এশিয়া মহাদেশ ভ্রমণ

পর্যটকদের কাছে এশিয়া ভ্রমণের সেরা ১০ টি দর্শনীয় স্থান

মশিউর রাকিব
4.7
(6)
Bookmark

No account yet? Register

পৃথিবী একটি বই, আর যারা ভ্রমণ করে না তারা সেই বইটি পড়তে পারে না।

সেন্ট অগাস্টিনের এই উক্তিটি বলে দেয় ভ্রমণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীকে জানার জন্য, নতুন করে আবিষ্কারের জন্য। ভ্রমণের জন্য এশিয়া মহাদেশের সেরা দর্শনীয় স্থান কোনটি? সেটি নির্বাচন করা খুব কঠিন বটে। তারপরও, আজ আমরা এশিয়া মহাদেশের পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ১০ টি সেরা দর্শনীয় স্থান সমন্ধে জানার চেষ্টা করব।  

লোনলি প্লানেট এশিয়া-প্যাসিফিক মিডিয়ার মুখপাত্র ক্রিস জেইহার বলেছেন, “এশিয়া হলো স্বপ্ন দেখানোর জায়গা। এর সৌন্দর্য বিশাল।”

সমগ্র বিশ্বের পর্যটকদের কাছে এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন স্থানের খুব কদর আছে। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলো একনাগাড়ে শীত এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় অভ্যস্ত বলে, শীত এবং উষ্ণ আবহাওয়ার অঞ্চল এশিয়ায় ভ্রমণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। 

পশ্চিমারা সাধারণত এশিয়া ভ্রমণে আসে একটু ভিন্ন স্বাদ পাবার জন্য, সেটা পরিবেশ, মানুষ, প্রকৃতি বা খাবার যাই হোক না কেন। এশিয়া তাদের কখনই হতাশ করেনি। এশিয়া তার সীমাহীন বৈচিত্র্য দিয়ে বারবার পশ্চিমাদের মন জয় করে নিয়েছে।

১. তাজমহল, ভারত 

তাজমহল
তাজমহল । চিত্রসূত্র: Pixabay

তাজমহল বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের অন্যতম একটি। এটি মুঘল সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের প্রতীক। তাজমহল উত্তর ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের আগ্রা শহরে অবস্থিত। এটি আগ্রা শহরের পূর্ব অংশে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।   

সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘল সম্রাট শাহজাহান (১৬৩২-১৬৫৩) তাঁর স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করেন। প্রায় বিশবছর ধরে বাইশ হাজার শিল্পী ও শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এই স্মৃতিস্তম্ভ!  

১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করে।

পিলারে খোদাই করা নকশা
পিলারে খোদাই করা নকশা। চিত্রসূত্র: Pixabay

তাজমহলের প্রবেশপথে যেকোন পর্যটকের মন জুড়িয়ে যাওয়ার জন্য রয়েছে খিলান, মিনারসহ পেঁয়াজ আকৃতির অসংখ্য গম্বুজ এবং কালো ক্যালিগ্রাফি দ্বারা নকশা করা হয়েছে  কুরআনের অনেকগুলো আয়াত। এর বেশিরভাগ জায়গায় সাদা মার্বেল দ্বারা ভঙ্গুর ফুলের নকশায় সজ্জিত রয়েছে।  

শিল্পে ঐতিহ্যে সবদিক দিয়ে এশিয়ার পর্যটনকেন্দ্রের শীর্ষে এই তাজমহল।

২. দ্যা গ্রেট ওয়াল, চীন 

দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না
দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না। চিত্রসূত্র: Pixabay

চীনের মহাপ্রাচীর বা দ্যা গ্রেট ওয়াল অফ চায়না নামে খ্যাত প্রায় ২১,১৯৬ কি.মি দৈঘ্যের এই নিদর্শনটি পূর্ব এশিয়ার, উত্তর চীনে অবস্থিত। চীনারা সাধারণত একে চ্যাং – চ্যাং নামে অভিহিত করে। মানব নির্মিত দীর্ঘ সারির এই প্রাচীরটি মাটি এবং পাথর দ্বারা নির্মিত। মূলত সামরিক আক্রমণ রোধ এবং সিল্কের বাণিজ্য রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ২,৩০০ বছর আগে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি। 

১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো চীনের এই মহাপ্রাচীরকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে যুক্ত করে।   

দ্যা গ্রেট ওয়ালের ভিতরের অংশ
দ্যা গ্রেট ওয়ালের ভিতরের অংশ। চিত্রসূত্র: Pixabay

প্রায় ৮ মিটার উচ্চতার এই প্রাচীরটি মানব নির্মিত সবচেয়ে বড় প্রাচীর হিসেবে আখ্যায়িত।

