প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: একটি হত্যা এবং ২ কোটি লোকের মৃত্যু

2.3
(7)
Bookmark

No account yet? Register

২৮ জুন ১৯১৪, সারায়েভোর রাস্তাগুলো কেবল নিদ্রা ভেঙ্গে একটি কর্মচঞ্চল দিনে প্রবেশ করছে। দূর শহর  থেকে ভেসে আসা  পদশব্দগুলো যেন বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া কোনো বিধ্বংসী যুদ্ধের প্রহর গুনছিল। মাত্র কয়েক বছর আগেই শতাব্দীব্যাপি ওসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা শহরটির অবস্থা দিন দিন বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছিলো।  বিভিন্ন জাতির সমষ্টিতে গঠিত সুশৃংখল সামাজিক কাঠামো গোলমাল, মারামারি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনায় বারবার বিপর্যস্ত হচ্ছিল। গ্রীষ্মের তাপের প্রখরতার মাঝেও সব সার্বিয়রা ওদের জাতীয় উৎসব ভিদোভদান এ ৫২৫ বছর ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী একসময় তাদের কব্জায় থাকা কসোভো অঞ্চল হারানোর শোক পালন করছিল। শোক পালনরত হাজার হাজার সার্বিয়দের মাঝে এমন কিছু তরুণ ওঁৎ পেতে ছিলো, যাদের আগ্নেয় তাণ্ডবলীলার  লেলিহান শিখা কেবল সারায়েভো নয় বরং পুরো পৃথিবীকেই ওলটপালট করে দিতে চলছিলো। ততক্ষণে আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ডকে সারায়েভো শহর থেকে জীবিত বের না হতে দেয়ার পুরো নীল নকশা তৈরী হয়ে গিয়েছিলো।

স্ত্রী সোফি আর সন্তানদের সাথে  ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ড, যার হত্যার মাধ্যমে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
স্ত্রী সোফি আর সন্তানদের সাথে  ফ্রাঞ্জ ফার্ডিনান্ড। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons

ফার্ডিনান্ড  ১৮৬৩ সালে অস্ট্রিয়ার হ্যাবসবার্গ রাজবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আর্চডিউক কার্ল লুডভিগ ছিলেন অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় সম্রাট ফ্রাঞ্জ জোসেফের ছোট ভাই। হ্যাবসবার্গ গোত্রের লোকেরা একাধারে রোমান সাম্রাজ্য, স্প্যানিশ সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন। এমন একটি রাজবংশে জন্মানোর দরুন মাত্র বারো বছর বয়সেই ফার্ডিনান্ড সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং একত্রিশ বছর বয়সে মেজর জেনারেল পদমর্যাদা লাভ করেন। এর মধ্যে ১৮৮৯ সালে ফার্ডিনান্ডের চাচাতো ভাই, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ ক্রাউন প্রিন্স রুডলফ আত্মহত্যা করে৷ ফলশ্রুতিতে ফার্দিনান্ড অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত হোন৷ 

১৮৯০ সালে সাধারণ এক কাউন্টপত্নী সোফির প্রেমে পড়েন ফার্ডিনান্ড। রাজবংশের সন্তান হয়েও সাধারণ কারো সাথে প্রেম করার বিষয়টি সঙ্গত কারণেই গোপন রাখেন ফার্ডিনান্ড। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্রাট জোসেফ এই প্রণয়কে বিয়েতে রূপ দেওয়ার বিপক্ষে মত জানান। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে এবং তৎকালীন পোপ ত্রয়োদশ লিও এর মধস্ত্যতায় ১৯০০ সালে ফার্ডিনান্ড ও সোফি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন৷  বিয়ের অনুমতি দেওয়ার আগে তাঁদেরকে এই শর্ত  জুড়ে দেওয়া হয়েছিলো যে ফার্ডিনান্ড সোফি দম্পতির কোনো সন্তান রাজবংশের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না৷ 

ক্ষমতায় থাকাকালীন ফার্ডিনান্ড অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় সাম্রাজ্যের দুরবস্থার কথা উপলব্ধি করতে পারেন৷ সাম্রাজ্যের মধ্যকার  ধর্মীয় ও জাতীয়বাদী সংঘাত এড়াতে তিনি ইউনাইটেড স্টেটস অফ গ্রেটার অস্ট্রীয়া নামে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রস্তাব উত্থাপন করেন যা কখনও বাস্তব রূপ পায়নি। তাঁর প্রস্তাবে সবচেয়ে  বড় বাধ সাধে সার্বিয় জাতীয়তাবাদীরা।

