জিপসি মেয়ে

জিপসি মেয়ে: তুর্কি মোজাইক শহর জেওগমার মোনালিসা

মো. মঞ্জুর মোর্শেদ
5
(4)
Bookmark

No account yet? Register

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মোনালিসাকে চেনেনা এমন নেটিজেন খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। ১৫০৩ সালের মোনালিসাকে চিনলেও খ্রিস্টপূর্ব তিনশো সালের মোজাইক পাথরে খচিত জিপসি মেয়েকে খুব কম লোকই চেনে।

অসামান্যতে লিখুন

জিপসি উপাধির নেপথ্যে 

১৯৮৭ সালে তুরস্কের দক্ষিনাঞ্চলের গাজিআনতেপ প্রদেশের নিজিপ জেলার ফোরাত নদীর তীরের বেলকিস গ্রামের পাহাড়ে গাজিআনতেপ  জাদুঘর  কর্তৃপক্ষ খোঁড়া শুরু করে। তখন কিছু প্রাচীন কবর আর প্রত্নতত্ত্ব চোরাকারবারিদের ফেলে রেখে যাওয়া অসংখ্য মূর্তি ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় নি।   

১৯৯২ সালে পাহাড়ের পাহারাদারের খবরের ভিত্তিতে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আবার গেলে সেই পাহাড়ে চোরাকারবারিদের খোঁড়াখুঁড়িতে সৃষ্ট একটি টানেল দেখতে পায় । টানেলের ভিতরে ঢোকার পরে দেখা যায় যে টানেলের মেঝে পুরোটাই মোজাইক চিত্রকর্মে ঢাকা। মোজাইকের চিহ্ন পাওয়ার পরে বিস্তর খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয় এবং আরও অন্যান্য মোজাইকের সাথে সাথে একটি রোমান ভিলারও সন্ধান পাওয়া যায়। ভিলার ধ্বসে পড়া পিলারের নিচ থেকে বের হয়ে আসে মোজাইক পাথরে খচিত  রহস্যময়ী এক মেয়ের প্রতিচ্ছবি। 

কানের দুল, চুলের এলেমেলো বেণী করার ধাঁচ এবং মুখের হাড়ের গঠনের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করে খননে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে কথায় কথায় মেয়েটিকে জিপসি মেয়েদের সাথে তুলনা করেন। পরবর্তীতে খননকারীদের কথাকেই প্রাধান্য দিয়ে মেয়েটির নাম দেওয়া হয় Çingene Kızı (চিনগেনে কিজি) বা জিপসি মেয়ে।  

জিপসি মেয়ে ও মোনালিসা
জিপসি মেয়ে ও মোনালিসা । চিত্রসূত্র: Trdergisi

মোজাইক চিত্রকর্মের জিপসি মেয়ের চেহারার একটির বড় অংশ পাওয়া গেলেও পুরো চেহারা মেলানোর ছোট ছোট মোজাইকের কিছু টুকরা যে পাওয়া যাচ্ছিলো না তা প্রথম  নজরে আনেন খোঁড়াখুঁড়িতে নিয়োজিত অস্ট্রেলিয়ান প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক  ডেভিড কেনেডি। 

পরবর্তীকালে নিখোঁজ মোজাইকের টুকরোগুলোর জন্য ব্যাপক খোঁজাখুঁজি হয় এবং ২০১২ সালে ড. স্টিফেন হুপার নামের আরেক অধ্যাপক প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োর বোলিং গ্রিন স্টেট  ইউনিভার্সিটির থিয়েটারে প্রদর্শনের সময় তুরস্কের জিপসি মেয়ের বাকি টুকরোগুলোর সন্ধান পান। 

