কুকুরের ভেজা নাক

কুকুর, তার ভেজা নাক ও গন্ধশোঁকার খ্যাতি

এন মাহমুদ
4.7
(9)
Bookmark

No account yet? Register

মনুষ্য সমাজে যে বৈশিষ্ট্যের জন্য কুকুর বিখ্যাত, তা হল বিশ্বস্ততা এবং গন্ধ শোঁকার ক্ষমতা। মানুষ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে চোখ, তাই মানুষ দেখার কাজে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে।  কিন্তু কুকুরের ক্ষেত্রে  দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।  এরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে নাক। নাকের মাধ্যমে গন্ধ শোঁকার ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে এরা বাইরের পরিবেশ থেকে তথ্য আহরণ করে। আর এই ক্ষমতার জন্য সামরিক বাহিনির কমান্ডো দলেও কুকুর দেখা যায়।

অসামান্যতে লিখুন

কুকুরও কথা বলে, তবে তারাই শোনে যারা জানে কীভাবে শুনতে হয় !

ওরহান পামুক

কেন জানব কুকুর এবং তার নাক সম্পর্কে

এখন কথা উঠতেই পারে কুকুরের নাক সম্পর্কে জেনে লাভ কী আমাদের।  তাহলে লাভ নিয়েই বলি। প্রথমত কুকুরের এই নাকের ক্ষমতার জন্য অপরাধ নির্ণয়ে কত ব্যবহার হয় তার ইয়ত্তা নেই।  আবার জেনে অবাক হওয়ার মত তথ্য এই যে, শোঁকার ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্যানসার কোষ পর্যন্ত নির্ণয় করার সক্ষমতা আছে কুকুরের। এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরেরা ৯৯% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ফুসফুস ক্যান্সার নির্ণয় করতে পারে। তাহলে বোঝাই যায় কুকুরের নাক নিয়ে কত সম্ভাবনার চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নাক ভেজা থাকলে কী সুবিধা পায় কুকুর

আমাদের আজকে জানার বিষয়, কুকুরের নাক কেন ভেজা থাকে? কুকুরের নাক ভেজা থাকার কারণ হলো কুকুরের নাকের ভিতর এক প্রকার মিউকাস। আর এই মিউকাস মূলত কুকুরের নাককে ভেজা রাখে।  এখনতো প্রশ্ন হতেই পারে নাক ভেজা রেখে লাভটা কী কুকুরের?

কুকুর এর নাকের ভিতর এক প্রকার মিউকাস
কুকুরের নাকের ভিতর থাকে এক প্রকার মিউকাস । চিত্রসূত্র- Pixabay

একটা লাভ হল, কুকুরের নাক ভেজা থাকলে কুকুর ঠাণ্ডা বোধ করে। ঐযে মিউকাসের কথা বললাম, ওর সাথেই আরেক ধরনের জলীয় পদার্থ  বের হয় যার ফলে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে দেহের তাপ পরিবেশে ছেড়ে আরাম বোধ করে কুকুরেরা।  

তবে এটা কিন্তু মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। কোন কিছুর সন্ধান করতে থাকলে শুঁকতে শুরু করে কুকুরেরা। সে পরিবেশ থেকে অনুসন্ধানের বস্তুর কণাগুলোর সন্ধান করতে থাকে,  পরিবেশ থেকে কোন কণার সন্ধান পেলে তা কুকুরের ভেজা নাকে লেগে যায়।  এতে সে আরও একটু সময় পেয়ে যায় বস্তু সম্পর্কে জানতে।  

তবে সমস্যা একটা থেকেই যায় । বস্তুর কণা এসে নাকে লেগে থাকলে তো চলবে না।  এগুলো সরিয়ে আরও নতুন তথ্য জানতে হবে তাকে। আর তাই সে তার জিহ্বা দিয়ে নাকটিকে চেটে নেয়। ফলে আগের কণাগুলো আর লেগে থাকেনা, আবার একই সাথে নাকের মিউকাস বের হতেই থাকে ফলে নতুন কণার জন্য নাকটি আবার প্রস্তুত হয়ে যায়।আর এভাবেই কুকুর তার অনুসন্ধানের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। 

শুকনো নাক মানেই কি অসুস্থতা?

সদ্য ঘুম থেকে উঠা কুকুর
সদ্য ঘুম থেকে উঠা কুকুর । চিত্রসূত্র- Pixabay

এখন আরও একটা বিষয় এসে যায়, আগেই বলেছি অনেকে মনে করে কুকুরের নাক শুকনো মানেই কুকুরটি অসুস্থ৷  আসলেই কি তাই? 

