ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক: সৌন্দর্যের সমারোহ নাকি মৃত্যু্র ফাঁদ

সুমাইয়া সুলতানা ছিনা
3.7
(31)
Bookmark

No account yet? Register

ন্যাশনাল পার্ক বা জাতীয় উদ্যান বলতে সাধারণত বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক সংখ্যা এবং বৃক্ষরাজি কিংবা ঔষধি বৃক্ষরাজির নিরাপদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার কিংবা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বনাঞ্চলকে বোঝায়। এই কথাগুলো সবার জানা। কিন্তু আমরা কি জানি ন্যাশনাল পার্ক বা জাতীয় উদ্যান তৈরির ইতিহাস অথবা বিশ্বের সর্বপ্রথম ন্যাশনাল পার্ক বা জাতীয় উদ্যান সম্পর্কে? অনেকেই হয়তো জানি, আবার অনেকেই জানি না। চলুন আজ জেনে আসা যাক পৃথিবীর সর্বপ্রথম ন্যাশনাল পার্ক ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক সম্পর্কে কিছু জানা ও অজানা তথ্য।

অসামান্যতে লিখুন
ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক। চিত্রসূত্র: Pixabay
ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক। চিত্রসূত্র: Pixabay

আমেরিকা বৈচিত্র্যময় একটি দেশ। এই বৈচিত্র্যময় দেশে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। তার মধ্যে ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক অন্যতম। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক, আমেরিকার সবচেয়ে পুরোনো, বড় এবং অনেক পরিচিত ন্যাশনাল পার্কগুলোর মধ্যে একটি। পার্কটি তিনটি রাজ্য উত্তর-পশ্চিম ওয়ায়োমিং, দক্ষিণ মন্টানা এবং পূর্ব আইদাহোর কিছু অংশ নিয়ে বিস্তৃত। পার্কটি বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রকার ভূ-তাপমাত্রাগত বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রসিদ্ধ। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ককে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ন্যাশনাল পার্ক বা জাতীয় উদ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।                         

গোল্ডেন গেট,১৮৯৭। চিত্রসূত্র: Unsplash
গোল্ডেন গেট, ১৮৯৭। চিত্রসূত্র: Unsplash

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক এবং এর ইতিহাস

যদি একজন আর্টিস্ট এবং ফটোগ্রাফার না থাকতো তাহলে আমার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ককে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে পেতাম না। কিছু বছর পূর্বেও অভিযাত্রীরা এই অঞ্চলটিতে যেত এবং ফিরে এসে ফুটন্ত জলের ঝর্ণা সমৃদ্ধ অদ্ভুত ভূ-দৃশ্যের গল্প শোনাতো। বেশিরভাগ মানুষ এটাকে গল্প হিসেবেই মনে করতো।

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ১৮৭১ সালে যখন আর্টিস্ট থমাস মোরান এবং ফটোগ্রাফার উইলিয়াম হেনরি জ্যাকসন ৪০ দিনের একটি ভূ-তাত্ত্বিক জরিপে এই এলাকাটিতে যায়। তাঁরা এই পুরাতন অঞ্চলটির সৌন্দর্যকে বিশেষ করে ইয়েলোস্টোন এর গ্রান্ড ক্যানিয়ন এবং হাইডেন ভ্যালির সৌন্দর্যকে এমনভাবে ধারণ করেন যে তা মার্কিন কংগ্রেসকে দারুণভাবে আলোড়িত করে। 

তারপরের বছর ১৮৭২ সালের ১ মার্চ কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্ৰ্যান্ট পার্কটি ন্যাশনাল পার্ক হিসেবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ১৯৭৮ সালে ইউনেস্কো দ্বারা একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত হয়।

ওল্ড ফেইথফুল ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Pixabay
ওল্ড ফেইথফুল ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Pixabay

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ও এর ভূতত্ত্ব ও ভৌত বৈশিষ্ট্য

