এরিয়া ৫১: পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও গোপন জায়গা

4.6
(8)
Bookmark

No account yet? Register

পৃথিবীর নিয়মকানুনকে প্রায়ই আমরা সহজ-সরল ভাবি। ভেবে থাকি যে, নিজেদের যুক্তিতর্ক দিয়ে আমরা সব কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারবো। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো, কথাটা মিথ্যা। আপনি যদি পৃথিবীর কোনো অতি সাধারণ মানুষ হয়ে থাকেন, তবে অনেক রহস্যই আপনার সামনে অনাবৃত অবস্থায় থাকবে। যদি সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আপনি রহস্য অনাবৃত করতে পারবেন। এমনই একটি বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এরিয়া ৫১। সাধারণ মানুষের এরিয়া ৫১ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আজকের আলোচনা এই রহস্যময় স্থান বিষয়ে।

অসামান্যতে লিখুন

এরিয়া ৫১ হচ্ছে একটি বিশাল সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাঁটি। ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটারের বিশাল জায়গা নিয়ে এর বিস্তৃতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই এরিয়া ৫১। যদিও এটি জায়গাটির প্রকৃত নাম নয়। এর আসল নাম হলো Nevada Test & Training Range বা The Groom Lake Base।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরিয়া ৫১
চিত্র: এরিয়া ৫১ এর বিস্তারিত মানচিত্র; চিত্রসূত্র – BBC

নামকরণের সার্থকতা

এরিয়া ৫১ নামটি এসেছে জায়গাটির একটি অংশ হতে, যার নাম Nevada Test Site। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষণ সম্পন্ন করা হতো। এই অঞ্চলটিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল যার ক্রমিক নং ছিল ১-৩০ পর্যন্ত। বর্তমানে এরিয়া ৫১ এলাকার এরিয়া ১৫ এর ঠিক পাশে অবস্থান করায় এর এমন নামকরণ করা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে এরিয়া ৫১ বলতে আমরা যে জায়গাটিকে দেখি সেটি আসলে হিমবাহের উপরের অংশ মাত্র। তাদের মতে এরিয়া ৫১ এর প্রায় ৭০ শতাংশই ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তরে অবস্থিত। এমনটা ভাবার অন্যতম কারণ হলো, জায়গাটিতে বেশ কয়েকটি ভূগর্ভে প্রবেশ পথ দেখা যায় পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে। অবশ্য এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এখনো।

এরিয়া ৫১ এর অভ্যন্তরে ইউএফও
চিত্র: UFO ; চিত্রসূত্র: AF.mil

এরিয়া ৫১ ও বব লাজারের বিবৃতি

এরিয়া ৫১ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হিসেবে ধরা হয় বব লাজারের স্বীকারোক্তিকে।

বব লাজার অনেক বিতর্কিত মতবাদ দিয়েছেন।
চিত্র: বব লাজার, চিত্রসূত্র – The Star

১৯৮৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে এরিয়া ৫১ এর নিকটতম ফ্যাসিলিটি এস-৪ তে কর্মরত থাকার দাবি করেন। তিনি আরও বলেন যে সেখানে তিনি এলিয়েন টেকনোলজির রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের এলিয়েন মহাকাশযান দেখেছেন। এমনকি সেগুলো কিভাবে কাজ করতো, তার বিস্তারিত প্রক্রিয়াও তিনি ব্যাখ্যা করেন। উদাহরণস্বরূপ বব বলেন যে, এ সকল মহাকাশযান পরিচালনায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো এক বিশেষ ধরনের পদার্থ যার আণবিক ভর ১১৫। এই পদার্থ দহনের ফলে এন্টি গ্র্যাভিটি ইফেক্টের সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার উল্লেখিত এই পদার্থটি (আনানপেন্টিয়াম) সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত করা হয় এর ১৪ বছর পর ২০০৩ সালে। লাজারকে এটিও বলা হয়েছিল যে, এলিয়েনরা বিগত এক লক্ষ বছর ধরে পৃথিবী ভ্রমণ করেছে। এ সকল এলিয়েন পৃথিবী হতে ৩৯ আলোকবর্ষ দুরত্বে অবস্থিত এক বাইনারি নক্ষত্র সংশ্লিষ্ট গ্রহ হতে এসেছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেই নক্ষত্রদ্বয়কে আবর্তনরত কোনো গ্রহের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চিত্র: F-117 ; চিত্রসূত্র: Britannica

