প্রচ্ছদ চিত্র

শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন: একজন দিগ্বিজয়ী বীর (১ম পর্ব)

করবী কানন শিশির
4.8
(26)
Bookmark

No account yet? Register

শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন হলেন মাশরিক থেকে মাগরিব অর্থাৎ পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমের অধিপতি। অনেক ঐতিহাসিক তাঁকে কেবল শাহেনশাহ বলেই নিবৃত্ত হননি, তাঁকে আল্লাহর নবিও বলেছেন। তিনি কি সত্যিই আল্লাহর প্রেরিত কোনো নবি ছিলেন? নাকি তিনিই মহাবীর আলেকজান্ডার? চলমান নিবন্ধে অসামান্য পাঠকদের জন্য থাকছে সেই দিগ্বিজয়ী বীর শাহ সিকান্দার জুলকারনাইনের কথা। ধারাবাহিকের প্রথম পর্বে জুলকারনাইনের পরিচয়, তাঁর নামকরণের ইতিহাস, তিনি নবি ছিলেন নাকি সেই সংশ্লিষ্ট আলোচনা এবং তাঁর সফরসমূহের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে।

অসামান্যতে লিখুন

প্রেক্ষাপট  

হজরত সালেহ (আ.) এর ইন্তিকালের পর হজরত ইবরাহিম (আ.) এর আগমনের পূর্ব পর্যন্ত যে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছিল, তার প্রথমাংশে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক দ্বীনি ভাবধারা বিরাজ করলেও মধ্যম ও শেষাংশে তা তিরোহিত হয়ে যায়। এমন কি মানুষ তখন সৃষ্টিকর্তা বলে কোনো কিছু আছে বলে স্বীকার করতো না। ধর্মীয় ব্যাপারে নিরাকার সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের পরিবর্তে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা অর্চনা শুরু হয়েছিলো। এই অবস্থাকে দূর করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা শাহ সিকান্দার জুলকারনাইনকে প্রবল ক্ষমতার অধিকারী করে একজন ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন।    

জুলকারনাইন কে ছিলেন?

তিনি একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ন বাদশাহ ছিলেন এবং পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের দেশসমূহ জয় করেছিলেন। এইসব দেশে তিনি সুবিচার ও ইনসাফের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁকে সর্বপ্রকার সাজ-সরঞ্জাম দান করা হয়েছিলো। দিগ্বিজয়ের লক্ষ্যে বের হয়ে তিনি পৃথিবীর তিন প্রান্তে পৌঁছেছিলেন। পাশ্চাত্যের শেষ প্রান্ত থেকে প্রাচ্যের শেষ প্রান্তে ও উত্তরের পর্বতমালার পাদদেশ পর্যন্ত। এখানেই তিনি দুই পর্বতের মধ্যবর্তী গিরিপথ কে একটি সুবিশাল লৌহ প্রাচীর দ্বারা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যার ফলে ইয়াজুজ-মাজুজের লুটতরাজ থেকে এলাকার জনগণ নিরাপদ হয়েছিলো।

জুলকারনাইন সফর করছেন এমন একটি প্রতীকী চিত্র
একটি প্রতীকী চিত্র | চিত্রসূত্রঃ নিজস্ব সংগ্রহ

জুলকারনাইনই কি আলেকজান্ডার?

অনেকের মতে শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন ও মহাবীর আলেকজান্ডার একই ব্যক্তি ছিলেন,  কেবল নামের পার্থক্য ছিল। আবার অনেকের মতে দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন যামানার ব্যক্তি। পরস্পরের আগমনের দূরত্ব ছিল দীর্ঘকাল। আলেকজান্ডার পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্য জয় করে বিস্তৃত সাম্রাজ্য গড়েছেন ঠিকই কিন্তু তিনি ইসলামে বিশ্বাসী ছিলেন না। অন্য দিকে জুলকারনাইন ছিলেন খাঁটি ঈমানদার, পরহেযগার, ন্যায়পরায়ণ একজন বাদশাহ। পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত শুধু রাজ্য জয় করাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি মূলত অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে প্রজাদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই সেই রাজ্য জয় করতেন আর পরবর্তীতে ‘সত্য’ ধর্ম ইসলাম প্রচার করতেন। এই কারণটিই জুলকারনাইন এবং আলেকজান্ডার ভিন্ন ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণের পক্ষে অধিক গ্রহণযোগ্য। 