পার্কটির মেগালিথিক আকারের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। পার্কের ঠিক নিচেই ঘুমিয়ে আছে প্রায় ৪৫ মাইল চওড়া সুপার ভলকানো বা আগ্নেয়গিরি। সর্বশেষ বৃহৎ আকারের জাগরণের সময়, আগ্নেয়গিরির পুরো উপরের অংশটি কেবল নিচের দিকে ধসে পড়ে, একটি চিত্তাকর্ষক সিঙ্কহোল গঠন করে। প্রতি বছরই এখানে ভূ-কম্পন হয়। বেশিরভাগ কম্পনগুলোই রিখটার স্কেলে ২ অথবা এর চেয়ে কম এবং এখানে বসবাসরত মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। 

কিন্তু কখনও কখনও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। তার ফলে পার্কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে ১৯৫৯ সালে দক্ষিণ মন্টানাতে, পার্কের উত্তর-পশ্চিম কোণার বাহিরের দিকটায়। এর ফলে পার্কের ভূ-তাপমাত্রাগত বৈশিষ্ট্যের বিশেষ করে ওল্ড ফেইথফুল ফোয়ারা আর ইকনিক ফোয়ারার ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। ওল্ড ফেইথফুল ফোয়ারা এই উদ্যানের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম। 

ম্যামথ উষ্ণ ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Pixabay
ম্যামথ উষ্ণ ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Pixabay

ইয়েলোস্টোন এর আয়তন ৩৪৭২ বর্গ মাইল (৮৯৯১ কি.মি)। ইয়েলোস্টোনের ৯৬% ওয়ায়োমিং, ৩% মন্টানা, ১% আইদাহোর মধ্যে অবস্থিত। সর্বোচ্চ চূড়া ১১,৩৫৮ ফিট (৩৪৬২ মিটার) ইগল পিক, সর্বনিম্ন চূড়া ৫২৪২ ফিট (১৬১০ মিটার) রিস ক্রিক। ইয়েলোস্টোন এর ৫% পানি, ১৫% তৃণভূমি এবং ৮০% বনভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্যালডেরা ৪৫×৩০ মাইল (৭২×৪৮ কি.মি) এই উদ্যানে অবস্থিত। ক্যালডেরাটিকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মনে করা হয়। বিগত দুই মিলিয়ন বছরে বহুবার এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা এখানকার ভূ-তাপমাত্রাগত বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য বহুলাংশে দায়ী। 

প্রতি বছর ১০০০-৩০০০ বার ভূকম্পন অনুভূত হয়। উদ্যানে ২৯০টি জলপ্রপাত, ১০০০০টির বেশি হাইড্রোথার্মাল বৈশিষ্ট্যের ফোয়ারা, ৫০০টির বেশি (পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি) সক্রিয় উষ্ণ ফোয়ারা রয়েছে। উষ্ণ ফোয়ারা গুলোর মধ্যে গ্ৰ্যান্ড প্রিজম ফোয়ারা, নরিস উষ্ণ ফোয়ারা, ম্যামথ উষ্ণ ফোয়ারা, ওল্ড ফেইথফুল, মিডওয়ে উষ্ণ ফোয়ারা, আপার উষ্ণ ফোয়ারা, ওয়েস্ট থাম্ব উষ্ণ ফোয়ারা, লোন স্টার উষ্ণ ফোয়ারা, ক্যাসেল উষ্ণ ফোয়ারা অন্যতম। এই ফোয়ারা গুলোর মধ্যে নরিস উষ্ণ ফোয়ারা সবচেয়ে বেশি এসিডিক হাইড্রোথার্মাল বিশিষ্ট।

বসন্তের ইয়েলোস্টোন। চিত্রসূত্র: Pixabay
বসন্তের ইয়েলোস্টোন। চিত্রসূত্র: Pixabay