অবশ্য লাজার বিভিন্ন কারণে সমালোচিতও হয়েছিলেন। বব বলেছিলেন যে, তিনি এমআইটি হতে মাস্টার্স ডিগ্রীপ্রাপ্ত। অথচ সেখানে তার নামে কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। যখন তার পরিচিত কোনো অধ্যাপকের কোনো নাম জানতে চাওয়া হলো তখন তিনি এমআইটির বদলে পিয়ার্স জুনিয়র কলেজের এক অধ্যাপকের নাম বলেন। পরবর্তীতে দেখা গেলো যে তিনি আসলে পিয়ার্স জুনিয়র কলেজে পড়েছিলেন। বব যদি তার শিক্ষার ব্যাপারে মিথ্যা বলতে পারেন, তাহলে আর কোন কোন ব্যাপারে সে মিথ্যা বলেছেন, সেটাও অনুসন্ধানের বিষয়। অবশ্য আজও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে একই দাবি করে আসছেন। আপনি যদি নিজ চোখে এরিয়া ৫১ দেখতে চান, তাহলে আপনাকে যেতে হবে Tikaboo Peak এ। সেক্ষেত্রে সাথে টেলিস্কোপ থাকাটা আবশ্যক, যেহেতু এরিয়া ৫১ সেখান থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অতীতে এটি আরো কাছ থেকে দেখা যেতো White Sides বা Freedom Ridge থেকে। কিন্তু ১৯৯৩ সালে জায়গা দুটি সরকার নিজ দখলে নিয়ে নেয়।

এরিয়া ৫১ এর কর্মীদের বহনকারী বিমান।
চিত্র: Janet ; চিত্রসূত্র: Aerotime

আরও পড়ুন: লাস ভেগাস: মায়াজালের যে শহরে পাপ কুড়ানো হয়

কর্মী সংক্রান্ত গোপনীয়তার নীতি

প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০টি ফ্লাইট এরিয়া ৫১ তে হাজারখানেক কর্মী পরিবহন করে থাকে লাস ভেগাস হতে। সাদা রঙের অথচ একধারে লাল রেখাঙ্কিত এসকল প্লেন লাস ভেগাসের ম্যাককারেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নিজস্ব টার্মিনাল হতে যাত্রা করে থাকে। এ সকল ফ্লাইটের কলসাইন হলো Janet (Joint Air Network of Employee Transportation)। শুধুমাত্র এ সকল প্লেনই এরিয়া ৫১ এর আকাশ সীমায় প্রবেশ করতে পারে। সামরিক বিমানকেও এই ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়না। তাছাড়া এখানে কর্মরত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের কর্পোরেট পোশাক পরিধান করতে দেখা যায়নি কখনো। বরং সবাইকে প্রচলিত পোশাকই পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছে।

১৯৭৪ সালে পৃথিবীকে আবর্তনরত প্রথম স্পেসস্টেশন স্কাইল্যাব ৪ এর অ্যাস্ট্রোনটরা আগ্রহবশত এরিয়া ৫১ এর একটি ফটোগ্রাফ তুলে। যদিও এটা করার জন্য স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল তাদের ওপর। পুরো পৃথিবীতে শুধুমাত্র এই একটি স্থানের ক্ষেত্রেই এমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছিল জনসম্মুখে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেটা এর ৩২ বছর পর ২০০৭ সালে জনগণ লক্ষ্য করে। ১৯৯৭ সালের চলচ্চিত্র ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে’র প্রোডাকশনের সময় ইউএস মিলিটারি চলচ্চিত্রটি তৈরীতে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছিল ইউনিফর্ম এবং সামরিক যান সরবারহ ও বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে। কিন্তু সিনেমার স্ক্রিপ্টে এরিয়া ৫১ এর উল্লেখ থাকায় তারা তৎক্ষণাৎ তাদের সাহায্য বাতিল করে।