নামকরণ 

শাহ সিকান্দার ইস্কান্দারিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে অনেকের ধারণা এই নাম থেকেই তার নাম সিকান্দার। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে বাল্যকালেই তাঁর পিতামাতা এই নাম রেখেছিলেন। অর্থাৎ জন্মস্থানের সাথে তাঁর নামের কোনো সম্পর্ক নেই।

জুলকারনাইন তাঁর প্রকৃত নাম নয়। এটি ছিল তাঁর উপাধি। এই উপাধিটি তাঁর নামের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বহু ব্যক্তির বহু মত আছে। অনেকের মতে আরবীতে যু শব্দের অর্থ ধারক বা অধিকারী এবং কারনাইন শব্দটি আরবী কারণ শব্দের দ্বিবচন, যার অর্থ শিং। একারণেই তাঁকে জুলকারনাইন বলা হতো। অনেকে বলেছেন এটা নিছকই কল্পনা প্রসূত। তাঁর শিং ছিলো এমন কোনো প্রমাণ নেই। 

অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্তের স্থান পর্যন্ত অর্থাৎ সমগ্র খণ্ডের অধিপতি হওয়ার কারণে তাঁর এমন নামকরণ করা। আবার অন্যান্যদের মতে আরবী শব্দে শতাব্দীকেও কারণ বলা হয়। শাহ সিকান্দার দুই শতাব্দী ধরে বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। সুতরাং এটাই তাঁর জুলকারনাইন নামের রহস্য।

জুলকারনাইন কী নবি ছিলেন?

শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন যে পৃথিবীর এক বিশাল এলাকার একজন সুশাসক, সুবিচারক ও অতি ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ছিলেন সে বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। তবে অনেকে তাঁকে নবি বলে থাকেন। প্রমাণস্বরূপ তারা বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা শাহ সিকান্দারকে প্রত্যক্ষ সম্বোধন করে আয়াত নাজিল করেছেন। অর্থাৎ তাঁর ওপর ওহী নাজিল হয়েছে। কিন্তু নবি রাসূল ব্যতীত আর কারোর ওপর ওহী নাজিল হয় নি। 

দ্বিতীয় প্রমাণ হিসেবে তাদের যুক্তি হলো – জুলকারনাইন শুধু বিশ্বজয় করেই থেমে থাকেননি, তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানকার অধিবাসীদের কাছে সর্বপ্রথম পেশ করেছেন সত্য ও খাঁটি দ্বীন ইসলাম। যারা তা গ্রহণ করেছে তাদের সাথে কোনোরূপ যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই পরম মৈত্রী ও সখ্যতা স্থাপন করে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এটি কেবল দ্বীন প্রচারকারী নবি রাসূলদেরই রীতি। 

জুলকারনাইনকে আল্লাহ তায়ালা নিজে সম্বোধন করে কথা বলেছেন। একারণে অনেকেই তাঁকে নবি বলে থাকেন। কারণ নবি না হলে কারো সাথে ওহীর মাধ্যমে কথা হয় না। নবি না হলে সেক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে অন্য কোনো পয়গম্বরের মধ্যস্থতায় এই সম্বোধন করা হয়ে থাকে। যেহেতু হযরত খিজির (আ.) জুলকারনাইনের মন্ত্রী ছিলেন সেহেতু তাঁর মধ্যস্থতায়ই জুলকারনাইনের সাথে আল্লাহ তায়ালার কথোপকথন হয়েছে।

অধিকাংশ আলেমদের অনুসন্ধান ও গবেষণার ফল হলো, তিনি নবি ছিলেন না। বরং নেককার ও ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ ছিলেন।

পবিত্র কুরআনে জুলকারনাইন

যখন মক্কা ভূমিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নবুয়তের আলোচনা বেশি বেশি হচ্ছিলো আর ইসলাম দিন দিন প্রসার লাভ করছিলো তখন মক্কার কাফেররা অক্ষম হয়ে পড়ছিলো। কোনো কূটকৌশলই যখন কাজে লাগছিলো না তখন ইহুদি আলেমরা তাদের অনুসারীদের তিনটি প্রশ্ন শিখিয়ে দিলো। 