আরও পড়ুন: শার্লক হোমস: এক বিশ্বখ্যাত কাল্পনিক গোয়েন্দার আখ্যান

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক ও এর আবহাওয়া

ইয়েলোস্টোনের আবহাওয়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। পার্কটির আবহাওয়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা, গভীরতা, অক্ষাংশ, পর্বতের সংখ্যা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। সাধারণত পার্কের উত্তর-কেন্দ্রীয় অংশটি গ্ৰীষ্মকালে আর্দ্র আর শীতকালে শুষ্ক থাকে। পার্কের বাকি অংশ এর বিপরীত রূপ ধারণ করে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা কমতে থাকে। ইয়েলোস্টোনের এই বিশাল এলাকায় একটি নির্দিষ্ট স্থানের তাপমাত্রা হঠাৎ করে পরিবর্তিত হতে পারে।

বসন্ত ও শরৎকালে দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৩০° ফারেনহাইট থেকে ৬০° ফারেনহাইট ( ০° সে. থেকে ২০° সে. ) থাকে। বসন্ত ও শরৎকালে প্রতিদিন ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১২ ইঞ্চি বরফ পড়ে। গ্ৰীষ্মকালে দিনের বেলা তাপমাত্রা প্রায় ৭০° ফারেনহাইট (২৫° সে.) এবং ছোট টিলাগুলোতে কখনও কখনও ৮০° ফারেনহাইট (৩০° সে.) থাকে। রাতে সাধারণত অনেক ঠাণ্ডা এবং তাপমাত্রা কম থাকে আর বিকেল বেলায় প্রায়ই বজ্রপাত হয়ে থাকে।

শীতকালে তাপমাত্রা শূন্য থেকে ২০° ফারেনহাইট (-২০° সে. থেকে -৫° সে.) থাকে। কখনও কখনও তাপমাত্রা শূন্যের থেকেও কম থাকে বিশেষ করে রাতে এবং উঁচু টিলাগুলোতে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬৬° ফারেনহাইট (-৫৪°সে.)। প্রচুর তুষারপাত হয়ে থাকে। বছরে গড়ে ১৫০ ইঞ্চি এবং উঁচু টিলাগুলোতে এর দ্বিগুণ তুষারপাত হয়ে থাকে।

ধূসর ভাল্লুক। চিত্রসূত্র: Pixabay
ধূসর ভাল্লুক । চিত্রসূত্র: Pixabay

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের পশু-পাখি ও গাছ

উদ্যানে প্রায় ১৩৫০ প্রজাতির ফুলগাছ (১১৫০ প্রজাতি প্রাকৃতিকভাবে) জন্মে আছে। উদ্যানের অনেকটা অংশ বনে পরিণত করা হয়েছে । যার অধিকাংশ গাছ হচ্ছে লজপোল পাইন (lodgepole pine)। অন্যান্য কনিফার উদ্ভিদগুলোর মধ্যে আছে হোয়াইটবার্ক পাইন (Whitebark pine) যা উঁচু টিলাগুলোতে জন্মে। ১০০০ এর বেশি বন্যফুল জন্মে থাকে। এই ফুলগুলো কিছু এপ্রিলে এবং কিছু সেপ্টেম্বরে পরিস্ফুটিত হয়। সাধারণ প্রজাতির মধ্যে আছে লুপাইন (lupines), সিন্কফুইল (cinquefoils), লার্কপার্স (larkpurs), ইন্ডিয়ান পেইন্টব্রাশ (Indian paintbrushes) ইত্যাদি।

ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে বন্যপ্রাণীর সংখ্যাও অনেক। তাই বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের জন্যও উদ্যানটি একটি জনপ্রিয় স্থান। এদের মধ্যে বড় শিংওয়ালা ভেড়া, বাইসন, ধূসর ভাল্লুক, লাল শিয়াল, ঈক, বিশেষ ধরণের নেকড়ে, প্রোঙ্গহর্ন অ্যান্টিলোপ (এক ধরনের হরিণ) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়াও উদ্যানটিতে রয়েছে ৬৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি, ২৮৫ প্রজাতির পাখি, ১৬ প্রজাতির মাছ, ৫ প্রজাতির অ্যাম্ফিবিয়া ও ৬ প্রজাতির রেপ্টেলিয়া। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক বিপন্ন প্রজাতিও রয়েছে।

