তিগ্রাই সঙ্কট: ইথিওপিয়ায় নতুন গৃহযুদ্ধের সূচনা? পর্ব ১

4.3
(12)
Bookmark

No account yet? Register

২০২০ সালের ৪ নভেম্বর থেকে পূর্ব আফ্রিকান রাষ্ট্র ইথিওপিয়ায় ইথিওপীয় সরকার এবং তিগ্রাই অঞ্চলের আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাত আরম্ভ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, এবং ইথিওপীয় সৈন্যরা তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকেল্লে দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের এখনো অবসান ঘটে নি, এবং এই সংঘাত একটি পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধে রূপ নিতে পারে, এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এবং কীভাবে এই সংঘাত শুরু হলো?

ইথিওপিয়া: বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র

পূর্ব আফ্রিকায় ‘আফ্রিকার শৃঙ্গ’ (Horn of Africa) নামে পরিচিত অঞ্চলটিতে অবস্থিত বৃহৎ রাষ্ট্র ইথিওপিয়া। রাষ্ট্রটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ ইথিওপিয়া’, এবং সাংবিধানিকভাবে এটি একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রটি উত্তরে ইরিত্রিয়া, উত্তর–পূর্বে জিবুতি, পূর্বে সোমালিয়া, দক্ষিণে কেনিয়া, পশ্চিমে দক্ষিণ সুদান এবং উত্তর–পশ্চিমে সুদান দ্বারা পরিবেষ্টিত। ১১,০৪,৩০০ বর্গ কি.মি. আয়তনবিশিষ্ট রাষ্ট্রটির রাজধানী ও বৃহত্তম শহর আদ্দিস আবাবা, এবং রাষ্ট্রটির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৯২ লক্ষ। জনসংখ্যার দিক থেকে রাষ্ট্রটি বিশ্বের দ্বাদশ বৃহত্তম ও আফ্রিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র, এবং স্থলবেষ্টিত এই রাষ্ট্রটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।

ইথিওপিয়া ১০টি অঞ্চল (যেগুলোর মধ্যে তিগ্রাই একটি) ও ২টি চার্টার শহরে বিভক্ত, এবং ইথিওপিয়ার জাতিগত বৈচিত্র‍্যের ভিত্তিতে এই প্রশাসনিক বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। ইথিওপিয়া একটি বহুজাতিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রটির মোট জনসংখ্যার ৩৪.৯% ওরোমো, ২৭.৯% আমহারা, ৭.৩% তিগ্রাইয়ান এবং বাকিরা অন্যান্য বিভিন্ন জাতিভুক্ত। অনুরূপভাবে, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রভাষা ৬টি – আমহারিক, আফান ওরোমো, তিগ্রিনিয়া, সোমালি, আফার ও ইংরেজি, যদিও আমহারিক রাষ্ট্রটিতে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ভাষা। ইথিওপিয়ার মোট জনসংখ্যার ৬২.৮% খ্রিস্টান, ৩৩.৯% মুসলিম এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

ইথিওপিয়া এবং ইথিওপিয়ার অন্তর্গত উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চল এর মানচিত্র
[চিত্র: মানচিত্রে ইথিওপিয়া এবং ইথিওপিয়ার অন্তর্গত উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চল; চিত্রসূত্র: The Washington Post]

