জুম অ্যাপ

জুম অ্যাপ: উত্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

4.8
(17)
Bookmark

No account yet? Register

গুগল, মাইক্রোসটের মতো টেক জায়্যান্টগুলোর ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ থাকা স্বত্ত্বেও জুম অ্যাপ কেন এতো জনপ্রিয় বা জুম এতদূর এগোলো কি করে, কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে? বর্তমানে সবাই এমন একটি অদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মুখীন যখন ঘরে থাকাটা সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, নিজের সুরক্ষার জন্য কোভিড-১৯ থেকে। কিন্তু তাই বলে কি দৈনন্দিন কাজকর্ম, পড়া লেখা থেমে থাকবে? কেনই বা থেমে থাকবে?

অসামান্যতে লিখুন

অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ভার্চুয়াল ফেস টু ফেস (Face to Face) কথা বলা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা সবই এখন ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপসের উপর নির্ভর করছে। আর সেখানেই জুম অ্যাপ এর নামটা সবার আগে! কিন্তু কেন? কিভাবেই বা এই অ্যাপটির বিস্ময়কর উত্থান? যেখানে মাইক্রোসফটের টিম, স্কাইপি গুগলের গুগল মিট, হ্যাঙআউট সহ আরো অনেক ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ আছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে জুম অ্যাপে দৈনিক মিটিং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২০০ মিলিয়নে উন্নীত হয় যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন। পরের মাসে এই চিত্র দাঁড়ায় ৩০০ মিলিয়ন এ!

ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুমের এই বিস্ময়কর উত্থান সম্পর্কে জানতে হলে ফিরে যেতে হবে গল্পের শুরুতে, যেখানে ছিল স্বপ্ন, ছিল গ্রাহক সন্তুষ্টির প্রত্যাশা আর নিরলস পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা।

জুম অ্যাপের যাত্রা

এরিক ইউয়ান
এরিক ইউয়ান। চিত্রসূত্র: zoom blog

বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকের কথা, যখন একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তির উৎকৃষ্টতা হাতছানি দিচ্ছে। শ্যানডং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করা এক চীনা যুবক, যে কিনা বিল গেটসের মতো উদ্যোক্তাদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজে কিছু একটা করার কথা ভাবতেন, নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন অনেকদূর নিয়ে যাওয়ার। ঠিকই ধরেছেন, তিনি আর কেউ নন, এরিক ইউয়ান।‌ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির উত্থানে ছিল তার তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ! ভাবলেন তাকে কিছু করতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হবে!

আটবার তার ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়! কিন্তু দমে যাননি তিনি, নবম বারের মতো ভিসার জন্য আবেদন করেন। তার হাল না ছাড়ার মানসিকতার সাথে ছিল কিছুটা ভাগ্যও। অবশেষে ভিসা হয়ে যায়! ১৯৯৭ সালে সিলিকন ভ্যালির উদ্দেশ্যে নিজের দেশ ছাড়েন এই স্বপ্নবাজ।

শুরুতেই ক্যালিফোর্নিয়ায় ২ বছর বয়সী ওয়েবএক্স কমিউনিকেশন কোম্পানিতে তরুণ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এরিক ইউয়ান। ওয়েবএক্স হচ্ছে সেইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম যারা সর্বপ্রথম ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করেছিল। তিনি ছিলেন ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এর দলের অন্যতম একজন ইঞ্জিনিয়ার।

ওয়েবএক্স লোগো
ওয়েবএক্স লোগো। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons

২০০০ সালের জুলাইয়ে ওয়েবএক্স কমিউনিকেশনের ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ওয়েবএক্স বাজারে আসে। এরিক ইউয়ান ওয়েবএক্সে ইঞ্জিনিয়ারদের নেতৃত্ব দেয়ার মতো বড় দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালে বেশ সাফল্য পায় ওয়েবএক্স কমিউনিকেশন। বার্ষিক ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুনাফা করতে সক্ষম হয় কোম্পানিটি। 

২০০৭ সালে সিসকো ওয়েবএক্সকে ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে অধিগ্রহণ করে নেয়। কোম্পানিটিতে তখন ৭৫০ জনেরও অধিক ইঞ্জনিয়ার কাজ করতো এরিক ইউয়ানের অধীনে।

তখন ওয়েবএক্সের তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, তাছাড়া গ্রাহকদের ভিডিও কনফারেন্সিং অভিজ্ঞতা ছিল অনেকাংশে শুরুর দিকের; আর তাই ওয়েবএক্স দারুণ সুবিধা করতে পেরেছিল।