ইয়েলোস্টোন লেক হোটেল। চিত্রসূত্র: Pixabay
ইয়েলোস্টোন লেক হোটেল । চিত্রসূত্র: Pixabay

বর্তমান ইতিহাস ও সৃষ্টিকার্য

প্রত্নতাত্ত্বিক প্রামাণিক তথ্য থেকে জানা যায় ইয়েলোস্টোন অঞ্চলে প্রায় ১১০০০ বছর ধরে মানুষ বাস করে আসছে। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে লুইস এবং ক্লার্ক অভিযানের সময় এই অঞ্চলটি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মাঝে মাঝে পর্বতারোহীরা এলেও সুসংগত অভিযান শুরু হয় ১৮৬০ এর দশকে। প্রতিষ্ঠার পর উদ্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মার্কিন সেনাবাহিনীকে। 

১৯১৬ সালে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেনাবাহিনী উদ্যানের সব দায়িত্ব তাদের দিয়ে দেন‌‌। ১৯১৮ সাল থেকে উদ্যানে অনেক নতুন জিনিস তৈরি করা শুরু করা হয়। ভ্রমণকারীদের জন্য হোটেল, লডজ, সার্ভিস স্টেশন, খাবারের দোকান ইত্যাদি। ১৯২৯ এবং ১৯৩২ সালে দুইবার সীমানা বাড়ানোর পর ইয়েলোস্টোন বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে।

ওয়েস্ট থাম্ব ব্ল্যাক পুল‌‌। চিত্রসূত্র: Pixabay
ওয়েস্ট থাম্ব ব্ল্যাক পুল‌‌। চিত্রসূত্র: Pixabay 

হাইকিং, বোটিং, মাছ ধরা বা দিবাভ্রমণের জন্যেও অনেকে ইয়েলোস্টোনে আসেন। হাইকিং এর জন্য ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক বেশ পরিচিত। হাইকিং স্পটের মধ্যে অন্যতম হলো গ্ৰ্যান্ট ভিলেজ এবং ওয়েস্ট থাম্ব। পাকা রাস্তা থাকায় প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর কাছে যাওয়া খুবই সহজ। উদ্যানে প্রায় ৪৬৬ মাইল ( ৭৫০ কি.মি) রাস্তা আছে যার মধ্যে ৩১০ মাইল (৪৯৯ কি.মি) বাঁধানো। 

এছাড়াও ইয়েলোস্টোনে রয়েছে  ৯০০ এর বেশি ঐতিহাসিক ভবন, ৭২০,০০০ এর বেশি মিউজিয়াম, ২০,০০০ এর বেশি বই ও পাণ্ডুলিপি। ৫২টি পিকনিক স্পট এবং একটি মেরিনা। ইয়েলোস্টোনের প্রবেশদ্বার ৫টি। প্রবেশদ্বারগুলো উদ্যানের উত্তর, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত। ইয়েলোস্টোনে আরও অনেক কিছু আছে যার বর্ণনা লিখে শেষ করা যাবে না। 

নরিস উষ্ণ ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Wikimedia commons
নরিস উষ্ণ ফোয়ারা। চিত্রসূত্র: Wikimedia commons