এরিয়া ৫১ এর রানওয়ে
চিত্র: Area 51 ; চিত্রসূত্র: Daily Mail

এরিয়া ৫১ সম্পর্কিত কিছু তথ্য

  1. এরিয়া ৫১ এর নির্মাণ শুরু হয় ১৯৪১ সালে, ওয়েস্ট কোস্ট এয়ার ট্রুপস এর সহায়ক এয়ারফিল্ড হিসেবে। এর নাম তখন ছিল Indian Spring Airfield Auxiliary Number 1।
  2. প্রেসিডেন্ট Dewight Eisenhower এর সময়ে এর কর্তৃত্ব সিআইএর ওপর অর্পণ করা হয় তাদের প্রোজেক্ট একুয়াটোনের জন্য, যার লক্ষ্য Lockhead U-2 স্পাইপ্লেনের উন্নয়ন।
  3. এরিয়া ৫১ এমন একটি জায়গা যেখানে Unauthorized কেউ প্রবেশ করতে চাইলে তাকে সরাসরি শ্যুট করার নিয়ম আছে।
  4. অনেকেই দাবী করে যে তারা এরিয়া ৫১ এর আকাশপথে ইউএফও দেখেছে।
  5. কোনো বিদ্যমান পরিবেশ আইন এই বেসে কার্যকরী নয়। ফলস্বরুপ এখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটলেও এ সম্পর্কে দায়ের করা মামলা কোর্ট গ্রহণ করেনি।
  6. প্রচলিত একটি দাবি যে, আমেরিকার চন্দ্রজয় আসলে এরিয়া ৫১ এ মঞ্চস্থ হয়েছিল। আর এটা ৫০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিকেরই বিশ্বাস।
  7. ১৯৫০-১৯৬০ পর্যন্ত যতগুলো ডকুমেন্টেড ইউএফও সাইটিং কেস রয়েছে তার অধিকাংশেরই উৎপত্তিস্থল ছিল এরিয়া ৫১।
  8. ১৯৬৩ সালে টেস্টফ্লাইট চলাকালে একটি A-12 বিমান বিধ্বস্ত হয় এরিয়া ৫১ এর বাহিরে। কিন্তু এর ছবি প্রকাশ করা হয়েছিল উক্ত বছরের মে মাসে।
  9. ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা এরিয়া ৫১ এর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর পূর্বে কোনো প্রেসিডেন্টই জায়গাটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এমনকি প্রেসিডেন্টরাও জানেন না সেখানে আসলে কি হয়।

এরিয়া ৫১ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি

এরিয়া ৫১ তে ব্লু রুম নামক একটি বিশেষ সেক্টর রয়েছে যেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষণ ও গবেষণা কার্য চালানো হয়। তবে কী নিয়ে পরীক্ষণ চালানো হয়, সেটা জানা যায়নি। কিন্তু এ সম্পর্কে তৎকালীন সিনেটর গোল্ডওয়াটারকে দেয়া একটি চিঠি পাওয়া গিয়েছে ডার্ক উইকিতে। নিচে সেটি দেওয়া হলো –

The Honorable Barry M. Goldwater

United States Senate

Dear Senator Goldwater:

