বর্তমান পোপের নাম পোপ ফ্রান্সিস

পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা থেকে সমাপ্তি

4.6
(14)
Bookmark

No account yet? Register

পোপ ক্যাথলিক সমাজের সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি। ৯ম শতাব্দী থেকে চলে আসা এক ঐতিহ্যের বাহক হচ্ছেন পোপ। একই সাথে ভ্যাটিকেন সিটি নামের রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানের পদে তিনি আসীন থাকেন। এ কারণে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিরোধ মীমাংসা বা শান্তি-চুক্তি যাই হোক না কেন, পোপ এসকল কিছুতেই বেশ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। সারা বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীর কাছে পোপ অত্যন্ত শ্রদ্ধার একজন ব্যক্তি। 

অসামান্যতে লিখুন

ল্যাটিন ভাষার ‘পাপা’ শব্দটি থেকে প্রাচীন ইংরেজি ভাষায় ৯ম শতাব্দীতে ‘পাপ্পা’ শব্দটি গৃহীত হয়। এই শব্দটির অর্থ হল শিক্ষক। তারপরে এই শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করে। অন্য আরেক সূত্রানুযায়ী, শব্দটির উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘পাপ্পা’ থেকে যার অর্থ পিতা। বর্তমান সময়ে পোপ শব্দ দ্বারা খ্রিষ্টান ক্যাথলিক সমাজের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে বুঝানো হয় যিনি রোমান ক্যাথলিক সমাজের প্রধান এবং রোম এর আর্চবিশপ। ‘পাপাসি’ শব্দটি দ্বারা পোপ এর দায়িত্বকে বুঝানো হয়। অনেক সময় ‘পাপ্পাসি’ শব্দ দ্বারা পোপ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকেও বুঝানো হয়ে থাকে।

পোপ এবং প্রাককথন

নিউ টেস্টামেন্টের অন্তর্গত ‘গসপেল অফ জন‘ এর ২১তম খণ্ড অনুযায়ী যিশু নিম্নোক্ত উপায়ে পোপ নির্বাচনের আদেশ দিয়েছেন – 

সকালের নাস্তা শেষ করে, যিশু শিমোন পিটারকে বললেন, ‘হে যোহনের ছেলে শিমোন, তুমি কি এগুলো থেকে আমাকে বেশি ভালোবাসো?’ পিটার তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু; আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি.’ যিশু তাকে বললেন, ‘আমার মেষশাবককে ভোজন করাও।

তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার বললেন, ‘শোন শোন, যোহনের পুত্র পিটার, তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?’ পিটার তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু; আপনি জানেন যে, আমি আপনাকে ভালবাসি.’ তিনি তাকে বললেন, ‘আমার মেষদের চরাও’।

যিশু তৃতীয়বার পিটারকে বললেন, ‘শোন শোন যোহনের পুত্র, তুমি কি আমাকে ভালবাসো?’ তিনি তৃতীয়বার তাকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে ভালবাসো?’ তিনি তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি সব জানেন; তুমি জান যে, আমি তোমাকে ভালবাসি.’ যিশু তাকে বললেন, ‘আমার মেষগুলিকে ভোজন করাও। 

এভাবেই যিশুখ্রিষ্ট মূলত তাঁর মেষশাবকের দেখাশনা করার জন্য পিটারকে নিয়োগ করেছিলেন। এখানে মেষশাবক আসলে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। মেষশাবকের আড়ালে তিনি পিটারকে সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টিকর্তার প্রেম এবং জ্ঞান বিতরণের নির্দেশ করেছেন।একজন পোপের দায়িত্ব আসলে এসবই। আর এভাবেই খ্রিষ্টধর্মের চোখে পিটার হলেন সর্বপ্রথম পোপ।

পোপ যিশুর শিক্ষা ও প্রেম প্রচারে নিয়োজি।
চিত্র : যিশু কর্তৃক সেন্ট পিটারকে নির্দেশনা প্রদান; চিত্রসূত্র – Wikimedia Commons

পোপ হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি 

পোপ হিসেবে যেকোনো অবিবাহিত ক্যাথলিক পুরুষ নির্বাচিত হতে পারেন। তবে শুনে যেমন মনে হচ্ছে, ব্যাপারটি তেমন সহজ না। এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রস্ততির প্রয়োজন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হয় কোনো একটি ক্যাথলিক চার্চে ফাদার হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে।