সিসকো ছাড়ার আগে ২০১০ সালে ওয়েবএক্সের প্রতি বেশ অসন্তুষ্ট ছিলেন এরিক ইউয়ান, কারণ ওয়েবএক্সের পরিষেবাটি ছিল খুব বাজে! ওয়েবএক্স গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন গ্রাহক অসন্তোষের কথা। গ্রাহকদের মধ্যে কেউই ওয়েবএক্স ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। বেশ কিছু বাগ (Programming bug) ছিল এই ওয়েবএক্স অ্যাপে।

ওয়েবএক্স অ্যাপসটির সংযোগ ছিল অস্থিতিশীল, যেকোনো সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত! অডিও, ভিডিও আটকে যেত! তাছাড়া ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া ছিল অনেক ঝামেলাপূর্ণ। ওয়েবএক্স অপারেটিং সিস্টেম সংস্করণগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আলাদা করে (আইফোন, অ্যান্ড্যয়েড, ম্যাক বা পিসি) চিহ্নিত করতে পারত না, আলাদা ভাবে চিহ্নিত করতে হত ব্যবহারকারীদের, যেটা ছিল ব্যবহারকারীদের সময় নষ্টের একটি বড় কারণ।

ওয়েবএক্স তখন টিকে ছিল বাজার প্রতিযোগি কম থাকায়, এটা অনুধাবন করে এরিক ইউয়ান উপর মহলে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুপারিশ করেন কিন্তু কেউই তার কথায় কর্ণপাত করে নি!

একটা ভালো চাকরির লোভ সিসকো’তে আটকে রাখতে পারেনি তাকে। বেরিয়ে গেলেন বড় অঙ্কের মাস মাইনে ও কর্ম পদবীর লোভ কাটিয়ে‌। তার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে তার সাথে বেরিয়ে এলেন আরও ৪০জন ইঞ্জিনিয়ারও, স্বপ্ন ছিল একটা বাগ ফ্রি, ইউজার ফ্রেন্ডলি ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করা। গ্রাহকদের ভিডিও কনফারেন্স অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করা। বিনিয়োগকারীরাও তার কথায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে সাড়া দেন।

প্রাথমিকভাবে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিয়ে তার আইডিয়া বাস্তবায়নের কাজে লেগে পড়েন এরিক ইউয়ান। ২০১১ সালে প্রথমে জুম এর বেটা ভার্সন টেস্ট করা হয়, যেটা ছিল একটা গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। বেটা ভার্সনে টেস্টে সফল হলে ২ বছর পর ২০১৩ সালে জুম ক্লাউড মিটিং অ্যাপটি লঞ্চ করা হয়। জুমের সাফল্য অনেকটা রাতারাতি পাওয়ার মতো ছিল, সে বছরেই কয়েক মাসের মধ্যেই ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ১ মিলিয়ন অতিক্রম করে।

সাফল্যের কারণগুলো

বিনিয়োগ

বিনিয়োগ যাচাই
বিনিয়োগ যাচাই। চিত্রসূত্র:  Pexels

যেকোনো স্টার্টআপকে সফল করতে প্রয়োজন বিনিয়োগ। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ কেন করবে সেটা তাদেরকে বোঝানো ও স্টার্টআপের সম্ভাবনাকে তাদের নিকট উপস্থাপন করাটাও একটা বড় বিষয়।

এরিক ইউয়ান সিসকো থেকে বেরিয়ে আসার পর তার আইডিয়া বাস্তবায়নের (ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা) জন্য বিনিয়োগকারীদের দ্বারে বেশি ছোটাছুটি করা লাগেনি, কারণ তার উপর অনেকেরই আস্থা ছিল‌! সুব্রাহ আইয়ার, যিনি কিনা ওয়েবএক্সের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী ছিলেন, তিনি এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা জুম অ্যাপের প্রারম্ভিকেই ২০১১ সালে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেতে থাকে আর বাড়তে থাকে কোম্পানিটির মূল্যমান।

২০১৭ সালে সিকোইয়া ক্যাপিটাল জুম ভিডিও কমিউনিকেশনে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে, এতে করে জুম ভিডিও কমিউনিকেশন ১ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। এর দুই বছর পর ২০১৯ সালের এপ্রিলে কোম্পানিটি তাদের সাধারণ শেয়ার (জনসাধারণের কাছে তাদের শেয়ার উন্মুক্ত করে) ইস্যু করে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ধরা হয় ৩৬ মার্কিন ডলার করে।