April 1982

In several publications and letters you are quoted as being denied access to the so-called “Blue Room” at Wright-Patterson AFB during the late 1950s or early 1960s. This “Blue Room is reputed to house the remains of a crashed internal link UFO and/or its occupants. UFO’s over China 1974. I’m certain that you are aware of the rumors of the Government’s capture of a UFO and of the many reliable sightings that attest to UFO performance characteristics. In your capacity as a powerful and much-respected U.S. Senator, Chairman of the Intelligence, Communications, and Tactical Warfare Committees and a member of the Preparedness, Aviation, and Science, Technology, and Space Committees, in addition to your high rank as officer in the USAF, it seems that even the remotest of possibilities of this Government’s possession of a UFO would be of monumental importance for both your committees and for this nation as a whole. If agencies of this Government captured a UFO in the late 1940s or early 1950s, whose technology if applied to our own aircraft and weapons would give us an overwhelming superiority to the USSR, and if the Government is keeping that fact secret from many Presidents, from the Congress, from the Department of internal link Defense, from the intelligence organizations, and from the aerospace/defense industry, this is a crime against our country and its people. Will you hold hearings and get at the root of this matter once and for all? Witnesses will be required to testify under oath, risking perjury and prison if they fail to answer honestly. You have it in your power and authority to convene such hearings. When can we expect you this to do so?

Sincerely

Ronald S. Regehr

20822 Catamaran Lane

Huntington Beach, CA 92646

Attachment: Additional petitioners to this request (all respected aerospace engineers/technicians at Aerojet Electro Systems Company, most with advanced degrees)

অনুবাদ :

জনাব ব্যারি এম. গোল্ডওয়াটার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিনেট

এপ্রিল ১৯৮২

বেশ কয়েকটি প্রকাশনা এবং চিঠিতে আপনাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ১৯৫০ এর দশকের শেষের দিকে ও ১৯৬০ এর দশকের প্রথমদিকে রাইট-প্যাটারসন এএফবিতে তথাকথিত “ব্লু রুম” এ প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। এই ব্লু রুমটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া অভ্যন্তরীণ লিঙ্ক ইউএফও এবং এর ধারকদের অবশেষ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। আমি নিশ্চিত যে আপনি ইউএফও ক্যাপচারের সরকারের পক্ষের গুজব এবং ইউএফও কার্য সম্পাদনমূলক আচরণের সাথে প্রমাণিত এমন অনেক নির্ভরযোগ্য দৃশ্যের বিষয়ে অবগত। একজন ক্ষমতাশালী এবং অত্যন্ত সম্মানিত মার্কিন সিনেটর, গোয়েন্দা, যোগাযোগ এবং কৌশলগত ওয়ারফেয়ার কমিটিগুলির চেয়ারম্যান এবং প্রস্তুতি, বিমানচালনা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এবং মহাকাশ কমিটির উচ্চপদস্থ অফিসার হিসাবে ইউএসএএফ-তে আপনার প্রভাব থেকে এই বিষয়টি প্রতীয়মান হয় যে, সরকারের অধিকারে কোনো ইউএফও থাকার দূরতম সম্ভাবনাও সামগ্রিকভাবে এই জাতির উভয়ের জন্যই মৌলিক গুরুত্ব বহন করবে। যদি এই সংস্থাগুলি ১৯৪০ এর দশকের শেষের দিকে ও ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে কোনো ইউএফও ক্যাপচার করে থাকে, যার প্রযুক্তিটি যদি আমাদের নিজস্ব বিমান এবং অস্ত্র প্রয়োগ করা হয় তবে তা ইউএসএসআর এর উপরে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে। যদি সরকার থেকে এই সত্য গোপন রাখা হয়ে থাকে তাহলে এটি আমাদের দেশ এবং এর জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ হবে। আপনি কি শুনানি রাখবেন এবং একবারের জন্য এই বিষয়টির মূলে যাবেন? সাক্ষ্যদাতাদের শপথের অধীনে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে। আপনার কাছে এ জাতীয় শুনানি বলার ক্ষমতা রয়েছে। আশা করি এর বিরুদ্ধে আপনি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আপনার একান্ত অনুগত