ইথিওপিয়া: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ইথিওপিয়ার বর্তমান সঙ্কট সম্পর্কে জানার আগে রাষ্ট্রটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জেনে নেয়া জরুরি। ইথিওপিয়া ছিল একটি প্রাচীন রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র, এবং এটি আফ্রিকার মাত্র দুইটি রাষ্ট্রের মধ্যে একটি, যেটিকে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় কোনো রাষ্ট্র উপনিবেশে পরিণত করতে পারে নি (অপর রাষ্ট্রটি ছিল লাইবেরিয়া)। ১৯৩৫–১৯৩৬ সালের দ্বিতীয় ইতালীয়–ইথিওপীয় যুদ্ধের সময় ইতালি ইথিওপিয়াকে দখল করে নেয়, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সৈন্যরা ইথিওপিয়াকে মুক্ত করে এবং ইথিওপিয়া পুনরায় স্বাধীনতা অর্জন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্ব আফ্রিকায় অবস্থিত প্রাক্তন ইতালীয় উপনিবেশ ইরিত্রিয়াকে ইথিওপিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়, কিন্তু ১৯৬০–এর দশকে ইরিত্রীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্বাধীনতার জন্য ইথিওপীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ১৯৭৪ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে ইথিওপিয়ায় রাজতন্ত্রের পতন ঘটে, এবং তদস্থলে একটি কমিউনিস্ট সামরিক সরকার ইথিওপিয়ার শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

কিন্তু ইথিওপিয়ার বিভিন্ন দল কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, এবং ইথিওপিয়া জুড়ে একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়, যেটি ইথিওপিয়াকে স্নায়ুযুদ্ধের একটি রণাঙ্গনে পরিণত করে। ইথিওপিয়ার বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী দল ছিল ‘তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট’ (টিপিএলএফ), যেটি মূলত ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত তিগ্রাই অঞ্চলভিত্তিক ছিল। টিপিএলএফ ও অন্যান্য বিদ্রোহী দল ইরিত্রীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে, এবং ইথিওপীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ১৯৮৯ সালে ইথিওপিয়ার বিদ্রোহী দলগুলো ‘ইথিওপিয়ান পিপলস রেভোলিউশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইপিআরডিএফ) নামক একটি জোট গঠন করে, যেটির নেতৃত্বে ছিল টিপিএলএফ। এসময় পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের পতন ঘটার ফলে ইথিওপীয় সরকার পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন হারিয়ে ফেলে, এবং ১৯৯১ সালে ইপিআরডিএফ কর্তৃক আদ্দিস আবাবা দখলের মধ্য দিয়ে ইথিওপীয় গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

কমিউনিজমের পতনের পর ইথিওপিয়াকে জাতিগত বৈচিত্র‍্যের ভিত্তিতে একটি ফেডারেশনে পরিণত করা হয় এবং প্রতিটি অঞ্চলকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। তখন থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইপিআরডিএফ ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী ছিল, এবং টিপিএলএফ এই জোটের প্রধান দল হিসেবে মূল ক্ষমতার অধিকারী ছিল। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া একটি গণভোটের মাধ্যমে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, এবং এর ফলে টিপিএলএফ ও ইরিত্রীয়দের মধ্যেকার আগেকার সৌহার্দ্য শত্রুতায় পরিণত হয়। ১৯৯৮–২০০০ সালে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে যুদ্ধ হয়, এবং এই যুদ্ধে ইথিওপিয়া জয়ী হয়।

টিপিএলএফ সভাপতি দেব্রেৎসিওন গেব্রেমাইকেল
[চিত্র: ২০১৯ সালে টিপিএলএফ সভাপতি দেব্রেৎসিওন গেব্রেমাইকেল; চিত্রসূত্র: EPA/Shutterstock via The Wall Street Journal]

২০১৮ সাল পর্যন্ত টিপিএলএফ ছিল ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক। যদিও তিগ্রাইয়ানরা ইথিওপিয়ার মোট জনসংখ্যার ৮%–এরও কম, কিন্তু টিপিএলএফের আধিপত্যের কারণে ইথিওপিয়ার রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাদের এই আধিপত্য ইথিওপিয়ার অন্যান্য জাতিকে অসন্তুষ্ট করে। প্রায় ২৭ বছরব্যাপী শাসনকালে টিপিএলএফ ইথিওপিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, কিন্তু তাদের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি নিষ্পেষণের কারণে জনসাধারণের বড় একটি অংশ তাদের ওপর অসন্তুষ্ট ছিল।