প্রশ্নগুলো ছিল-

  • কয়েকজন যুবক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যারা তাদের নিজেদের শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল।
  • এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা যে মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবী ভ্রমণ করেছেন।
  • রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

আসহাবে কাহফের গুহা
চিত্র: আসহাবে কাহফের গুহা | চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons

প্রথম প্রশ্নটি ছিল আসহাবে কাহফ সম্পর্কে। এবং দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন সম্পর্কে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা কাহফের (৮৩-১০১) নং আয়াতে জুলকারনাইনের কথা উল্লেখ করেছেন। 

কুরআনে তাঁর বিস্ময়কর উত্থানের ইঙ্গিত দিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 

আমি তাঁকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম।  

সূরা কাহফ, আয়াত ৮৪

 আরও পড়ুন: বদর যুদ্ধ: ইসলামের ইতিহাসে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিজয়

আল্লাহ জুলকারনাইন এর হাতে প্রভূত ক্ষমতা দিয়েছিলেন।
সূরা কাহফের আয়াতাংশ | চিত্রসূত্র: নিজস্ব সংগ্রহ

জুলকারনাইনের সফরসমূহ

পবিত্র কুরআনে জুলকারনাইনের তিনটি সফরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম সফর পশ্চিমাঞ্চলে, দ্বিতীয় সফর পূর্বাঞ্চলে আর তৃতীয় সফর উত্তরাঞ্চলের পর্বতমালার পাদদেশ পর্যন্ত। 

প্রথম সফর

জুলকারনাইন সর্বপ্রথম যে রাজ্যের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন সেই রাজ্যের ক্ষমতায় ছিলেন তাঁর মাতামহ। এশিয়ার কোনো এক রাজা তার পার্শ্ববর্তী রাজ্যের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জুলকারনাইনের মাতামহের সাথে সন্ধি করেছিলো। কিন্তু জুলকারনাইনের  মাতামহের মৃত্যুর পর সন্ধি কর্তা রাজা জুলকারনাইনের রাজ্যাভিষেক সুনজরে দেখতে পারলো না। জুলকারনাইনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। এমনকি ব্যাবিলন, মিশর প্রভৃতি এলাকার রাজ্যাধিপতিদের জুলকারনাইনের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তুললো। 

জুলকারনাইন তাদের দমন করার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সেই রাজাকে পরাজিত করে তার রাজ্য জয় করে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত পৌঁছে যান। এভাবে পারস্য উপসাগর হতে আরম্ভ করে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা তাঁর  করতলগত করেন। 

জুলকারনাইন অধিকৃত অঞ্চলের মানচিত্র
পারস্য উপসাগর থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত ম্যাপ | চিত্রসূত্র: নিজস্ব সংগ্রহ 

অতঃপর তিনি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়া শুরু করেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় জয় করতে করতে এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেন যেখানে এসে প্রাকৃতিক কারণে তার অভিযানের গতি রুদ্ধ হয়ে যায়। সেটি ছিলো এই পৃথিবীর পশ্চিমের সর্বশেষ জনপদ এরপরে আর কোন জনপদ ছিল না।

কুরআনে উল্লেখ আছে,

অতঃপর সে এক পথ ধরে অগ্রসর হলো, এমনকি সূর্যাস্তের স্থান পর্যন্ত পৌঁছেছিল 

সূরা কাহফ, আয়াতাংশ ৮৬

এই স্থানে এমন এক সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল যারা কাফের ছিল। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,

হে জুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন আবার তাদের সাথে কল্যাণমূলক আচরণও করতে পারেন।

-সূরা কাহফ, আয়াতাংশ ৮৬

জবাবে জুলকারনাইন বলেন

আমি তাদের ঈমান গ্রহণের প্রতি আহ্বান জানাবো। কিন্তু এর পরেও যে জুলুম করবে তাকে অতি সত্ত্বর শাস্তি প্রদান করবো। কিন্তু মৃত্যুর পর তাকে স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি প্রত্যাবর্তন করানো হবে। আর তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন। আর যে ব্যক্তি ঈমান গ্রহণ করবে এবং নেক আমল করবে তার জন্য পরকালে উত্তম বিনিময় মিলবে এবং ইহকালে আমার আইন-কানুন সহজ দেখতে পাবে।