খবর নিয়ে জানা যায় ১৯৬৫ সালে চোরাকারবারিরা  বে-আইনিভাবে প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে টুকরোগুলো চুরি করে অবৈধভাবে আমেরিকায় পাচার করে এবং নিলামে সেগুলো বিক্রি করে দেয়। জিপসি মেয়ের বড় মোজাইকটি ধ্বসে পড়া পিলারের নিচে থাকায় দস্যুরা সেটি বের করতে পারেনি। নানা কূটনীতিক এবং আইনি জটিলতা পেরিয়ে চোরাকারবারিদের পাচার করা ১২ টি মোজাইকের টুকরো ২০১৮ সালে আমেরিকা থেকে তুরস্কের গাজিআনতেপে ফেরত আনা হয়। 

রহস্যময়ী জিপসি মেয়ে আসলেই মেয়ে কিনা তা নিয়ে ভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে। মোজাইকের চরিত্রটি কারো মতে আলেকজান্ডার দা গ্রেট আবার কারও মতে গ্রীক মিথলজির ঈশ্বরী গায়া (Gaia)।  

২০০৭ সালে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ির সময় আবার জিপসি মেয়ের অক্ষত মোজাইকের মেঝের সন্ধান পাওয়া যায়
২০০৭ সালে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়ির সময় আবার অক্ষত মোজাইকের মেঝের সন্ধান পাওয়া যায়। চিত্রসূত্র: Onedio Portal

জেওগমা: তথা জিপসি মেয়ের শহরের উৎপত্তি 

খ্রীস্টপূর্ব ৩০০ সালে আলেকজান্ডার দা গ্রেটের জেনারেলদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল সেলুকাস প্রথম নিকেটর ফোরাত নদীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশটির পশ্চিম তীরে ২০,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে তাঁর অধীনস্থ সৈন্যদলের জন্য নিজ নামে ভিলা সমৃদ্ধ সেলেভকায়া ইউফ্রেটস্ শহর নির্মাণ করেন৷ পূর্ব তীরেও অনুরূপভাবে তাঁর ইরানি বংশোদ্ভূত স্ত্রী এপামা (Apama) এর নামে নির্মাণ করেন Apameia am Euphrate (বর্তমানে কেসকিনজে বা তিমুলসা গ্রাম) নামের আরেকটি শহর। জমজ শহর দুইটি একে অপরের সাথে ফোরাতের ওপর নির্মিত সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। 

রোমান আলেকজেন্দ্রিয়ার গ্রীক বংশোদ্ভূত রোমান ইতিহাসবিদ এপ্পিয়ান এর মতে সেলুকাস তাঁর স্ত্রী এপামিয়ার নামে আরও দুইটি শহরের নামকরণ করেছিলেন, একটি সিরিয়ার অরন্টেস নদীর তীরের এপামিয়া এবং অপরটি ইরানের নাভাহান্দের কাছের এপামিয়া মেডিয়া।  

সেলুকাস প্রথম নিকেটর
সেলুকাস প্রথম নিকেটর । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons 

প্রতিবেশী গ্রীকো-ইরানিয়ান কোমাজিন সাম্রাজ্যের রাজা মিথরিডেটস্ প্রথম ক্যালিনিকাস এর সাথে তখনকার সেলুকাস রাজার মেয়ে লাওদিস এর বিয়ের সময় ফোরাতের পশ্চিম তীরের সেলেভকায়া ইউফ্রেটস্ শহরটিকে যৌতুক হিসেবে ক্যালিনিকাসকে দেওয়া হয়। প্রায় চল্লিশ বছর কোমাজিন সাম্রাজ্যের চারটি বৃহৎ শহরের মধ্যে অন্যতম সেলেভকায়া খ্রীস্টপূর্ব ৬৪ সালে রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এর নতুন নাম হয় জেওগমা। জেওগমা শব্দটির অর্থ হচ্ছে সেতু,  সেলেভকায়ার সাথে পূর্ব তীরের এপামিয়ার সাথেকার সংযুক্তি সেতুটির থেকেই এই নামের উৎপত্তি। 