আবি আহমেদের উত্থান

জনসাধারণের এই অসন্তোষ তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং ২০১৮ সালে ইথিওপীয় আইনসভা ইপিআরডিএফের অন্তর্গত আরেকটি দল ‘ওরোমো ডেমোক্রেটিক পার্টি’র নেতা আবি আহমেদ আলীকে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করে।

জাতিগতভাবে ওরোমো এবং ধর্মগতভাবে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার আর্মি ইন্টেলিজেন্সের একজন প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং রাজনীতিতে যোগদানের আগে তিনি ইথিওপিয়ার সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ‘ইনফর্মেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সি’র উপ–পরিচালক ছিলেন। তিনি  ইথিওপিয়াকে একটি লিবারেল ডেমোক্রেসিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সৌহার্দ্য স্থাপনের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন, হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যেকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছেন (যেজন্য তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে)। কিন্তু তাঁর গৃহীত নীতি টিপিএলএফকে অসন্তুষ্ট করেছে, এবং ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও তিগ্রাই অঞ্চলের আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: কৃষ্ণসাগরে মিসরীয় নৌবাহিনী: রুশ, মিসরীয় এবং তুর্কি ভূরাজনীতির এক ঝলক

ইথিওপিয়া–তিগ্রাই দ্বন্দ্বের কারণসমূহ

প্রথমত, ১৯৯১ সালের পর থেকে আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি টিপিএলএফের সদস্য না। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ক্ষমতা লাভকে টিপিএলএফ নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ইথিওপীয় প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী এবং ইরিত্রীয় রাষ্ট্রপতি ইসাইয়াস আফবের্কি এক ফ্রেমে বন্দী
[চিত্র: ইথিওপীয় প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী (ডানে) এবং ইরিত্রীয় রাষ্ট্রপতি ইসাইয়াস আফবের্কি এক ধরনের মৈত্রী গড়ে তুলেছেন; চিত্রসূত্র: Eduardo Soteras/Agence France-Presse/Getty Images via The Wall Street Journal]

দ্বিতীয়ত, ২০১৯ সালের নভেম্বরে আবি আহমেদ ইথিওপিয়ার ক্ষমতাসীন জোট ইপিআরডিএফকে বিলুপ্ত করেছেন এবং নতুন একটি কেন্দ্রীয় দল ‘প্রোস্পারিটি পার্টি’ গঠন করেছেন। ইপিআরডিএফের অন্তর্গত ৪টি দলের মধ্যে ৩টি – ওরোমো ডেমোক্রেটিক পার্টি (ওডিপি), আমহারা ডেমোক্রেটিক পার্টি (এডিপি) এবং সাউদার্ন ইথিওপিয়ান পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এসইপিডিএম) – আহমেদের ‘প্রোস্পারিটি পার্টি’তে যোগ দিয়েছে। ইপিআরডিএফের অন্যান্য শরিক দলগুলোও এই দলে যোগ দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার এই নতুন বিন্যাসকে টিপিএলএফ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এবং আহমেদের কার্যক্রমকে বেআইনি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বস্তুত, নতুন এই দল গঠনের মধ্য দিয়ে আহমেদ টিপিএলএফের সামনে দুইটি মাত্র পথ খোলা রেখেছেন – হয় তাদেরকে তাদের আধিপত্য ত্যাগ করে আহমেদের অধীনতা স্বীকার করে নিতে হবে, নয়ত তাদেরকে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতার পুরোপুরি বাইরে চলে যেতে হবে। উভয় পথই প্রায় তিন দশক ধরে চলে আসা টিপিএলএফের রাজনৈতিক আধিপত্যকে হুমকির সম্মুখীন করেছে। টিপিএলএফ শেষোক্ত পথটিই বেছে নিয়েছে এবং সরাসরি সংঘাতের পথে অগ্রসর হয়েছে। তাদের ইথিওপীয় কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রয়েছে, কারণ প্রায় আড়াই লক্ষ লোক টিপিএলএফের সশস্ত্রবাহিনীতে রয়েছে, যারা রকেট ও ভারী কামানের মতো ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত। ‘তিগ্রাই আঞ্চলিক স্পেশাল ফোর্সেস’, ‘তিগ্রাই আঞ্চলিক পুলিশ বাহিনী’ ও বিভিন্ন আঞ্চলিক মিলিশিয়া তিগ্রাই আঞ্চলিক সরকারের আওতাধীন, এবং তাদের আনুগত্য ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি নয়, বরং তিগ্রাই আঞ্চলিক সরকার তথা টিপিএলএফের প্রতি।

