গান্ধী: একটি নাম, একটি জীবন, একটি সফল অধ্যায় (পর্ব ২)

4.6
(10)
Bookmark

No account yet? Register

মহাত্মা গান্ধী ছিলেন ভারতবর্ষের অন্যতম রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এবং প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি প্রত্যেক ভারতবাসীর মনে স্বাধীনতার যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন, তা একদিন ব্রিটিশরাজকে ধুলােয় মিশিয়ে এই দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল। তাঁর মতাদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এই একুশ শতকেও আমাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য যথেষ্ট এবং তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য উজ্জ্বল আদর্শ। নিবন্ধের এই পর্বে থাকছে মহাত্মা গান্ধীর দক্ষিণ আফ্রিকায় অবদান, ভারতবর্ষের প্রতি আত্মনিবেদন, রাজনৈতিক জীবন এবং ভবিষ্যৎ ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য থাকছে কিছু চিরোজ্জ্বল উপদেশবার্তা।

অসামান্যতে লিখুন

দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধী

তরুণ বয়স থেকেই মহাত্মা গান্ধী ছিলেন অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার।
গান্ধীজির দক্ষিণ আফ্রিকা অবস্থানকালীন ছবি; চিত্রসূত্র: পাবলিক বুকস

লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করে ভারতে আসার কিছুদিন পরেই তিনি একটি মামলা লড়তে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমান।সেখানে গিয়ে ভারতীয়দের অবস্থা দেখে তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। মামলার কাজ শেষেও তিনি সেখানে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গরা সাধারণভাবে প্রচলিত বৈষম্যের শিকার ছিল। সেই সূত্র ধরে তাকে একদিন পিটার ম্যারিজবার্গের একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরা থেকে তৃতীয় শ্রেণির কামরায় যেতে বাধ্য করা হয়। স্টেজকোচে ভ্রমণের সময় একজন চালক তাঁকে প্রহার করে, কারণ তিনি এক ইউরােপীয় যাত্রীকে জায়গা দিতে ফুটবাের্ডে চড়তে রাজি হননি। যাত্রাপথে তাঁকে সহ প্রত্যেকটা ভারতীয়কে আরও বিভিন্ন ধরনের কষ্ট করতে হয়। হােটেল থেকেও একসময় বহিষ্কার করা হয়। এই ঘটনাগুলাে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এবং অবিচার দূরীকরণের আন্দোলনে তাঁকে যথেষ্ট প্রভাবিত করে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভােটাধিকার ছিল না। এই অধিকার আদায়ের বিল উত্থাপনের জন্য তিঁনি আরও কিছুদিন দেশটিতে থাকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। তিনি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই আন্দোলন তখন সেদেশের ভারতীয়দের অধিকার বিষয়ে সচেতন করে তুলেছিল। 

আন্দোলন গুলোর অংশ হিসেবে ১৮৯৪ সালে তিনি সেখানে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে সেখানকার ভারতীয়দের রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টাও তাঁর অব্যাহত ছিল। 

১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে ভারতে এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষে সাউথ আফ্রিকাতে ফিরে যাওয়ার পর এক শ্বেতাঙ্গ লোক তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনাে অভিযােগ করেননি। কারণ তিনি সবসময় মনে করতেন-

কারও ব্যক্তিগত ভুলের জন্য পুরাে দলের বিরুদ্ধে প্রতিশােধ নেওয়াটা কখনোই ঠিক না। অপমান ও আঘাত করা কিছু মানুষের ধর্ম, কিন্তু ক্ষমা করা আর অপমানের উত্তর ভালবাসা দিয়ে দেয়া আমার ধর্ম, আমার বিবেক। আর আমি ঈশ্বর নই, আমি একজন মানুষ, আর মানুষ জন্যই মানুষের মতাে আচরণ করি।

মহাত্মা গান্ধীর দেশপ্রেম

‘দেশ স্বাধীন’ কথাটি ছােট্ট হলেও অনুভূতিটা আলাদা। যদি ফিরে যাওয়া যায় ইতিহাসের পাতায় তবে দেখা যায়, স্বাধীন হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগেই দেখেছিল ভারতবর্ষ। কিন্ত ব্যপারটা হচ্ছে স্বাধীন হতে পারেনি। গান্ধীজী ভারতে আসার আগে যে স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল, তিনি স্বদেশে ফিরে আসলে তা ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায়। দেশের প্রতি, জন্মভূমির প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। তাইতো তিনি সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন-

একতা একটি দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সমাজের সব স্তর,সব শ্রেণি ঐক্যবদ্ধ হলে সেই দেশের উন্নতি অনিবার্য।

ভারত প্রত্যাবর্তন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড

তৎকালীন কংগ্রেস প্রধান মহাত্মা গান্ধী
তৎকালীন কংগ্রেস প্রধান মহাত্মা গান্ধী; চিত্রসূত্র – দ্য মর্নিং ক্রনিকল