আসলে তা নয়।  কুকুরের অসুস্থতার অনেকগুলো লক্ষণের মধ্যে একটি হল কুকুরের শুকনো  নাক।  তবে সবসময় শুকনো নাক মানেই যে সে অসুস্থ এটা বলা যায় না। কেননা কুকুর যখন ঘুমায় তখন তার নাকের মিউকাস বের হওয়া কমে যায়, তাই ঘুম থেকে উঠার সময় তার নাক শুকনো থাকতেই পারে।  আবার কুকুর অনেকক্ষণ দৌড়দৌড়ি করতে থাকলে কুকুর ডিহাইড্রেট হয়ে যায়,  এতেও তার নাক শুকনো হতে পারে৷  এছাড়াও পরিবেশ, আবহাওয়া ও বয়সের কারণেও কুকুরের শুকনো নাক দেখা যায় ৷ আর এগুলোর কোনটাই কুকুরের রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই শুকনো নাক মানেই কুকুর অসুস্থ তা বলা যায় না।  

যাইহোক জানা তো হল কুকুরের নাক কেন ভেজা থাকে।

কুকুরের নাক: কিছু বিশেষ ক্ষমতা

এখন চলুন জেনে নেয়া যাক কুকুরের নাকের বিশেষ কিছু ক্ষমতা –

যুদ্ধের ময়দানে থাকা কুকুর
যুদ্ধের ময়দানে কুকুর । চিত্রসূত্র – Pixabay
  • আগেই বলছি কুকুরের নাকের ভেতর থাকে আরেক নাক। মানে কেউ যদি ভুল করে বলেই ফেলে কুকুরের দুটো নাক, তাহলে হয়ত খুব একটা ভুল হবে না। 
  • কুকুর শ্বাস-প্রশ্বাস একই সাথে চালাতে পারে।
  • আমরা যেমন কোন বস্তুকে ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) আকারে দেখি তেমনি কুকুরের শোঁকার ক্ষমতাকেও ত্রিমাত্রিকের সাথে তুলনা করা হয়৷ 
  • কুকুর নাকের মাধ্যমে বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায়  শরীরের পানি বাইরে বের করতে পারে। 
  • কুকুর গন্ধ শোঁকার মাধ্যমে প্রতিটি বস্তুকে আলাদা করে চিনতে পারে।

আরও পড়ুন: সাভান্ট সিনড্রোম ও কিছু মানুষের বদলে যাওয়া জীবনের গল্প (পর্ব ১)

দামি কিছু কুকুর

এতগুলো গুণ থাকলে তার দাম কেমন হতে পারে ধারণা আছে? শেষ করার আগে দেখে নিই কিছু দামি কুকুর –

১. স্যাময়েড – দাম প্রায় ১৪ হাজার ডলার

পুতুলের মতো দেখতে এটা স্যাময়েড
 পুতুলের মতো দেখতে একটি স্যাময়েড । চিত্রসূত্র – Pixabay 

স্যাময়েড দেখতে যেন সুন্দর তেমনি খ্যাতি রয়েছে গন্ধ শোঁকার ক্ষমতার জন্য। সাইবেরিয়ার এই কুকুরের চোখ নাকি ফাঁকি দিতে পারে না একটা মাছিও। এছাড়াও সে যেমনি চালাক তেমনি সামাজিক। 

২. লাউচেন – দাম প্রায় ১২ হাজার ডলার

সিংহরূপি কুকুরের জাত লাউচেন
 সিংহরূপি কুকুর লাউচেন । চিত্রসূত্র- Pixabay

এরা ছোট সিংহ হিসেবে খ্যাত। ঘাড়ে রয়েছে সিংহের মতোই কেশর ৷ বর্তমানে এদের সংখ্যা অনেক কম। বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলায় বেশ পারদর্শী এই ইউরোপীয়ান কুকুর। 

৩. চাউ চাউ – দাম ১১ হাজার ডলার

নর্থ চীনে এই কুকুর প্রশিক্ষণের জন্য জনপ্রিয়।

৪. টিবেতান মাসটিফ – দাম ১০ হাজার ডলার

প্রতিরক্ষার জন্য বিখ্যাত এই আমেরিকান কুকুর। ভদ্র স্বভাবের এই কুকুর বেশ প্রভুভক্ত হয়ে থাকে। 

৫. আজাওয়াখ – দাম ৯ হাজার ডলার 

বিরল এই কুকুরের জাত বিখ্যাত তার শিকার ধরার ক্ষমতার জন্য। 

কুকুর নিয়ে অনেক কথা বললাম।  অন্যদেশে কুকুর অনেকের প্রিয় হলেও আমাদের দেশে তার উল্টো। পাঠকদের প্রতি একটাই অনুরোধ থাকবে যেন কুকুর দেখা মাত্রই আমরা যেন লাঠি হাতে নিয়ে তাদের পিছনে না ছুটি।  এতটুকু মানবিকতা তো আমরা দেখাতেই পারি!

তথ্যসূত্র:

ফিচার ছবি – Pixabay

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on কুকুর, তার ভেজা নাক ও গন্ধশোঁকার খ্যাতি

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!