তৃতীয়ত, ২০২০ সালে ইথিওপিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড–১৯ মহামারীর কারণে (বা এই অজুহাত দেখিয়ে) প্রধানমন্ত্রী আহমেদ নির্বাচন স্থগিত করেছেন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। এটিকে টিপিএলএফ বেআইনি হিসেবে ঘোষণা করেছে, এবং তাদের ধারণা, নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্যই আহমেদ এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমতাবস্থায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে টিপিএলএফ ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন বোর্ডকে তিগ্রাই অঞ্চলে নির্বাচনের আয়োজন করার অনুরোধ জানায়, কিন্তু ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এটি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর টিপিএলএফ তিগ্রাইয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন বোর্ড গঠন করেছে এবং সেখানে নির্বাচনের আয়োজন করেছে, যেটিতে স্বভাবতই টিপিএলএফ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এই নির্বাচনকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলের উত্তরে ইরিত্রিয়া অবস্থিত
[চিত্র: ইথিওপিয়ার তিগ্রাই অঞ্চলের উত্তরে ইরিত্রিয়া অবস্থিত এবং বর্তমানে টিপিএলএফের সঙ্গে ইরিত্রীয়দের সম্পর্ক ভালো নয়; চিত্রসূত্র: The Wall Street Journal]

চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রী আহমেদ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন করেছেন এবং ইরিত্রিয়ার রাষ্ট্রপতি ইসাইয়াস আফবের্কির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। কিন্তু টিপিএলএফ এটি নিয়ে অসন্তুষ্ট। টিপিএলএফ ও ইরিত্রীয় সরকারের মধ্যে সম্পর্ক ভালো নয়, এবং টিপিএলএফ নেতাদের ধারণা, তাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্যই আহমেদ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

সর্বোপরি, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিগ্রাইয়ে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নির্বাচনের পর ক্ষিপ্ত ইথিওপীয় সরকার টিপিএলএফকে শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং অক্টোবরে ইথিওপীয় আইনসভা তিগ্রাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন স্থগিত রাখার পক্ষে ভোট দেয়। এর ফলে টিপিএলএফ আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি ঘটে।

চলবে …

প্রচ্ছদসূত্র: বিবিসি

তথ্যসূত্র:

1. Alex De Waal. Tigray crisis viewpoint: Why Ethiopia is spiralling out of control. BBC, November 15, 2020. https://www.bbc.com/news/world-africa-54932333

2. Nicholas Bariyo and Gabriele Steinhauser. Ethiopia: What We Know About the War in the Tigray Region. The Wall Street Journal, December 2, 2020. https://www.wsj.com/articles/ethiopia-what-we-know-about-the-war-in-the-tigray-region-11605530560

3. Simon Marks. Ethiopia’s internal conflict explained. POLITICO, November 18, 2020.https://www.politico.eu/article/ethiopia-internal-conflict-explained/

4. Siobhan O’Grady. What is behind the conflict in Ethiopia? The Washington Post, November 23, 2020. https://www.politico.eu/article/ethiopia-internal-conflict-explained/

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on তিগ্রাই সঙ্কট: ইথিওপিয়ায় নতুন গৃহযুদ্ধের সূচনা? পর্ব ১

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!