১৯০৯ সালে ন্যুজ্ব হয়ে আসা ওসমানি সাম্রাজ্যের বসনিয়া-হার্জেগোভিনা অঞ্চলটি বার্লিনে করা এক চুক্তি অনুযায়ী অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়দের নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সময় অঞ্চলটির জনসংখ্যার ৪০% ছিল সার্বিয়, ৩০% মুসলিম, ২০% ক্রোয়েশিয় এবং বাকি জনসংখ্যা ছিল অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর। বসনিয়ার সার্বিয়রা এবং প্রতিবেশি সার্বিয় রাজ্যের সার্বিয়রা বৃহত্তর স্বাধীন সার্বিয়ার স্বপ্ন দেখতো। তাই বসনিয়ায় অস্ট্রিয় শাসন স্বভাবতই পছন্দ হয়নি সার্বিয় জাতীয়তাবাদীদের। বসনিয়া এবং সার্বিয়া রাজ্যকে সংযুক্তির উদ্দেশ্যে  সার্বিয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপনে বসনিয়ার সার্বিয় জাতীয়তাবাদীদের সমষ্টিতে ব্ল্যাক হ্যান্ড নামে একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলে যাদের স্লোগান ছিলো সংযুক্তি অথবা মৃত্যু।

আরও পড়ুন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং নকল প্যারিস

বসনিয়াতে বসবাসকারী সার্বিয়দের আস্থা অর্জন করতে তাদের জাতীয় উৎসব ভিদোভদান উপলক্ষে ১৯১৪ সালে সস্ত্রীক সারয়েভো সফরে যান ফার্ডিনান্ড। সফরের আগে বারবার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সফর বাতিল করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা আমলে নেন নি৷ 

সফরের শেষদিন অর্থাৎ ২৮ জুন ১৯১৪ তারিখে সারায়েভো শহরে ফার্ডিনান্ডকে নিয়ে একটি গাড়ি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়৷  গাড়িবহরের সাতটি গাড়ির মধ্যে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে হাত নাড়ানোর জন্য ফার্ডিনান্ডের গাড়িটি ছিল ছাদখোলা। প্রথম গাড়িতে শহরের মেয়র ফেহিম জুরজিস,  দ্বিতীয় গাড়ীতে পুলিশ প্রধান ড. এডমন্ড গেরদে  এবং তৃতীয় গাড়িতে ছিলেন ফার্ডিনান্ড আর তাঁর স্ত্রী সোফি। নিরাপত্তার স্বার্থে ফার্ডিনান্ডের সামনের গাড়ীতে মোট ছয়জন সশস্ত্র বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা থাকলেও সেখানে স্থানীয় তিনজন পুলিশের সাথে কেবলমাত্র একজন বিশেষ  নিরাপত্তারক্ষী নিয়োজিত ছিলো। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয় কর্তৃপক্ষ ফার্ডিনান্ডের নিরাপত্তার চেয়ে তাঁর  ভোজনের ওপর বেশি নজর দিয়েছিলো।

সেই  সকালে ওঁদের গাড়িবহরটি  সারায়েভো শহর কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর সাথে দেখা করার জন্য সিটি কর্পোরেশন ভবনের দিকে যাচ্ছিলো। ইতিমধ্যে রাস্তার দুইধারে অগণিত লোক ফার্ডিনান্ড ও সোফিকে  দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছিলো। বহরটি যখন চুমুরিজা সেতুর কাছে আসে তখন ভীড়ের মাঝে ওৎ পেতে থাকা সার্বিয় ব্ল্যাক হ্যান্ড এর  একজন সদস্য  ফার্ডিনান্ডের গাড়ী লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে  মারে, সৌভাগ্যবশত বোমাটি ফার্ডিনান্ডের গাড়ীতে না পড়ে পিছনের গাড়ীতে  পড়ে। এতে গাড়ীর দুইজন আরোহীসহ কয়েকজন পথচারী আহত হন। হামলাকারী ধরা পড়ার আগেই নিজের সাথে থাকা সায়ানাইড ক্যাপসুল  খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

চুমুরিজা সেতু।
চুমুরিজা সেতু। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons 

এই হামলাকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে ফার্ডিনান্ড গাড়িবহর নিয়ে সিটি কর্পোরেশন ভবনের কর্মকতা কর্মচারীদের সাথে পূর্বপরিকল্পিত বৈঠক শেষ করেন। পরে ফার্ডিনান্ড সারায়েভো শহরকেন্দ্রে গিয়ে বোমা হামলায় আহতদের দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রীর অমতে তিনি তাঁর মত পাল্টান এবং তাঁদের অবস্থান করা হোটেলে ফিরে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন। তখনও গাড়ীবহরের ড্রাইভারদের এই যাত্রার পরিবর্তনের কথা জানানো হয় নি, কিন্তু যখন জানানো হয়েছিলো ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে যায়। লাতিন সেতুর কাছে ড্রাইভার গাড়ি ঘুরিয়ে হোটেলের অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার চেষ্টা করলে আগে থেকেই ওই এলাকায় ঘুরঘুর করতে থাকা ব্ল্যাক হ্যান্ডের সদস্য সার্বিয়ান যুবক গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ সুযোগটি লুফে নেয় এবং ফার্ডিনান্ড আর তাঁর স্ত্রী সোফিকে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে দেয়, দুর্ভাগ্যবশত দুইজনই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান৷  

