযথ সম্পাদনের পথে আরো একটি বাধা হয়ে ছিল বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যগুলো। এই রাজ্যগুলো ব্রিটিশ সম্রাটকে কর প্রদানের বিনিময়ে নিজেদের মত করে চলার স্বাধীনতা পেয়েছিল। এরূপ রাজ্যের সংখ্যা ছিল মোট ৫৬৫টি। এই রাজ্যগুলো ভারতবর্ষের মোট আয়তনের প্রায় ৩৫ শতাংশের অধিক এবং মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশের অধিক ছিল। স্বায়ত্তশাসিত এসকল রাজ্যকে হয় ভারত নতুবা পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সম্রাটের পক্ষ থেকে  লুইস মাউন্টব্যাটেন নির্দেশ দেন। 

স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যসমুহের মানচিত্
চিত্র: স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যসমুহের মানচিত্র; চিত্রসূত্র – Pakistan Geotagging

এই গ্রন্থের ঘটনাপ্রবাহের সমাপ্তি ঘটে ১৯৪৮ সালের ৩১ জানুয়ারি, দিল্লির রাজঘাটে। আগের দিন, অর্থাৎ, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের ছোঁড়া গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগুনে জ্বলেই এই গ্রন্থের সমাপ্তি ঘটে। 

‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের চরিত্র বিশ্লেষণ

‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থটিকে এক বিচারে লুইস মাউন্টব্যাটেনের বয়ান হিসেবেই তুলে ধরা যায়। লুইস মাউন্টব্যাটেন ছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের কাছের একজন ব্যক্তি। তিনি সম্পর্কে বর্তমান ব্রিটিশ রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ উভয়ের সাথেই সম্পর্কিত। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যের পরে তাঁর কাঁধে প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত করেন তাঁর ভাই, তৎকালীন ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জ। কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগের সাথে হাজারখানেক বৈঠক করেছেন এই অল্প সময়ে। এমনকি দেশভাগ পরবর্তী সময়ে সংবিধান প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত ভারত সরকারের গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৪৭ এর দেশভাগ পরবর্তী সময়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধেও যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। মোটকথায়, তিনি এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র।

ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট' গ্রন্থের মুখ্য চরিত্র লুইস মাউন্টব্যাটেন
চিত্র: ‘ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের মুখ্য চরিত্র লুইস মাউন্টব্যাটেন; চিত্রসূত্র – দ্য অপরাহ

এই গ্রন্থের আরেক মুখ্য চরিত্র হলেন মহাত্মা গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী ভারতের তৎকালীন সময়ের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ভরসাযোগ্য নেতা। যদিও সময়ে সময়ে তার অসহযোগ আন্দোলন এবং অহিংসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা সত্ত্বেও তিনি জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলেন। তবে স্বাধীনতাকামী যুব সমাজের সশস্ত্র আন্দোলনের প্রতি বিরোধিতা পোষণ করার কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে দেশভাগ সমকালীন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাঝে এক সাধুপুরুষের ন্যায় আলোকবর্তিকা হয়ে তাঁর জ্বলে উঠাও সম্মান এবং প্রশংসার দাবিদার। 

ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট গ্রন্থের অন্যতম প্রধান চরিত্র মহাত্মা গান্ধী
চিত্র: ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট গ্রন্থের অন্যতম প্রধান চরিত্র মহাত্মা গান্ধী; চিত্রসূত্র – Stars Unfolded

আরো পড়ুন: ব্রাদার্স অ্যাট ওয়ার: ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে হুমায়ুন

কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এই গ্রন্থের প্রধান পার্শ্বচরিত্র। ১৯৩৪ সালে পাকিস্তানের বিরোধিতাকারী জিন্নাহ কী করে ১৯৪০ এর লাহোর প্রস্তাবের সময় পাকিস্তানের জন্য আদা-জল খেয়ে লাগলেন, তা প্রকৃতপক্ষেই গবেষণার বিষয়। ১৯৪৭ সালে লুইস মাউন্টব্যাটেনের সাথে বৈঠকে জিন্নাহ পূর্ণাঙ্গ বাংলা এবং পাঞ্জাব পাকিস্তানের জন্য চেয়েছিলেন। লুইস মাউন্টব্যাটেন তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাব অস্বীকার করেছিলেন। যতই দেশভাগ নিকটে এসেছে, ততই পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। 

মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ
চিত্র: মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ; চিত্রসূত্র – পিন্টারেস্ট

জওহরলাল নেহেরু এই গ্রন্থের আরেক পার্শ্বচরিত্র। কংগ্রেসের পক্ষ হয়ে লুইস মাউন্টব্যাটেনের সাথে তিনি সর্বাধিক সংখ্যকবার বৈঠক করেছেন। তাছাড়া, ইংরেজ অনুগত অধিকাংশ স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য যাতে ভারতে যোগদান করে, সেই জন্য তিনি তদবির চালিয়ে গেছেন। তিনি খুব সম্ভবত এমন একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যার ব্রিটিশ সরকার, মহাত্মা গান্ধী এবং কংগ্রেস; এই তিন পক্ষের সাথেই সদ্ভাব ছিল। এই সুবিধার বিনিময়ে তিনি পরিস্থিতির সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করতে পেরেছেন। 

 জওহরলাল নেহেরু
চিত্র: জওহরলাল নেহেরু; চিত্রসূত্র – হিস্টোরি

ইতিহাসভিত্তিক অধিকাংশ তথ্য কখনোই এক পক্ষের বয়ানে পূর্ণতা পায় না। ঘটনাপ্রবাহের সাথে যুক্ত প্রতিটি পক্ষের মতামত জেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। দেশভাগ প্রক্রিয়ার পিছনে ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিয়ান জানার জন্য এই গ্রন্থ বেশ ভালো একটি উৎস। তাছাড়া, লেখকদ্বয়ের বর্ণনাভঙ্গি যথেষ্ট প্রাঞ্জল, ফলে কখনোই ইতিহাস ও তথ্যের বাহুল্য দৃষ্ট হবে না। সব মিলিয়ে বইটি সুখপাঠ্য হবে বলেই আমার ধারণা। 

প্রচ্ছদ চিত্রসূত্র – Amazon

তথ্যসূত্র –

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট: দেশভাগের এক পূর্ণাঙ্গ আখ্যান

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!