-সূরা কাহফ, আয়াত ৮৭-৮৮

দ্বিতীয় সফর

জুলকারনাইনের দ্বিতীয় অভিযান ছিল পূর্বাঞ্চলের দিকে। পূর্ব দিকে যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত এমন স্থানে পৌঁছেছিলেন, মনে হচ্ছিলো যেন এ এলাকা হতেই সূর্য উদিত হয়।

এ সম্বন্ধে কুরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

অতঃপর সে আরো এক পথ ধরলো এমনকি শেষ পর্যন্ত সূর্যের উদয়স্থলে পৌঁছালো। সেখানে এসে এমন এক কওমের দেখা পেল যাদের কাছে সূর্যরশ্মি পৌঁছানোর জন্য কোন প্রতিবন্ধক রাখিনি।

-সূরা কাহফ, আয়াত ৮৯-৯০
সূর্যোদয়
সূর্যোদয় | চিত্রসূত্র: Pixabay

তারা ছিলো যাযাবর জাতি। তাদের ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে কুরআনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি এবং জুলকারনাইন তাদের সাথে কি আচরণ করেছেন তাও বর্ণনা করা হয়নি। তবে তারাও কাফের ছিল বলে বোঝা যায় আর জুলকারনাইনও তাদের সাথে পশ্চিমাঞ্চলের সম্প্রদায়ের অনুরূপ আচরণ করেছেন। অনেক ইতিহাসবিদ দুর্ধর্ষ জাতিটিকে বলখের অধিবাসী ছিল বলে মনে করেন। পারস্যের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত বলখ। এর পরেই রয়েছে পাহাড়। তারা পাহাড়ের অভ্যন্তরে বসবাস করত। পূর্বে তাদেরকে গীডর্দেসিয়া বলা হত। বর্তমানে মাকরান গোত্র বলা হয়।

তৃতীয় সফর 

তাঁর তৃতীয় সফর শেষ হয় উত্তরাঞ্চলের এমন এক জায়গায় যেখানকার অধিবাসীরা ইয়াজুজ-মাজুজ সম্প্রদায়ের অত্যাচারে জর্জরিত ছিল। লোকেরা জুলকারনাইনের ভাষা বুঝতো না। জুলকারনাইনও তাদের ভাষা বুঝতেন না। এই সম্প্রদায়ের লোকজন ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। জুলকারনাইন এর মতো একজন প্রতাপশালী সম্রাটকে দেখে তারা আশান্বিত হলো। তারা ইশারায় তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করল। জুলকারনাইন তাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য মনস্থির করলেন। অতঃপর গলিত তামা ও লোহার মিশ্রণে পাহাড় পরিমান বিশাল এক প্রতিবন্ধক প্রাচীর গড়ে তুললেন। প্রাচীরটি এত পুরু এবং মজবুত ছিল যে ইয়াজুজ-মাজুজের জন্য এই বিশাল প্রাচীর অতিক্রম করে অপর পার্শ্বে আসা একেবারেই অসম্ভব ছিল। আর প্রাচীর এত শক্ত ছিল যে, এতে কোনো প্রকার ছিদ্র করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

অতঃপর ইয়াজুজ-মাজুজ তার উপর আরোহণ করতে পারলো না এবং তা ভেদ করতেও সক্ষম হলো না। 

-সূরা কাহফ আয়াত ৯৭

 জুলকারনাইনের নির্মিত প্রাচীর এখনো বর্তমান আছে বলে কুরআনে বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণ পাওয়া যায়। কুরআনে এরশাদ হচ্ছে, জুলকারনাইন বলেন, 

যখন আমার পালনকর্তার  প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।

-সূরা কাহফ আয়াতাংশ ৯৮

অর্থাৎ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রকাশ হওয়ার সময় তখনই আসবে যখন আল্লাহ তায়ালা এই প্রাচীর ধ্বংস করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন।১০

আগামী পর্বে থাকছে হজরত খিজির (আ.) ও লোকমান হাকিমের সাথে জুলকারনাইনের আবে হায়াতের সন্ধান। সেই অভিযানেই কিছু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে কীভাবে জুলকারনাইন সারা দুনিয়ার বাদশাহী ত্যাগ করে আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করলেন তাও থাকছে আগামী পর্বে!        