বিস্ময়কর ভাবে প্রথম দিনেই শেয়ারের মূল্যমান বৃদ্ধি পায় ৭২ শতাংশ এবং প্রথম সপ্তাহে ৮৪ শতাংশের কাছাকাছি। যা কোম্পানিটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হট আইপিও তে পরিণত করে।

পরিকল্পনা

ভিডিও কনফারেন্স
ভিডিও কনফারেন্স। চিত্রসূত্র: Unsplash

স্কাইপি‌’র মতো অন্যান্য ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার প্রথমে যেখানে অডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমে শুরু করে, সেখানে জুম ভিডিও কমিউনিকেশন প্রথম থেকেই ভিডিও অ্যাডজাস্ট করে শুরু করে। কারণ এরিক ইউয়ানের উদ্দেশ্য ছিল একটা ব্যবহার-বান্ধব, বাগ মুক্ত ভিডিও কনফারেন্স সফটওয়্যার নির্মাণ ও গ্রাহকদের ভিডিও কনফারেন্সে নতুন চমক দেয়া।

অন্যান্য স্টার্টআপের চাইতে জুমের পরিকল্পনা ছিল নিখুঁত, এরিক ইউয়ানের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যই ছিল গ্রাহক বান্ধব ভিডিও কনফারেন্সের সুযোগ তৈরি করা। এরিক ওয়েবএক্স থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারকারীদের অসন্তুষ্টতার কারণগুলো মাথায় রেখে জুমের জন্য পরিকল্পনা সাজান।

আরও পড়ুন:

ব্যবহার বান্ধব

জুম হচ্ছে প্রথম ভিডিও কনফারেন্সিং প্ল্যাটফর্ম যারা ভিডিও কনফারেন্সে মোবাইল স্ক্রিন শেয়ারের সুবিধা চালু করে। এরিক ইউয়ান যে শুধু তাদের ব্যবহারকারীদেরই গুরুত্ব দেয় তা নয়, বরং তারা ওয়েবএক্সের ভুল গুলো যাতে জুম অ্যাপেও না হয় সেদিকে খেয়াল রাখে।

জুমের ফ্রি কনফারেন্সে সর্বোচ্চ ১০০ জন‌ ব্যবহারকারীকে ৪০ মিনিট অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়। অ্যাপটাকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে স্লো ডাটা সংযোগেও নির্বিঘ্নে মিটিং চালিয়ে যাওয়া যায়। সাথে রয়েছে এইচডি কোয়ালিটি ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা।

জুম অ্যাপটি যেকোনো অপারেটিং সিস্টেম চিহ্নিত করতে পারে সহজেই, আলাদা ভাবে অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সংযোগ করার প্রয়োজন হয় না। সব ডিভাইস অপটিমাইজ করে গ্রাহকদের সুবিধা সম্পন্ন করে অ্যাপটি ডেভেলপ করা হয়েছে। ডিভাইসে সংযোগ নিশ্চিত করতে ১৫০ মিলিসেকেন্ডের কম সময় নেয় জুম।

এটি ব্যবহারের জন্য আলাদা করে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা লাগে না! মিটিং লিংক ব্যবহার করে ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমেও মিটিংয়ে যুক্ত হওয়া যায়।

সফল নেতৃত্ব

সফল নেতৃত্ব স্টার্টআপ কে সাফল্যের শেষ শিখর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে। এরিক ইউয়ান কি জুমকে সঠিক ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন?

এরিক ইউয়ান জোর দিয়ে বিশ্বাস করেন, গ্রাহকদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য চোখের যোগাযোগ (Eye-Contact) খুবই জরুরী। আর তার জন্যই আসলে জুম এর পথচলা। গ্রাহকরা যাতে মুখোমুখি যোগাযোগ করতে পারে, হোক না সেটা ভার্চুয়াল! আর সেটা হতে হবে ব্যবহার বান্ধব।

এরিক ইউয়ান তার কাস্টমারদের টুইটের রিপ্লাই দেন নিয়মিত। যারা জুমের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে, তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে মেইলে যোগাযোগ করে, তাদের অভিযোগগুলো শুনেন এবং সাবস্ক্রিপশন বাতিলের কারণও জেনে নেন।