ডিজিটাল শিল্পীর কল্পনাসৃষ্ট জেওগমা শহরে সেতুটি দেখা যাচ্ছে।
ডিজিটাল শিল্পীর কল্পনাসৃষ্ট জেওগমা শহরে সেতুটি দেখা যাচ্ছে। চিত্রসূত্র : Oguz Akalin
ফোরাতের পূর্ব তীরের এপামিয়া ডুবে গিয়ে ফোরাতের গর্ভে চলে গেছে ।
ফোরাতের পূর্ব তীরের এপামিয়া ডুবে গিয়ে ফোরাতের গর্ভে চলে গেছে । চিত্রসূত্র : Wikimedia Commons  

গ্রীক ইতিহাসবিদ স্ট্রাবো এবং রোমান লেখক প্লিনিয়াস এর বর্ণনায় জেওগমার উল্লেখ পাওয়া যায়। সেনাবাহিনী সমৃদ্ধ আশি হাজার জনসংখ্যার সমষ্টিতে গঠিত জেওগমা শহরটি রোমান সাম্রাজ্যের খুবই গুরুত্বপূর্ণ শহর হওয়ার পাশাপাশি সাম্রাজ্যের একদম পূর্ব সীমান্তের শেষ নগরী ছিলো৷ ফলস্বরূপ শহরটির সৈন্যরা সাম্রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলো। 

জেওগমার বিশালতা বুঝাতে গেলে এটিকে সাম্রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলোর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। জেওগমা এটার আনাতোলিয়ান প্রতিবেশি অ্যান্টিওক এবং মিশরের আলেকজেন্দ্রিয়া থেকে ছোট, তৎকালীন এথেন্স এর সমান, লন্ডিনিয়াম (রোমান আমলের লন্ডন) এবং ইতালির ধ্বংসপ্রাপ্ত রোমান নগরী পম্পেই থেকে আকারে বড় ছিলো। 

শিল্পীর কল্পনায় সুরম্য অভিজাত জেওগমা শহর
শিল্পীর কল্পনায় সুরম্য অভিজাত জেওগমা শহর। চিত্রসূত্র : Mark Wiens 

বর্তমান তুরস্কের আন্তাকিয়া থেকে চীন পর্যন্ত বিস্তৃত যে সিল্করোড ছিল তা জেওগমা শহরের ওপর দিয়েই যাওয়ায় শহরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। রোমান আমলে জেওগমা তার স্বর্ণযুগ পার করে। সাম্রাজ্যের যে কয়েকটি শহরে মুদ্রা তৈরী হতো জেওগমা তার মধ্যে অন্যতম ছিল। জেওগমার নিচে প্রায় এক লক্ষ পোড়া মাটির সীলমোহর (Bulla) পাওয়া গেছে যেগুলো ব্যবসায়িক লেনদেনের সময় দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

জেওগমা শহরের পোড়ামাটির সীলমোহর, এখানেই জিপসি মেয়ের ছবি পাওয়া গিয়েছিল
জেওগমা শহরের পোড়ামাটির সীলমোহর । চিত্রসূত্র: Tumblr    

সামরিক দিক থেকেও জেওগমা রোমান সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর শক্তিশালী শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। ইরানের পার্থিয়ান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য রোমান জেনারেল এবং রাজনীতিবিদ মার্ক অ্যান্টনির নিজ হাতে গড়া বিশেষ বাহিনী চতুর্থ সিডিকান লিজিয়ন (Legio IV Scythica) এর সৈন্যরা জেওগমা শহরে মোতায়েন করা ছিল। সিডিকান লিজিয়ন মূলত আনাতোলিয়ান সৈন্যদের নিয়ে গঠিত হওয়ায় আনাতোলিয়ায়ই এই লিজিয়নকে মোতায়েন করা হয়েছিলো বলে অনেকে মনে করেন। 

জেওগমা শহরের টাঁকশাল দেখা যাচ্ছে, এই শহরেই জিপসি মেয়ের ছবি আবিষ্কৃত হয়
তৎকালীন রোমান রাণীর ছবি যুক্ত কয়েন, কয়েনের অপর পিঠে সিডিকান সৈন্যদের লোগো ক্যাপরিকর্ন এবং পঞ্চভুজ মন্দিরটির নিচে জেওগমা শহরের টাকশাল দেখা যাচ্ছে । চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons

সিডিয়ান লিজিয়ন ছাড়াও অন্যান্য যেসব বিশেষ বাহিনীর কথা শোনা যেত তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চতুর্থ ফ্লাভিয়া ফেলিক্স (Legio Quarta Flavia Felix)।  রোমান সেনাবাহিনীর তুখোড় যোদ্ধা এবং পরবর্তীতে  সাম্রাজ্যের সম্রাট ভেসপাসিয়ান মেসিডোনিয়ার সৈন্যদের নিয়ে গড়ে তোলেন এই ফ্লাভিয়া ফেলিক্স লিজিয়ন৷ ফ্লাভিয়ান সৈন্যরা জেওগমা শহরে নিয়োজিত ছিল কি না এ ব্যাপারে আগে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া না গেলেও ২০১৫ সালে তুরস্কের আঙ্কারার বাসকেন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তুলগা আব্বুসলিওলু প্রথমবারের মত জেওগমাতে নতুুন পাওয়া মোজাইকের ওপর লেখার   সূত্র ধরে ফ্লাভিয়ানদের জেওগমাতে উপস্থিতির ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।   

দ্বিতীয় শতকেও সোনালী যুগ পার করা জেওগমা ২৫৬ খ্রিস্টাব্দে যোদ্ধা জাতি খ্যাত সাসানিদদের  রাজা প্রথম শাপুরের আক্রমণের শিকার হয় এবং শাপুর শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন । শাপুরের আক্রমণ আর কিছু বছর পরের ভূমিকম্প মিলিয়ে জেওগমা কখনও তার আগের রূপে ফেরত যেতে পারেনি। 

চতুর্থ সিডিকান লিজিয়ন।
চতুর্থ সিডিকান লিজিয়ন। চিত্রসূত্র: Tumblr 

পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শতাব্দীতে শহরটি বাইজান্টাইনদের শাসনাধীনে থাকে। সপ্তম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের সাথে সাথে বাইজান্টাইনরা শহরটি পরিত্যাগ করে। নবম এবং দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কিছু সময়ের জন্য মুসলিমরা শহরটিতে অবস্থান করলেও কিছুকাল পরে তাঁরাও শহরটি ছেড়ে চলে যায়। এর পরের কয়েক শতাব্দী জেওগমা শহরটির সঠিক অবস্থান কেউ জানতো না। 

১৬০০ শতাব্দীতে ফোরাতের তীরে গড়ে ওঠা বেলকিস গ্রামই যে জেওগমা এটা জানতে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। বিশ শতকে জার্মান ইতিহাসবিদ ওয়েগনার বেলকিস গ্রামের জায়গায় প্রত্নতত্ত্বের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে প্রাচীন জেওগমার অবস্থান বেলকিস গ্রামের আশেপাশেই ছিলো। 

প্রাচীন অনেক সভ্যতার মতই জেওগমাও কলঙ্কমুক্ত ছিলো না। পশ্চিম দিকের রোমান সভ্যতা, পূর্বের কোমাজিন এবং সাসানীয় সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বানিজ্য কেন্দ্র হওয়ার দরুন শহরের উপরের শ্রেণীর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দাস ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে দাস এনে জেওগমাতে জড়ো করা হতো। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দাসদেরকে সংরক্ষণ করতেন এবং চড়া দামে রোমান সাম্রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের লোকেদের কাছে বিক্রি করতেন।         