১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। ফিরে এসেই দুস্থ কৃষক এবং দিনমজুরকে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্যমূলক কর আদায় ব্যবস্থা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তুখোড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সবসমযের অস্ত্র ছিল অসহযােগ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।

১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাহী পদের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস স্বরাজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন সংবিধান গ্রহণ করে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর মহাত্মা গান্ধী ভারতবর্ষব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী স্বাধীনতা, বিভিন্ন জাতিগােষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ, জাতির অর্থনৈতিক সচ্ছলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন যার সবগুলােই ছিল ভারতকে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ।

১৯২২ সালের ১০ মার্চ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযােগে তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯২৪ সালে তখন হিন্দু-মুসলিমের অহিংস আন্দোলন চলাকালীন সৌহার্দ্যের ভাঙন ধরে। বিরােধ মেটাতে তিনি তিন সপ্তাহের অনশন করেন। পরবর্তীতে শাস্তির দুই বছরের মাথায় ১৯২৪ সালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। জেল থেকে ফিরে এসে স্বরাজ পার্টি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাঝে বাধা দূর করতে চেষ্টা করেন। পাশাপাশি অস্পৃশ্যতা, মদপান, অবজ্ঞা এবং দরিদ্রতার বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রাম সর্বদা অব্যাহত ছিল।

১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে একটি নতুন সংবিধান সংশােধনী কমিশন গঠন করে। তারপর কলকাতা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতকে ডােমিনিয়নের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান মহাত্মা গান্ধী। অন্যথায় নতুন অহিংস নীতির পাশাপাশি পূর্ণ স্বাধীনতার হুমকিও দেয় তার দল। এ সময় মহাত্মা গান্ধীর মাধ্যমে তরুণ রাজনীতিবিদ সুভাষচন্দ্র বসু এবং জহরলাল নেহেরু রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। এমনকি ৩০ এর গােটা দশক তিনি প্রতিটি জায়গায় গিয়ে একটাই কথা বলতেন,

আমার দুটি পুত্র, বড়টি সুভাষ এবং ছােটটি নেহেরু।

তারপর ১৯৩০ সালে  ভারতীয়দের লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মহাত্মা গান্ধী ৪০০ কিলােমিটার দীর্ঘ ডান্ডি লবণ কুচকাওয়াজের ডাক দেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সরকার ৬০,০০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

লবণ অভিযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
চিত্র : লবণ যাত্রায় গান্ধীর সহযাত্রী হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, চিত্রসূত্র – Thoughtco

পরবর্তীতে ইংরেজদের সমসাময়িক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯৪২ সালে সব আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জনগণের মাঝে ইংরেজ শাসকদের প্রতি সরাসরি ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল মহাত্মা গান্ধীর হাত ধরেই।

'ভারত ছাড়' আন্দলনের ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী।
চিত্র: ভারত ছাড় আন্দোলনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ; চিত্রসূত্র –ফার্স্টপোস্ট 

এরপরে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম, বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের অবদান এবং ভারতবাসীর তীব্র চাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট আসে ভারতের সেই কাঙ্খিত,বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা।

প্রায় দুইশত বছর ব্রিটিশদের অধীনে ছিল ভারতবর্ষ
চিত্র: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, ভারতের স্বাধীনতা দিবস; চিত্রসূত্র – গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার 

এখানে উল্লেখ্য যে, তিনি নিষ্ঠুর শাসকদের বিরােধিতা করায় বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে কারাভোগ করেন । 

মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক উপদেশ

মহাত্মা গান্ধী ছিলেন জননেতা।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে মহাত্মা গান্ধী। চিত্রসূত্র: Biography
  • ধারের টাকা খরচ করে কখনো গণকাজ করতে নেই। জনগণের টাকা জনগণের কাজেই লাগাতে হবে। এ জন্য প্রতিটি সংগঠনের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে চাঁদা আদায়ের স্বচ্ছ ব্যবস্থা থাকা চাই। প্রকৃতপক্ষে দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি শিখেছিলেন যে কারাে হাতে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত অর্থ জমা থাকা উচিত নয়।
  • প্রতিটি সংগঠনের জন্য মাসে একবার, প্রয়ােজনে সপ্তাহেও একবার মিটিং করা উচিত। পূর্ববর্তী মিটিংয়ের কার্যবিবরণী এবং সব ধরনের প্রশ্নই আলােচনা করা উচিত। সংগঠনের প্রধান কর্মকর্তার মূল কাজ হচ্ছে প্রত্যেক সদস্যকে মিটিংয়ের নিয়ম-কানুন ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেয়া এবং তাদের তা মেনে চলতে বাধ্য করা।
  • গণআলােচনায় অংশ নেয়া বা সংক্ষেপে গুছিয়ে কথা বলার অভিজ্ঞতা সংগঠনের প্রতিটি কর্মীর থাকা চাই। প্রত্যেকেরই প্রথম প্রথম দাঁড়িয়ে কথা বলতে সংকোচবােধ হয়। যাদের এই গুণটি নেই কিন্তু রাজনীতিবিদ হতে চায় তাদের উচিত জনগণের সামনে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চিন্তা করা ও কথা বলার অভ্যাস রপ্ত করা।
  • গণকাজে অনেক সময় ছােট ছােট কাজের জন্য বড় অংকের টাকা ব্যয় হয়। ছােটখাটো ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘটনকে অবশ্যই মিতব্যয়ী হতে হবে এবং এরকম মিতব্যয়িতা প্রত্যেক সংগঠনের জন্য অত্যাবশ্যক। এতদসত্ত্বেও তা বাস্তবে খুব কমই মানা হয়।