বছরের প্রায় সবঋতুতে এখানে পর্যটকদের আনাগোনায় প্রাচীরটি মুখরিত থাকে। তবে ঋতুর পরিবর্তনে প্রাচীরের চারদিকের সৌন্দর্য পরিবর্তিত হতে দেখা যায়। যেমন, বসন্তকালে এর চারদিকে গাছপালা দ্বারা বেষ্টিত থাকে আবার শীতকালে তুষার দ্বারা আবৃত থাকে। 

কিন্তু তাই বলে বছরের যেকোন ঋতুতে প্রাচীরের সৌন্দর্য পর্যটকদের মন ভরিয়ে দিতে একটুও কার্পণ্য করে না।

৩. মাউন্ট ফুঝি, জাপান 

মাউন্ট ফুঝি, জাপান
মাউন্ট ফুঝি, জাপান। চিত্রসূত্র: Pixabay

মাউন্ট ফুঝি জাপানের সবচেয়ে উঁচু পর্বত। প্রায় ৩,৩৭৬ মিটার উচ্চতার এই পর্বতটি জাপানের বিশ্বখ্যাত একটি প্রতীক। এটি জাপানের ইয়ামানশি এবং শিজুওকা প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত যা জাপানের রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর টোকিও থেকে মাত্র ১০০ কি.মি দূরবর্তী।

বহু বছর ধরে পর্যটক, শিল্পী এবং চিত্রশিল্পীদের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মাউন্ট ফুঝিকে ২০১৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

পাহাড়ের চুড়ায় পর্যটক
পাহাড়ের চুড়ায় পর্যটক। চিত্রসূত্র: Pixabay

মাউন্ট ফুঝির সবচেয়ে অসাধারণ দৃশ্য দেখার উপায় হলো গ্রীষ্মের রাতে পাহাড়ের চুড়ায় উঠে  সূর্যোদয় বা গোড়াইকো দেখা। এমন সুযোগ পেলে যেকারো নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে হবে। 

তবে গ্রীষ্মের তুলনায় বছরের শীত মৌসুমে এবং দিনের প্রথম ভাগ অর্থাৎ ভোরে এবং শেষভাগ অর্থাৎ সন্ধ্যায় এর মনোরম দৃশ্যে যে কাউকে মাউন্ট ফুঝিতে হারিয়ে যেতে বাধ্য করবে।

  ৪. বুশান, দক্ষিণ কোরিয়া    

বুশান, দক্ষিণ কোরিয়া
বুশান, দক্ষিণ কোরিয়া। চিত্রসূত্র: Pixabay 

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে কোরিয়ান উপদ্বীপের প্রান্তে মন জুড়ানো  দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুশান। 

কী নেই এই বুশান শহরে? পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দেওয়ার মতো শহরটিতে রয়েছে বিশ্বের বিখ্যাত বুশান বন্দর। নানান ইতিহাস, ঐতিহ্যে ঘেরা এই শহরটি সবকিছুতে পরিপূর্ণ।

হিউন্ড বিচ
হিউন্ড বিচ। চিত্রসূত্র: Pixabay

বুশান ভ্রমণের পথে সবার প্রথমে চোখ আটকে যাবে হিউন্ড বিচের সৌন্দর্যে। প্রায় দীর্ঘ এই সাদা বালির সৈকতটিতে সাঁতার কাটার অনাবিল আনন্দ যেকোনো পর্যটককে মাতিয়ে রাখতে বাধ্য করবে। 

গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড অনুসারে বিশ্বের বৃহত্তম ডিপার্টমেন্ট সেন্টার সিনসেগা সেন্টম সিটি এই বুশান শহরেই অবস্থিত। 

গ্যামচাঁও গ্রাম
গ্যামচাঁও গ্রাম। চিত্রসূত্র: Pixabay

বুশানের গ্যামচাঁও সাংস্কৃতিক গ্রাম উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া বুশানে থাকাকালীন বেশ কয়েকটি মন্দির চোখে পড়বে তার মধ্যে বেওমোসা মন্দির উল্লেখযোগ্য। 

আরও পড়ুন:

৫. হংকং, চীন  

হংকং
হংকং। চিত্রসূত্র: Pixabay

হংকং বিশ্বের যেকোন মহাদেশের পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। কী নেই এই হংকংয়ে?  