ফাদার হওয়ার শর্তাবলী

ফাদার হিসেবে নিয়োগের জন্য একজন ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে –

  • তাঁকে ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে। যেকোনো বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন ব্যক্তিই এই কাজের জন্য উপযুক্ত। তবে ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন বা ধর্মতত্ত্বে স্নাতক সম্পন্ন করলে সেক্ষেত্রে তিনি আগে বিবেচিত হবেন। সাথে সাথে চার্চ কমিউনিটির সাথে মানিয়ে চলার অংশ হিসেবে তাঁকে এই সময়ে চার্চের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হবে।
  • আবেদনে ইচ্ছুক ব্যক্তি যদি নিজেকে মানসিকভাবে ফাদার হিসেবে কাজ করার উপযুক্ত মনে করেন, তবে তিনি এবার সংশ্লিষ্ট চার্চে আবেদন করতে পারবেন।
  • এরপরে তাঁকে যেতে হবে সেমিনারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। এখানে তাঁকে চার বছরব্যাপী বাইবেল সংক্রান্ত শিক্ষা, চার্চের ইতিহাস, প্রার্থনা পরিচালনা এর মত মৌলিক বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।
  • পূর্বোক্ত তিন ধাপ শেষে একজন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ফাদার হিসেবে স্বীকৃতি পান। এক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ফাদার হিসেবে যোগদান করতে বয়স সর্বনিম্ন ২৫ বছর হতে হবে।
পোপ হওয়ার প্রথম ধাপ ফাদার হিসেবে নিয়োগ।
চিত্র : গির্জার একজন ফাদার স্থানীয়ভাবে খ্রিষ্টধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন; চিত্রসূত্র – Daily Telegraph

বিশপ হওয়ার শর্তাবলী

ফাদার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পরে, এবার তাঁর পালা হলো ফাদার হিসেবে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দেওয়া এবং পরবর্তী ধাপ তথা বিশপ হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি। বিশপ হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত শর্তাবলী পূরণ করতে হয় –

  • সর্বপ্রথম তাঁকে ৫ বছর একটি চার্চের ফাদার হিসেবে কর্মরত থাকতে হবে।
  • প্রথমে তাঁকে ধর্মতত্ত্বের উপরে আনুষ্ঠানিকভাবে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। এই প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত হয় কোনো একটি সেমিনারির অধীনে। সাধারণত প্রতিটি চার্চই কোনো না কোনো সেমিনারির সাথে সংযুক্ত থাকে। সাধারণত এই ডিগ্রি অর্জনে প্রায় ৪ বছরের প্রয়োজন হয়।
  • এরপরে স্থানীয় চার্চে তাঁকে ফিরে এসে তাঁকে নিজের কাজে নিয়োজিত থাকতে হয়।
  • এই অবস্থায় স্থানীয় অর্থাৎ অত্র এলাকার নিয়োজিত বিশপ ফাদার হিসেবে কর্মরতদের মধ্যে কিছু  নাম একটি গোপন লিস্টে নথিবদ্ধ করে সংশ্লিষ্ট দেশে পোপ এর নিযুক্ত প্রতিনিধির কাছে প্রেরণ করেন। এই লিস্টে উক্ত বিশপ কাকে নথিবদ্ধ করেছেন, তা সম্পূর্ণরূপে গোপন থাকে।
  • এখানেই শেষ নয়। এই প্রতিনিধির থেকে মাত্র তিনজনের নাম প্রেরিত হয় ভ্যাটিকেন সিটিতে অবস্থিত পোপের কার্যালয়ে। সেখানে যথেষ্ট যাচাই-বাছাই শেষে কোনো একজনের নাম নির্ধারিত হয়। তবে যদি কোনো কারণে ভ্যাটিকেন সিটিতে পোপের কার্যালয়ে বাছাইয়ের সময় কোনো ব্যক্তিকে অযোগ্য মনে হয়, তবে সেই তিনজনেরই নাম বাতিল করা হয় এবং স্থানীয় প্রতিনিধিকে আবার নতুন তিনজনের নাম পাঠাতে বলা হয়।
  • তারপরে কোনো একজন ব্যক্তিকে বাছাই করা হয়। তবে কাকে নির্বাচন করা হলো, সেই তথ্য সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হয়।
  • তারপরে অপেক্ষা করার পালা। যতদিন না স্থানীয় পর্যায়ে কোনো বিশপ এর পদ খালি না হয় (মৃত্যু বা অবসরজনিত কারণে), ততদিন নিয়োগ আটকে থাকে।
বিশপ ফাদারদের তুলনায় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
চিত্র : বিশপ মূলত ফাদারদের তুলনায় বৃহৎ এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করেন, চিত্রসূত্র – diocesehelena