ইয়েলোস্টোনে মৃত্যু সংখ্যা

ইয়েলোস্টোনের এতো সবকিছু মিলিয়ে ইয়েলোস্টোনকে দিয়েছে এক অনন্য ও ভয়ংকর সৌন্দর্য! ভয়ংকর সৌন্দর্য বলার কারণ ইয়েলোস্টোনের চারপাশে রয়েছে অসংখ্য মৃত্যু ফাঁদ। ১৮৭২ সালে ইয়েলোস্টোন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ জন মানুষ মারা গিয়েছেন ধূসর ভাল্লুকের আক্রমণের কারণে, সবচেয়ে বেশি ১২১ জন মানুষ মারা গিয়েছেন পানিতে ডুবে, ২১ জন মানুষ মারা গিয়েছেন উষ্ণ ফোয়ারাগুলোতে পুড়ে, আত্নহত্যা করেছেন ২৬ জন, গাছ থেকে পড়ে মারা গিয়েছেন ৭ জন এবং বরফ ধ্বসে মারা গিয়েছেন ৬ জন। 

ধারণা করা হয় ইয়েলোস্টোনে মৃতের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। এইতো কিছুদিন আগে ২০১৬ সালের ৭ জুন কোলিন নাথেনিয়েল স্কট নামে ২৩ বছর বয়েসী একজন যুবক উষ্ণ ফোয়ারার তাপমাত্রা মাপার জন্য সতর্কীকরণ নোটিশ উপেক্ষা করে ফোয়ারার খুব কাছে চলে যান এবং পিছলে পড়ে যান। একদিনের মধ্যে তার দেহ এসিডে পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। যা অত্যন্ত ভয়ংকর একটি ঘটনা। উষ্ণ ফোয়ারাতে পুড়ে প্রথম মৃত্যু হয় সাত বছর বয়সী একজন বালকের ১৮৯০ সালে। ইয়েলোস্টোনের মৃত্যু সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকলে আপনারা “লি এইচ.উইটলেসি” ( Lee H.Whittlesey) এর অত্যন্ত জনপ্রিয় বই ডেথ ইন ইয়েলোস্টোন (Death in Yellowstone) পড়তে পারেন। 

এতসব মৃত্যু ফাঁদের কথা জানা সত্ত্বেও প্রতিবছর প্রায় ৪ মিলিয়ন দর্শনার্থী ইয়েলোস্টোনে যায় এর সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য। তো আপনারাই বলুন ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক সৌন্দর্যের সমারোহ নাকি মৃত্যু্র ফাঁদ?

তথ্যসূত্র:

ফিচার ছবিসূত্র: Unsplash

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
11 Thoughts on ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক: সৌন্দর্যের সমারোহ নাকি মৃত্যু্র ফাঁদ
    zahid
    20 Sep 2020
    8:20pm

    তথ্যবহুল লেখা…..

    10
    0
      Sumaya Sultana Sina
      21 Sep 2020
      12:02am

      ধন্যবাদ 💕❤❤

      1
      0
    Zihad
    20 Sep 2020
    8:59pm

    It was an exceptionally well-written article and pointed out many interesting facts on the Yellowstone National Park. I particularly liked the fact that it was an objective look at the issue. I would like to thank you for both a well researched and well-written article.

    3
    1
      Sumaya Sultana Sina
      21 Sep 2020
      12:04am

      Welcome ❤️

      1
      0
    Reyad
    20 Sep 2020
    9:39pm

    Informative👌

    4
    0
      Sumaya Sultana Sina
      21 Sep 2020
      12:05am

      Thanks 😊

      1
      0
    Moshiur Rakib
    20 Sep 2020
    10:03pm

    আমার হোটেলটা বেশ লেগেছে। তবে শেষে মৃত্যুর কথা শুনে আগ্রহ হারিয়ে গেছে।
    সবমিলিয়ে তথ্যবহুল লেখাটি বেশ ভালো লেগেছে আপু।

    4
    0
      Sumaya Sultana Sina
      21 Sep 2020
      12:06am

      ধন্যবাদ 💕

      1
      0
    kotha
    13 Oct 2020
    4:07pm

    thanks for this interesting information

    2
    0
      Sumaya Sultana Sina
      15 Oct 2020
      11:13am

      You are most welcome

      0
      0
    SabrinA
    27 Oct 2020
    5:29pm

    Gusiye lekhar jonno r o beshi e amazing hoise….💖

    1
    0

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!