জিপসি মেয়ের শহর জেওগমার ভাষা 

শহরটি ছিলো আমাদের বর্তমান সময়কার সেনানিবাসের মত। সেনাবাহিনির পাশাপাশি রোমান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রোমের বিখ্যাত বণিকরা থাকতো এখানে। জনসংখ্যার সিংহভাগ মূলত প্রাচীন গ্রিক ভাষায় কথা বলতো। দাপ্তরিক কাজেও ব্যবহৃত হতো প্রাচীন গ্রিক। তবে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষে লাতিন লেখার অনেক চিহ্ন থাকায় এটা ধারণা করা হয় যে প্রশাসনের একটা অংশ দাপ্তরিক কাজে লাতিনও ব্যবহার করতো।   

মোজাইক বৃত্তান্ত 

বর্তমান যুগ পর্যন্ত নিদর্শনগুলোর ওপর গবেষণার সূত্রধরে পৃথিবীর প্রথম মোজাইকের সন্ধান পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ সালে, মেসোপোটেমিয়া অঞ্চলের প্রথম সভ্যতা সুমেরিয়দের সময়কালে। বিভিন্ন রঙিন পাথর, কাঁচ আর কাঠের সমন্বয়ে তৈরী হত প্রাচীনকালের মোজাইকগুলো। 

সুমেরীয় সভ্যতার একটি মোজাইক
সুমেরিয় সভ্যতার একটি মোজাইক। চিত্রসূত্র: Wikimedia Commons 

শুরুতে আনাড়ি ঘরানার হলেও বর্তমান যুগেও আকর্ষণীয় মনে হবে এমন মোজাইকগুলো প্রথম তৈরী হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০ শতাব্দীর দিকে। মোজাইকের সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটির উৎপত্তি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ছিল না৷ ঘরোয়া পুকুর (Pool) এবং হামামের পানি যাতে তলার কাঁদামাটির সাথে না মেশে সেজন্যই প্রতিবন্ধক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মোজাইক তৈরি করা হতো। মানব সৃষ্টিশীলতার শৈল্পিক নৈপুণ্যের ফলস্বরূপ মোজাইকে প্রাচীন গ্রীস এবং আনাতোলিয়ার বিভিন্ন দেবতা, ধর্মীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার চিত্রগুলো ঠাঁই পেতে শুরু করে। 

পরবর্তী সময়ে মোজাইকগুলো প্রাসাদ এবং উচ্চবিত্ত বাড়িগুলোর মেঝের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ব্যবহৃত হতো। জেওগমার জিপসি মেয়ে সম্বলিত মোজাইকটিও তেমনিভাবে কোনো উচ্চবিত্ত পরিবারের খাবার কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধনে নিয়োজিত ছিল। 

গ্রিক মিথলজির দেবতা সম্বলিত জেওগমা শহরের একটি মোজাইক। চিত্রসূত্র : Uzak Travel Agency 

কীভাবে যাবেন প্রাচীন রোমান সভ্যতার জেওগমায়

জেওগমার ধ্বংসাবশেষে পাওয়া সব মোজাইকগুলো নিয়ে গাজিআনতেপ শহর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে জেওগমা জাদুঘর। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মোজাইক জাদুঘরটি দেখতে হলে আপনাকে আসতে হবে তুরস্কের গাজিআনতেপ শহরে৷ 

ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুলে সরাসরি টার্কিশ এয়ারলাইনস্ এর ফ্লাইট রয়েছে। ইস্তাম্বুল থেকে গাজিআনতেপ সরাসরি বিমানযোগে মাত্র এক ঘণ্টার পথ। শহরের ফোরাম গাজিআনতেপ বিপণী বিতান থেকে হেঁটে পনেরো-বিশ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন জেওগমা জাদুঘরে। তবে মূল প্রাচীন শহরটি দেখতে হলে যেতে হবে প্রদেশের নিজিপ জেলার ফোরাত নদীর তীরে। 

তথ্যসূত্র: 

ফিচার ছবিসূত্র: Wikimedia Commons

আরও পড়ুন: হারানো শহর আটলান্টিস : স্রেফ পৌরাণিক কাহিনি নাকি বাস্তবিক

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on জিপসি মেয়ে: তুর্কি মোজাইক শহর জেওগমার মোনালিসা

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!