কার্ডিনাল এবং বিশপ

বিশপ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে থাকেন এবং পরবর্তী পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এর পরবর্তী ধাপ হলো কার্ডিনাল। মূলত কার্ডিনাল হলেন একজন অতিরিক্ত দায়িত্বের অধিকারী বিশপ যার কর্মক্ষেত্র তুলনামূলক বড়। যেখানে বিশপ এর কর্মক্ষেত্র স্থানীয় পর্যায়ের, সেখানে একজন কার্ডিনাল এর দায়িত্ব কোনো একটি দেশ বা বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। 

কার্ডিনাল প্যাট্রিক রোজারিও বাংলাদেশ থেকে নিযুক্ত প্রথম কার্ডিনাল।
চিত্র : বাংলাদেশ থেকে নিযুক্ত প্রথম কার্ডিনাল, চিত্রসূত্র – croix

সকল কার্ডিনাল একত্রে ‘কলেজ অফ কার্ডিনাল’ নামে পরিচিত। এই সকল কার্ডিনালের মধ্যে থেকেই তাঁরা নিজেরা ভোট প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে পোপ নির্বাচন করেন। তবে সকল কার্ডিনালই কিন্তু ভোট প্রদানের জন্য অনুমোদিত নন। কিছু নির্দিষ্ট শর্তের পরিপ্রেক্ষিতেই একজন কার্ডিনাল পোপ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য অনুমোদিত হন। ১৯৭৫ সালের নিয়মানুযায়ী যেসকল কার্ডিনালের বয়স ৮০ বছরের বেশি, তাঁরা পোপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননা।   

আরো পড়ুন: লাস ভেগাস: মায়াজালের যে শহরে পাপ কুড়ানো হয়

পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়া 

সাধারণত অল্প কিছু উদাহরণ ব্যতীত (উদাহরণ: পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট, পোপ দ্বাদশ গ্রেগরি) প্রায় সকল পোপ নির্বাচনের পর থেকে আমৃত্যু পোপের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। যখনই কোনো পোপ দায়িত্ব থেকে অবসরগ্রহণ করেন অথবা মৃত্যুবরণ করেন, তখন সকল পোপ নির্বাচক কার্ডিনালেরা ভ্যাটিকেন সিটিতে এসে উপস্থিত হন। তাঁরা ‘জেনারেল কংগ্রেগেশন’ নামের একটি সভায় উপস্থিত হন এবং পরবর্তী পোপ নির্বাচনের সকল বিষয় সবাই মিলে ঠিক করেন। 

কলেজ অফ কার্ডিনালের সকল সদস্য।
চিত্র : পোপ নির্বাচনের জন্য কার্ডিনালগণ সভাকক্ষে সমবেত হয়েছেন; চিত্রসূত্র – America Magazine

পূর্বোক্ত পোপের অসমাপ্ত সকল কাজ যা করার এখতিয়ার কেবলমাত্র পোপের রয়েছে, সেই সকল কাজ পোপ নির্বাচনের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। সকল কাজ বাদ দিয়ে তখন মূল মনোযোগ থাকে পোপ নির্বাচনের দিকে। 

পোপ নির্বাচনে ভোটপ্রদান প্রক্রিয়া

সকল কার্ডিনাল এসে সিস্টিন চ্যাপেলের সভাকক্ষে উপস্থিত হন এবং বাহিরের পৃথিবীর সকল কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। সিস্টিন চ্যাপেলের সভাকক্ষের দরজা বন্ধ করার আগে তাঁরা সকলে এই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য গোপন রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। এরপরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়া। 