তিনি মনে করতেন সংগঠনের খুব ছােট কিন্তু বর্ধিষ্ণু এবং ক্ষুদ্র বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা পাশাপাশি প্রতিটি পাই-পয়সারও স্বচ্ছ হিসাব রাখা সংগঠনের কর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাঁর রচিত আত্মজীবনীতে এ বিষয়ে একটি বাক্য এরকম –

আমি গর্বের সাথে বলতে পারি যে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেসের রেকর্ডপত্র খুঁজলে আজো ১৮৯৪ সালের হিসাবের বই পাওয়া যাবে।

  • সযত্ন হিসাব সংরক্ষণ যে কোনাে সংগঠনের অপরিহার্য গুণ, না হলে সংগঠনের বদনাম হয়। সঠিক পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ ছাড়া সংগঠনের সততা ও আদি বিশুদ্ধতা বজায় রাখা অসম্ভব ।
  • সর্বোপরি প্রত্যেক রাজনৈতিক সংগঠনেরই জনগণের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। সংগঠনের কর্মীদের সবসময় চেষ্টা করতে হবে মানুষের প্রয়ােজন ও দুঃখ-দুর্দশা, সুবিধা-অসুবিধার কথা, চাওয়া-পাওয়া, অধিকার-অনাধিকারের দিকে গুরুত্ব দেয়া। তবেই রাজনৈতিক সংগঠন হয়ে উঠবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর।

মহাত্মা গান্ধীর জীবনাবসান

দেশের মানুষের জন্য যারা জীবনের সব অর্জন উৎসর্গ করেন তাদেরকেই বলি হতে হয় একদল বাজে, নিকৃষ্ট, নষ্ট মানুষের ঘাতকীয়, স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ডে। অন্য অনেক মহৎপ্রাণ নেতাদের পাশাপাশি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড দ্বারাও এই কথা প্রমাণিত হয়। তাঁকে ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসে নামক এক হিন্দু মৌলবাদী গুলি করে হত্যা করেন। গডসে এবং গডসের সহায়তাকারীকে পরবর্তীতে আইনের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৯৪৯ সালের ১৪ নভেম্বর তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। 

নেহেরু এবং মহাত্মা গান্ধী ছিলেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র।
চিত্র : মহাত্মা গান্ধী এবং নেহেরু, চিত্রসূত্র –ফ্লিকার

তাঁর মৃত্যুর পর জওহরলাল নেহেরু রেডিওতে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে বলেন: 

বন্ধু ও সহযােদ্ধারা, আমাদের জীবন থেকে আলাে হারিয়ে গেছে এবং সেখানে শুধুই অন্ধকার। আমি ঠিক জানি না আপনাদের কী বলবো, কেমন করে বলবো। আমাদের প্রেমময় নেতা, যাকে আমরা বাপু বলে থাকি, আমাদের জাতির পিতা, আর নেই। হয়ত এভাবে বলায় আমার ভুল হচ্ছে তবে আমরা আর তাকে দেখতে পাব না যাকে আমরা বহুদিন ধরে দেখেছি, আমরা আর উপদেশ কিংবা স্বান্ত্বনার জন্য তার কাছে ছুটে যাব না। এবং এটি এক ভয়াবহ আঘাত, শুধু আমার জন্যই নয়, এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য।

মহাত্মা গান্ধী ১৯৪৮ সালে নিহত হন।
চিত্র : শেষযাত্রায় মহাত্মা গান্ধী, চিত্রসূত্র –ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

একটি নাম, একটি জীবন এভাবেই উজ্জ্বল তারকারাজি হয়ে মানুষের মাঝে বিরাজ করুক, তার নীতি-আদর্শ ছড়িয়ে যাক দেশ থেকে দেশান্তরে, চিরস্মরণীয়, চিরবরণীয় হয়ে থাকুক প্রতিটি মানুষের হৃদয়কোণে।

গ্রন্থসূত্র:

  • গান্ধী, মহাত্মা। আমার আত্মজীবনী। ISBN:9789848939581। স্বরবৃত্ত প্রকাশনী। অনুবাদক:আব্দুল ওয়াহাব।

তথ্যসূত্র:

নিবন্ধের প্রথম পর্ব পড়ুন এখান থেকে: গান্ধী: একটি নাম, একটি জীবন, একটি সফল অধ্যায় (পর্ব-১)

ফিচার চিত্রসূত্র: দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on গান্ধী: একটি নাম, একটি জীবন, একটি সফল অধ্যায় (পর্ব ২)

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!