লাতিন সেতু
১৯১৩ সালের লাতিন সেতু। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons
গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ী যে
বিচার চলাকালীন কোর্টের বাইরে গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপ (মাঝখানে ইংরেজিতে ১ নম্বর  চিহ্নিত)। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons 

ফার্দিনান্ড হত্যাকান্ডে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়রা সরাসরি সার্বিয়া সরকারকে দায়ী করে এবং ২৩ শে জুলাই অনেকগুলো শর্ত জুড়ে দিয়ে সেগুলো ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে একটি চিঠি পাঠায় । শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো হ্যাবসবার্গ বিরোধী সকল প্রকাশনা বন্ধ করা, ব্ল্যাক হ্যান্ডকে  নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি। শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি করানোর জন্য জার্মানিও কূটনৈতিকভাবে সার্বিয়ার সাথে আলোচনা চালায়৷ সার্বিয়া সবগুলো শর্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোলা প্যাসিক যুদ্ধের পূর্বাভাস আঁচ করতে পেরে ২৫ শে জুলাই সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন৷ ৪৮ ঘন্টার শর্ত মেনে না নেওয়ায় সার্বিয়ার ওপর যুদ্ধের ডাক দেয় অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়রা এবং জার্মান সম্রাট কাইজের দ্বিতীয় উইলহেম এর সবুজ সংকেত পেয়ে ১৯১৪ সালের ২৮ শে জুলাই সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে বোমা হামলা শুরু করে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়রা, সূচনা হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের৷ বেলগ্রেড হামলার পরপরই সার্বিয়ার পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে নামে রাশিয়া ও ফ্রান্স। অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়দের পক্ষে লড়ছিলো জার্মানি ও বুলগেরিয়া। 

অটোমান সৈন্যবহর পরিদর্শন করছেন জার্মান সম্রাট কাইজার
পূর্ব গ্যালিসিয়ায় (বর্তমান পোল্যান্ড) যুদ্ধে নিয়োজিত অটোমান সৈন্যবহর পরিদর্শন করছেন জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলহেম। চিত্র সূত্র : Wikimedia Commons 

জার্মান ফিল্ড মার্শাল আলফ্রেড ফন শ্লিফেন এর পরিকল্পনা অনুযায়ী জার্মানরা দুই সম্মুখভাগে যুদ্ধ শুরু করে। পশ্চিম দিকে তৎকালীন নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত বেলজিয়ামকে আক্রমন করে তার ওপর দিয়ে ফ্রান্স দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আর পূর্বদিকে রাশিয়ার ওপরও চলে আক্রমণ৷ বেলজিয়াম এবং ফ্রান্সের ওপর আক্রমণের কারণে ব্রিটিশরাও যুদ্ধে যোগ দেয় এবং প্যারিসের ত্রিশ মাইলের মধ্যে অগ্রগামী জার্মান সৈন্যদের পিছু হটতে বাধ্য করে।

শুরতে না জড়ালেও সেনাপ্রধান এনভের পাশার সিদ্ধান্তে ১১ নভেম্বর জার্মানির পক্ষ হয়ে অটোমানরাও  যুদ্ধে জড়িয়ে  পড়ে। পরের বছর অর্থাৎ ১৯১৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অটোমান সেনানায়ক, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের গভর্নর জামাল পাশা এবং অটোমান সেনাবাহিনীর জার্মান কমান্ডার ফ্রেডরিক ক্রেজ ফন ক্রেজেনস্টেইন সম্মিলিতভাবে মিশরের সুয়েজ খাল এলাকায় থাকা ব্রিটিশ সৈন্যদের ওপর যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ যদিও ব্রিটিশদের মারাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশলে শেষ পর্যন্ত অটোমানরা পিছু হটতে  বাধ্য হয়৷ 

১৯১৫ সালের ৭ই মে ব্রিটিশ বেসামরিক জাহাজ লুজিটানিয়া ডুবিয়ে দেয় জার্মান সাবমেরিন ইউবোটস। ডুবে যাওয়া জাহাজের নিহত ১১৯৫ জন যাত্রীর ১০৭ জন ছিলো আমেরিকান। এই  দুর্ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু ঘটনার ফলস্বরূপ আমেরিকানরাও জার্মানির বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধে আমেরিকার যোগদান জার্মানির পরাজয় মোটামুটি নিশ্চিত করে। 

গ্যাভ্রিলো প্রিন্সিপের চালানো গুলির মাধ্যমে  সূচিত হওয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্বমোট ২ কোটি  সামরিক ও বেসামরিক লোক প্রাণ হারান এবং আরও প্রায় ২ কোটি লোক আহত হন। পতন ঘটে অটোমান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়, জার্মান ও রাশিয়ান সাম্রাজ্যের।  জন্ম হয় পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যর অনেকগুলো দেশের।  

তথ্যসূত্র:

প্রচ্ছদ সূত্র: Wikimedia Commons

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: একটি হত্যা এবং ২ কোটি লোকের মৃত্যু

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!