গ্রন্থসূত্র:

১. সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। 

  • সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। পৃষ্ঠা- ১৩৫
  • শাফি (রহঃ), মুফতি মুহাম্মদ। তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন। অনুবাদক- মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা। পৃষ্ঠা – ৮১৮
  • সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। পৃষ্ঠা – ১৩৪
  • সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। পৃষ্ঠা – ১৩৪
  • শাফি (রহঃ), মুফতি মুহাম্মদ। তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন। অনুবাদক- মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা। পৃষ্ঠা – ৮২০
  • শাফি (রহঃ), মুফতি মুহাম্মদ। তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন। অনুবাদক- মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা। পৃষ্ঠা – ৭৯৬
  • শাফি (রহঃ), মুফতি মুহাম্মদ। তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন। অনুবাদক- মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা। পৃষ্ঠা – ৭৯৭
  • সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। পৃষ্ঠা – ১৩৭
  • সুরাটী, তাহের। কাসাসুল আম্বিয়া। অনুবাদক- রহমান, মোস্তাফিজুর। মীনা বুক হাউস। সর্বশেষ মূদ্রণ ২০১০ইং। পৃষ্ঠা – ১৩৯
  • ১০ শাফি (রহঃ), মুফতি মুহাম্মদ। তাফসিরে মাআরেফুল কুরআন। অনুবাদক- মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা। পৃষ্ঠা – ৮২১

তথ্যসূত্র:

প্রচ্ছদ চিত্র: নিজস্ব সংগ্রহ  

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
15 Thoughts on শাহ সিকান্দার জুলকারনাইন: একজন দিগ্বিজয়ী বীর (১ম পর্ব)
    Abir
    9 Nov 2020
    9:36pm

    কাসাসুল আম্বিয়া উৎস হিসেবে তেমন নির্ভরযোগ্য না।

    2
    0
      করবী কানন শিশির
      9 Nov 2020
      11:39pm

      আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
      পরবর্তীতে লেখার সময় অবশ্যই বিষয়টা বিবেচনায় রাখবো।

      6
      0
    erotik izle
    13 Nov 2020
    12:22pm

    Way cool! Some extremely valid points! I appreciate you penning this write-up and also the rest of the website is extremely good. Anitra Steven Greenwell

    3
    0
      করবী কানন শিশির
      14 Nov 2020
      6:08am

      Thank you so much for such a great compliment. Hopefully we can do better in the future. Pray for us. ❤

      1
      0
    erotik
    14 Nov 2020
    2:25am

    You have a number of truly of the essence in a row printed at this point. Excellent job and keep reorganization superb stuff. Milli Verney Dulcle

    2
    0
      করবী কানন শিশির
      14 Nov 2020
      6:10am

      Thank you so much. That’s all I’ve to say. Stay with us. ❤

      1
      0
    sikis izle
    14 Nov 2020
    12:40pm

    Right away I am going to do my breakfast, once having my breakfast coming again to read more news. Daryl Gayle Landbert

    1
    0
    Kotha
    14 Nov 2020
    4:13pm

    ভালো লেখনী।

    1
    0
      করবী কানন শিশির
      16 Nov 2020
      4:57pm

      ধন্যবাদ ❤

      0
      0
    sikis izle
    15 Nov 2020
    7:05am

    Thanks-a-mundo for the blog post. Much thanks again. Really Great. Mona Valentine Meador

    2
    0
    film
    22 Nov 2020
    6:31am

    You have a very attractive website. I like the occupied information that you provender with every article. Aloysia Osmund Bettine

    1
    0
      করবী কানন শিশির
      22 Nov 2020
      6:05pm

      Thank you so much.
      Stay with us. ❤

      0
      0
    film
    25 Nov 2020
    6:33am

    Your article is very nice thank for NITI Aayog Annual Report 5 Years of Niti Ayog. Alfy Redford Hammad

    0
    0
    film
    27 Nov 2020
    1:31am

    If some one wants expert view about running a blog then i recommend him/her to go to see this webpage, Keep up the good work. Linda Robby Karolina

    0
    0
    film
    29 Nov 2020
    2:32pm

    I value the blog post. Much thanks again. Keep writing. Jesse Ulysses Lona

    0
    0

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!