রোনাল্ড

এরিয়া ৫১ তে মহাজাগতিক প্রাণি নিয়ে গবেষণা হয়, এরূপ গুজব আছে।
চিত্র: Alien Autopsy ; চিত্রসূত্র: Trow Bridge Planet Earth

এরিয়া ৫১ এর ভিতরের রহস্য

বিধ্বস্ত ইউএফও, এলিয়েন এক্সপেরিমেন্ট, কাটিং এজ টেকনোলজির উন্নয়ন, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চরম, মারাত্মক, বিস্ময়কর, অসাধারণ, দুর্দান্ত, বিচিত্র, অকল্পনীয়, অদর্শনীয়, অশ্রবণীয় ইত্যাদি সামরিক গোপন পরীক্ষণাদি ইত্যাদি ঘটে আসছে এরিয়া ৫১ এর অভ্যন্তরে। যখন গোপন কিছু তথ্যে শূন্যতা সৃষ্টি করে তখন বিচিত্র কল্পনা সে শূন্যস্থান পূরণ করে নেয়। বিষয়টি এভাবে বলা যায় যে, সরকার যদি কোনো কিছু সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে না চায় তাহলে নিশ্চয় সেটা সেরকমই অজানা কিংবা আগ্রহব্যঞ্জক বিস্ময়কর গোপনীয় কাজ। জনসাধারণের কথায় কান না দিয়ে ঐতিহাসিক দলিলাদি যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে আন্দাজ করা যায় এরিয়া ৫১ হলো একটি সামরিক ঘাঁটি, যা বিভিন্ন ধরনের এয়ারক্রাফট এবং অস্ত্রের পরীক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। কারণ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই জায়গাটি তৈরী করা হয়েছিল। তাদের এমন কোনো জায়গায় প্রয়োজন ছিল যেখানে তারা নির্বিঘ্নে স্পাইপ্লেন U-2 এর টেস্ট করতে পারবে।

এরিয়া ৫১ তে পদার্থবিজ্ঞানী বব লাজার এমনকিছু আকাশযান দেখতে পেয়েছিলেন যেগুলোকে কোনোভাবেই পৃথিবীতে তৈরি করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছিলেন তিনি। এরিয়া ৫১ এর পাশেই রয়েছে একটি বড় হাইওয়ে। যেটির নাম The Extraterrestrial Highway। এই হাইওয়ে থেকে মাঝে মাঝেই অদ্ভুত আকাশযান দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীর কোন আকাশযানের সাথে সেগুলোর মিল লক্ষণীয় নয়। লাজার বলেছিলেন, আমেরিকা রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্য নিয়ে এরিয়া ৫১ তে এলিয়েনদের ইউএফও এর মত মহাকাশযান বানানো হয়।

বিভিন্ন উৎস থেকে পর্যালোচনা করে জানা যায়, ভিনগ্রহের বাসিন্দারা পৃথিবীতে নিয়মিত আসা যাওয়া করে এবং তাদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হচ্ছে এই রহস্যজনক এরিয়া ৫১। বব লাজার আরও বলেছিলেন এরিয়া ৫১ তে এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যেটির সম্পর্কে কেউ জানেনা। লাজারের মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকে আমেরিকা সম্ভবত এমন একটি মৌলিক পদার্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে যা পদার্থের মাত্র এক কেজি দিয়ে ১০ মেগাটনের ৪৭টি হাইড্রোজেন ডাইনামিক বোম্ব তৈরি করা যাবে। এই এরিয়া ৫১ তে ভিনগ্রহবাসীদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া কয়েকটি ইউএফও রয়েছে। প্রায় বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা গিয়েছে সেখানে এলিয়েনের দেহের অংশ ট্রান্সপ্লান্টে ব্যবহার করা হয়। এছারাও নানা প্রকারের রহস্যময় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে এরিয়া ৫১ এর আঁধারে।

ফিচার চিত্রসূত্র: The Conversation

তথ্যসূত্র:

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on এরিয়া ৫১: পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও গোপন জায়গা

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!