উচুঁ দালানকোটা, বিলাশবহুল বিল্ডিং আরো কত কী! আছে বিলাসবহুল শপিংমল, দামি রেস্তোরাঁ, আকাশসীমা দালানকোঠার মনোরম দৃশ্য যেকোন পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দিবে।

এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে চিত্রাকর্ষক এবং স্বীকৃত স্কাইলাইন। হংকং দ্বীপের আকাশচুম্বী গাছপালা, পাশ্ববর্তী পাহাড় এবং বন্দরগুলি দেখার মতো। এছাড়া ভিক্টোরিয়া পিক, তিয়ান টানের বুদ্ধ মূর্তি, হংকং ডিসনিল্যান্ড বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

৬.বালি, ইন্দোনেশিয়া 

বালি, ইন্দোনেশিয়া
বালি, ইন্দোনেশিয়া। চিত্রসূত্র: Pixabay

এশিয়া মহাদেশে যতগুলো পর্যটন স্পট রয়েছে তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াবালি  অন্যতম। ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ১৭,০০০ ছোট-বড় দ্বীপের মধ্যে বালি একটি বৃহত্তম সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপ। এটি লেজার সুন্দর দীপপুঞ্জ জাভার পশ্চিমে অবস্থিত।

এটি প্রাকৃতিক ধানের উৎস, সুগন্ধী খাবার, আশ্চর্য সৈকত এবং অসংখ্য প্রাচীন মন্দিরের জন্য বিশ্বখ্যাত।

তানাহ লট মন্দির
তানাহ লট মন্দির। চিত্রসূত্র: Pixabay

এর বিশ্বখ্যাত প্রাচীন মন্দিরগুলো যেকোন পর্যটককে এর সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে বাধ্য করবে। বিশেষ করে তানাহ লট মন্দির দ্বীপের সবচেয়ে মূর্তিমান মন্দিরগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়া উলুওয়াতু মন্দির, বেসাকিহ মন্দির বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রয়েছে উবুদ বানর বন যা বালির মধ্যে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক বন অভয়ারণ্য। 

এছাড়া ও তুলামেনের প্রবাল প্রাচীর, কিন্তামনির পর্বতশৃঙ্গ, সেমিনিয়াক ও কুটার সমুদ্র সৈকত, মনোরম রুট এবং উবুদের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্যজীবন বালির সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানের মধ্যে অন্যতম।

৭. সিঙ্গাপুর 

সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুর। চিত্রসূত্র: Pixabay

সিঙ্গাপুর নগর-রাজ্য নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ৮৫ মাইল (১৩৭ কিলোমিটার) উত্তরে মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত। এটি প্রায় ৬০ টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিতে এশীয় তথা বিশ্বের অন্যতম দেশ হুসে রুপ নিয়েছে। 

এছাড়া সিঙ্গাপুরকে দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সহজ চলাচলকারী এবং আরামদায়ক দেশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

সিঙ্গপুরে রয়েছে মনোরম পরিবেশ, ঐতিহ্যবাহী পর্যটনস্পট এবং বিলাসবহুল শপিংমল। অর্থাৎ পর্যটকরা একসাথে অনেককিছু পেয়ে থাকে। 

মেরিনা বে সান্ডস
মেরিনা বে সান্ডস। চিত্রসূত্র: Pixabay

সিঙ্গাপুরে পর্যটকদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মেরিনা বে স্যান্ডস। আরও রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল, কনভেনশন সেন্টার, থিয়েটার, আর্ট-সায়েন্স জাদুঘর, নাইট সাফারি, বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং চিড়িয়াখানার মতো চিত্রাকর্ষক জায়গা।

সিঙ্গাপুরে পর্যটকদের আরেকটি আকর্ষণের কেন্দ্র হলো চায়নাটাউন। আপনি যদি চীন ভ্রমণ করে থাকেন তাহলে সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউন আপনাকে এখানে আসতে বাধ্য করবে। এখানে চাইনিজদের বিভিন্ন খাবার, ঐতিহ্যবাহী অসাধারণ মন্দিরের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

৮. মালদ্বীপ  

মালদ্বীপ রিসোর্ট । চিত্রসূত্র: Pixabay

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, প্রকৃতির অপরূপ নয়নাভিরাম দেশ মালদ্বীপ। বিধাতা যেন দু হাত ভরে অপার সৌন্দর্যে এই মালদ্বীপকে সাজিয়েছেন। 

মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত স্বতন্ত্র ভাসমান একটি দ্বীপ। প্রায় ১২০০ ছোট বড় প্রবাল দ্বীপ নিয়ে এটি গঠিত। 

মালদ্বীপ বিশ্বজুড়ে মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। এদের দ্বীপগুলো উষ্ণ এবং বহিরাগত সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ। এর রাজধানী মালে সাংস্কৃতিক আকর্ষণের আবাসস্থল। জাতীয় জাদুঘর, রাষ্ট্রপতি প্রাসাদ সুলতান পার্ক অন্যতম। 

মালদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হলো প্রাচীন সমুদ্রসৈকতগুলো। সাগরের নীল বিস্তৃর্ন জলরাশিতে কচ্ছপের হাঁটাচলা, সাগরের নানান উদ্ভিদের স্পষ্ট আনাগোনা পর্যটক হিসেবে বিচে বসে দেখতে পারাটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।           