কোভিড-১৯

জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের জন্য ২০১৯ সালটা লাভজনকভাবে শেষ হয় আর ২০২০ আসে আশীর্বাদস্বরুপ। এই বছর যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, সেখানে জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের বুস্ট হয় বেশ ভালোভাবেই! বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সবাইকে ঘরে থাকার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, আর থাকতে বলা হয়েছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে। যেটা জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের জন্য বাড়তি সুবিধা বয়ে আনে। মুখোমুখি যোগাযোগের জন্য ভার্চুয়াল মাধ্যমই হয়ে উঠে পছন্দের জায়গা, এক্ষেত্রে বেশিরভাগ নজর ছিল জুম অ্যাপের দিকে।

তাছাড়া বাড়িতে বসেই অফিস কার্যক্রম চালানোর জন্য জুম অ্যাপের বিকল্প খুঁজতে নারাজ অনেক গ্রাহকই, জুমের গ্রাহক বান্ধবসুবিধাগুলোর‌ জন্য।

জুম অ্যাপের বাৎসরিক মুনাফা
জুম অ্যাপের বাৎসরিক মুনাফা। চিত্রসূত্র: Business Insider

চলতি বছরে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের সাফল্য ও মুনাফা অর্জন ঈর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ত্রৈমাসিকে জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের মুনাফা বেড়েছে ১৬৯ শতাংশ, মোট মুনাফার পরিমাণ ৩২৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবং চলতি ত্রৈমাসিকে তারা ৪৯৫ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যাশা করছে। এই অর্থ-বছরে সম্ভাব্য তাদের বার্ষিক মুনাফা গতবছরের চাইতে প্রায় দ্বিগুন হবে, টাকার অংকে যার পরিমান ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার!

জুম অ্যাপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

নিরাপত্তা
নিরাপত্তা। চিত্রসূত্র: Zoom Blog

জুম অ্যাপের নিরাপত্তা নিয়েও মাঝে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জুম থেকে ফেসবুকে ডাটা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল কোম্পানিটির বিরুদ্ধে। তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে তারা নতুন কোনো ফিচার নিয়ে কাজ করবে না। জুম নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে।

তাদের ইঞ্জিনিয়াররা নিরাপত্তার দিকে এখন অধিক মনোযোগী, তারা অ্যাপের সমস্যাগুলো খুঁজে দেখছে, যেগুলো গ্রাহকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে সেগুলো সমাধান করার জন্য।

এখন প্রশ্ন থেকেই যায়, জুম কি ভবিষ্যতেও তাদের এই গ্রোথ ধরে রাখতে পারবে? নাকি সময়ের সাথে সাথে এর জনপ্রিয়তা কমে যাবে?

কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে জুম অ্যাপের ব্যবহার কিছুটা হলেও কমে যাবে। এক্ষেত্রে জুম অ্যাপটিতে আরো কিছু ফিচার যোগ করতে পারে, যাতে করোনা পরবর্তী সময়েও গ্রাহক ধরে রাখা যায় এবং তাদের গ্রোথ নিম্নমুখী হওয়া থেকে আটকানো সম্ভব হয়।

বর্তমানে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” যে সিস্টেমটা চলছে কোভিড পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সেরা কর্মী নিয়োগ দেয়ার জন্য জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম  সিস্টেমটা চালিয়ে রাখার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়ার মতো নয়। এক্ষেত্রে জুমের গ্রোথে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নেওয়া জুমের মার্কেটিং কৌশলগুলো জানান দেয় ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য তারা কতটা সংকল্পবদ্ধ! সাম্প্রতিক কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মার্কেটিং কৌশল হিসেবে তারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ মিনিটের ফ্রি ভিডিও কনফারেন্স লিমিট উঠিয়ে নেয়, তাদের জন্য ফ্রি ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা দেয়! যেটা জুম অ্যাপের প্রতি গ্রাহকদের বাড়তি নজর কাটতে সহায়তা করে।

জুম ভিডিও কমিউনিকেশনের শক্তিশালী মার্কেটিং কৌশলগুলো তাদেরকে অন্যান্য প্রতিযোগিদের সাথে কতটা টিকিয়ে রাখতে পারে তা কাগজ-কলমের হিসাবের বাইরে বাস্তবে দেখা সময়ের সাথে সাথে সম্ভব হবে!

ফিচার ইমেজ: The Business Standard

তথ্যসূত্র:

  1. Entrepreneur
  2. Forbes
  3. Slidebean 
  4. The August
  5. CNBC
  6. Business Insider
  7. Zoom Blog
  8. Zoom
  9. The Verge

আরও পড়ুন: ব্লকচেইন : শেকলে বাঁধা তথ্যের আদ্যোপান্ত

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on জুম অ্যাপ: উত্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!