সকল কার্ডিনাল সারিবদ্ধভাবে এসে ভোট প্রদান করেন।

ভোট গণনা প্রক্রিয়া

একবার ভোট প্রদান পর্ব শেষ হলে শুরু হয় ভোটগণনা প্রক্রিয়া। প্রতিটি ভোট উচ্চস্বরে একবার উচ্চারণ করা হয় এবং তিনজন আলাদা আলাদা কার্ডিনাল একে লিপিবদ্ধ করেন। শেষে এই তিনজনের তালিকা মিলিয়ে দেখা হয়। 

যদি কোনো কার্ডিনালই নির্ধারিত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পান, তবে সকল ব্যালট পটাশিয়াম পারক্লোরেট এবং সালফার সহযোগে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হয়। এই কালো ধোঁয়া দেখে বাহিরের জনগণ বুঝতে পারেন যে, এখন পর্যন্ত কোনো পোপ নির্বাচিত হননি। 

বাহিরে অপেক্ষমাণ জনগণ ও সংবাদমাধ্যমকে জানানোর জন্য এরূপ উপায় অবলম্বন করা হয়।
চিত্র :  সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে, চিত্রসূত্র – Yahoo news

যদি টানা তিনদিন ভোটগ্রহণের পরও কোনোরূপ সমাধান না পাওয়া যায়, তবে একদিনের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।

বাহিরে অপেক্ষমাণ জনগণ নতুন পোপকে দেখতে আগ্রহী।
চিত্র : ভোটকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ, চিত্রসূত্র – Edition

অন্যদিকে যদি কেউ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়ে যান, তবে কার্ডিনাল ডিন সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটপ্রাপ্ত কার্ডিনালের কাছে যান এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি এই ফলাফল স্বীকার করছেন কী না। তাঁর উত্তর হ্যাঁ হলে, তখন যাবতীয় ব্যালট পটাশিয়াম ক্লোরেট এবং রেসিন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তখন সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হয়। তখন বাহিরে অপেক্ষমাণ সকল মানুষ বুঝতে পারেন যে, নতুন পোপ নির্বাচিত হয়ে গেছেন।

বাহিরে অপেক্ষমাণ জনগণ ও সংবাদমাধ্যমকে জানানোর জন্য এরূপ উপায় অবলম্বন করা হয়।
চিত্র :  সিস্টিন চ্যাপেলের চিমনি দিয়ে সাদা ধোঁয়া বের হচ্ছে, চিত্রসূত্র – National Geographic

ভোটের মূল ফলাফলের একটি কপি নবনির্বাচিত পোপের হাতে হস্তান্তরিত করা হয়। তিনি তা গোপনীয় একটি আর্কাইভে সংরক্ষণ করেন যাতে পরবর্তীতে কোনো কারণে প্রয়োজন হলে সহজে ব্যবহার করা যায়। 

নির্বাচন পরবর্তী কার্যাদি

তারপরে নতুন পোপ ইচ্ছা করলে নিজের জন্য পোপ হিসেবে একটি নাম বাছাই করতে পারেন। এই নামেই তিনি জনসাধারণের কাছে পরিচিত হবেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই কার্ডিনাল ডিন সেন্ট পিটার্সের বারান্দায় এসে ল্যাটিন ভাষায় ঘোষণা দেন, “Habemus Papam” অর্থাৎ “We have a pope”। 

নতুন পোপের নাম এরপরে জনগণের সামনে ঘোষণা করা হয় এবং তিনি প্রকাশ্যে আসেন।

বর্তমান পপের নাম পোপ ফ্রান্সিস।
চিত্র : নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রথম সেন্ট পিটার্সের বারান্দায় পোপ ফ্রান্সিস, চিত্রসূত্র – Wikimedia Commons 

তিনি জনসাধারণের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলবেন। কথা বলা শেষ হলে, প্রচলিত আশীর্বাদ বাণী তিনি উচ্চারণ করবেন, “Urbi et Orbi”; যার অর্থ হলো, “To the city and the world” এবং এই ক্ষণ থেকেই নতুন একজন পোপের যুগের সূচনা হবে।

ফিচার চিত্রসূত্র – WXXI News

তথ্যসূত্র :

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
One Thought on পোপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা থেকে সমাপ্তি
    MD. Jubair Hasan
    22 Sep 2020
    3:02pm

    informative

    2
    0

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!