এছাড়া, ঐতিহ্যবাহী গ্রান্ড ফ্রাইডে মসজিদ তাদের পুরোনো ঐতিহ্য বহন করে। চকচকে স্বর্ণের গম্বুজ,  দেয়ালে কাঠের খোদাই করা আরবি ক্যালিওগ্রাফি এবং অলঙ্কৃত ঝাড়বাতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

৯. ইস্তাম্বুল, তুরস্ক 

ইস্তাম্বুল
ইস্তাম্বুল। চিত্রসূত্র: Pixabay

অপরূপ রূপে গুণান্বিত নানান ঐতিহ্যবাহী জিনিসের সমারোহের শহর ইস্তাম্বুল। এটি এশিয়া – ইউরোপের মধ্যে অবস্থিত একটি শহর। কখনও কখনও এটি দুটি মহাদেশের সেতু হিসেবে আবার কখনও কখনও বাঁধা হিসেবে কাজ করে। ইস্তাম্বুলের পূর্ব নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল। এটি বাইজানটাইন সাম্রাজ্য এবং অটোমান সাম্রাজ্য উভয়ের রাজধানী ছিল। 

বলা হয়ে থাকে ইতিহাস – ঐতিহ্যের সমারোহ ইস্তাম্বুল বিশ্বের এমন একটি শহর যা প্রত্যেক ভ্রমণকারীকে প্রলুব্ধ করতে সিদ্ধহস্ত। 

নেপোলিয়ন একবার খবরে বলেছিলেন, পৃথিবী যদি একটি দেশ হতো তাহলে ইস্তাম্বুল হতো তার রাজধানী!     

আয়া সৌফিয়া মসজিদ
আয়া সৌফিয়া মসজিদ। চিত্রসূত্র: Pixabay

ইস্তাম্বুলের সবচেয়ে আলোচিত এবং পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে বিখ্যাত এই আয়া সোফিয়া মসজিদ। এটি কামাল আতাতুর্ক এর সময়কালে জাদুঘর ছিল। এখন এখানে আবারও মসজিদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। 

আয়া সোফিয়া ছাড়াও পর্যটকদের আকর্ষণে থাকে এশিয়া ও ইউরোপ বিভক্তকারী বোসপরাস স্ট্রিট। দর্শনার্থীরা নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে এর চারদিক উপভোগ করে থাকেন। এছাড়াও রয়েছে টপক্যাপি প্রাসাদ, নীল মসজিদ, ইস্তাম্বুল প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, গ্রান্ড মসজিদ সহ আরো ঐতিহাসিক নিদর্শন।

১০. কক্সবাজার, বাংলাদেশ 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ।  চিত্রসূত্র: Pixabay

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর, সবুজের সমারোহে ঘেরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। ১২০ কি.মি দৈর্ঘের এই সমুদ্র সৈকতটি বিশ্বের যে-কোন দেশের পর্যটকদের কাছে একটি আকর্ষণীয় জায়গা। চারদিকে ঘন বিস্তৃত পাহাড়, সারি সারি ঝাউবন, বালির নরম বিছানা এবং সমুদ্র সৈকত। 

বঙ্গোপসাগরের নীল বিস্তীর্ণ জলরাশির শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর এই সমুদ্র সৈকতের আরেক নাম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।   

কক্সবাজার শহর থেকে খুব কাছেই রয়েছে লাবনী পয়েন্ট যেটাকে কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্রসৈকত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সৈকত সংলগ্ন এলাকায় হরেক রকমের দোকানের পসরা রীতিমতো পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি আকর্ষণ।

এছাড়াও রয়েছে হিমছড়ি যা কক্সবাজার থেকে ১৮ কি.মি দক্ষিণে অবস্থিত যেটি পর্যটকদের কাছে খুব প্রিয়। আরও রয়েছে ইনানী বীচ যা পাথুরে সৌন্দর্যে ভরপুর, পরিষ্কার পানির এই জায়গাটি পর্যটকদের কাছে অধিক আকর্ষনীয়। নাইলক্ষংছড়ি লেক, ঝুলন্ত ব্রীজ, রামু মন্দির বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।        

কক্সবাজার ভ্রমণের সবচেয়ে সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এসময়ে গরম এবং শীত দুটোই কম থাকে বলে পর্যটকদের খুব ভীড় দেখা যায়। 

এশিয়া মহাদেশের যতগুলো দেশ রয়েছে সবগুলো দেশেই রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। উপরের ১০ টি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে কোন স্থানটি আপনার অধিক পছন্দ এবং ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক মন্তব্য করে জানাতে ভুলবেন না।

তথ্যসুত্র:

ফিচার ছবিসূত্র: Pixabay

আরও পড়ুন: গ্রিন টি: বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর পানীয়

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on পর্যটকদের কাছে এশিয়া ভ্রমণের সেরা ১০ টি দর্শনীয় স্থান

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!