জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার উপায়

ইকিগাই: জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার উপায়

4.1
(18)
Bookmark

No account yet? Register

“লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আমাদের পরিকল্পনা দিয়ে তৈরি গাড়িতে চড়তে হবে। এটির উপর আমাদের পূর্ণভাবে বিশ্বাস রেখে নাছোড়বান্দার মত এগিয়ে যেতে হবে। জীবনের লক্ষ্য ছাড়া সাফল্যের আর কোনও পথ নেই।”

পাবলো পিকাসো (ইতালিয়ান চিত্রশিল্পী, সর্বকালের সেরাদের একজন)

মনে পড়ে যখন ছোট ছিলেন আপনার জন্মদিনের সকালে ঘুম ভাঙার পরের মুহূর্তটা? চোখ মুছতে মুছতে হাই তুলেন; প্রথমে সকালটাকে আর পাঁচটা দিনের মতোই মনে হয়। তারপর হঠাৎ আপনার মনে পড়ে, ‘এই রে, আজ তো আমার জন্মদিন!’

তখন যেন হঠাৎ করেই আপনার মধ্যে পরিবর্তন আসে। আপনার সারা শরীরে উত্তেজনা এবং আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। দিনটা দারুণ হতে চলেছে– সারপ্রাইজ থাকবে, মজা হবে, উদযাপন হবে। আপনার তখন নিজেকে সবথেকে জীবন্ত মনে হয়। আপনি তখন কাঁথা ছুঁড়ে ফেলে জোর পায়ে সিঁড়ি ভেঙে নিচে চলে যান দিনটিকে আলিঙ্গন করে নিতে।

যদি প্রত্যেকটা দিন এমন হতো, তবে কি দারুণ হতো না? প্রতিটি দিন আপনি ঘুম থেকে উঠার পর আপনার শরীরে অজানা এক আনন্দের স্রোত বয়ে যাচ্ছে। আপনি কিশোর বয়সের ফুরফুরে আমেজে দিনটিকে বরণ করে নিচ্ছেন! 

অসামান্যতে লিখুন
জন্মদিনে হাস্যোজ্জ্বল একটি মেয়ে
জন্মদিনে হাস্যোজ্জ্বল একটি মেয়ে । চিত্রসূত্র : Unsplash

যখন আপনার জীবনের কোনও লক্ষ্য থাকবে, আপনি খুঁজে পাবেন আপনার প্যাশন কী, আপনি তখন ঠিক এভাবেই আপনার প্রতিটা দিনের শুরু করতে পারবেন।

কিন্তু কীভাবে জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়া যায়?

সত্যটা কি জানেন? আপনি ইতোমধেই জানেন আপনার জীবনের লক্ষ্য কী! আপনার চোখের সামনেই রয়েছে উত্তরটি। আপনাকে কেবল জানতে হবে কীভাবে জীবনের লক্ষ্যকে বাইরে টেনে বের করে আনা যায়। আপনাকে খুঁজে নিতে হবে আপনার ইকিগাই কী!

চলুন পাঠক আজকের এই নিবন্ধে মাত্র দুটি ধাপে আমরা আমাদের জীবনের লক্ষ্য খুঁজে নিই।

প্রথম ধাপ: ইকিগাই কী?

আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার ইকগাই বইয়ের প্রচ্ছদ
আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার ইকিগাই বইয়ের প্রচ্ছদ । চিত্রসূত্র: Bohemian Bibliophile

ইকিগাই একটি জাপানিজ শব্দ যার অর্থ দাঁড়ায় “বেঁচে থাকার একটি কারণ বা জীবনের লক্ষ্য”। ধরা হয় যে, আমাদের প্রত্যেকের জীবনের ইকিগাই রয়েছে যেটি কারো জীবনের প্যাশনের মাধ্যমে খুঁজে বের করা যায়। আপনারও কি নিজের ইকিগাই খুঁজে নেয়া উচিত নয়? বলা হয় যে ইকিগাই খুঁজে পেলে আপনি আরও দীর্ঘ এবং আনন্দময় জীবন যাপন করতে পারবেন।

কিন্তু সবার ইকিগাই কি একই? কখনোই নয়। প্রত্যেকের ইকিগাই আলাদা এবং সেটি আপনার মতোই প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে পারে। আরও অর্থবহ একটি জীবন যাপনের জন্য আপনি আপনার ইকিগাই ব্যবহার করবেন, নাকি পৃথিবীকে বদলে দেয়ার জন্যও ব্যবহার করবেন, সেটি একান্তই আপনার নিজের ব্যাপার। যেমন লেখকের ক্ষেত্রে দুটোই।

আপনার ইকিগাই আপনার হবি বা শখের মতো সাধারণ কিছু হতে পারে আবার তার থেকে বড় কিছুও হতে পারে।

কিন্তু মনে রাখতে হবে কোনও সাময়িক সমাধান খুঁজে বের করাই কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং আপনার শরীরে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়া উৎসটির সন্ধান করাই আমাদের উদ্দেশ্য। 

কীভাবে ইকিগাই খুঁজে পাওয়া যায়?

নিচের চিত্রে আমাদের জীবনের চারটি প্রধান ক্ষেত্রের একটি সম্মিলিত রূপ দেখায়:

আমরা কী ভালোবাসি, আমরা কিসে দক্ষ, পৃথিবীর কী দরকার, এবং কিসের জন্য আমাদেরকে পে করা যেতে পারে তার একটি কমন রূপ হচ্ছে এই ইকিগাই।
‘স্টার’ চিহ্নিত অংশটিই হচ্ছে আপনার ইকিগাই । অলঙ্করণ: লেখক

আমরা কী ভালোবাসি, আমরা কীসে দক্ষ, পৃথিবীর কী দরকার, এবং কীসের জন্য আমাদেরকে অর্থ দেয়া যেতে পারে তার একটি সাধারণ রূপ হচ্ছে এই ইকিগাই। নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে নেয়ার জন্য এটি সত্যিই একটি দারুণ উপায়।

নিজের ইকিগাই খুঁজে পাওয়ার জন্য উপরের চিত্রের চারটি প্রধান ক্ষেত্র নিয়ে কাজ শুরু করুন। আপনি কী কী কাজ বা বিষয় পছন্দ করেন সেগুলো লিখে ফেলুন। তারপর ভাবুন বাকিদের আপনার থেকে কী দরকার, দুনিয়া আপনার থেকে কী চায়। শেষে মিলিয়ে নিন, আপনার মেধা এবং অভিজ্ঞতার মাঝ থেকে কোনটির জন্য আপনাকে অন্যরা অর্থ দিতে পারে।

তারপর, চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে মিল করার চেষ্টা করুন। যেমন, আপনি কী পছন্দ করেন যেটি বাকিদেরও প্রয়োজন? আপনি কীসে দক্ষ যার জন্য আপনাকে অর্থ দেয়া যেতে পারে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর উপরের চারটি বৃত্তের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করবে।

যখন আপনার মনে হবে আপনি নিজের সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পেয়ে গেছেন, নিজের মস্তিষ্ক ঝালাই (ব্রেইনস্ট্রমিং) করে কিছু আইডিয়া বের করুন যেগুলো আপনার ইকিগাই হতে পারে। যে কয়টি পেয়েছেন তার মধ্যে কোনটি নিয়ে এখনই কাজ শুরু করা যায় এবং সেখানে পৌঁছানোর জন্য যা যা করা দরকার করতে থাকুন।

আপনার প্যাশন কী? এমন কিছু কি আছে যার জন্য আপনি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন? ঠিক কোন কাজটি করার সময় আপনি খাওয়ার কথা ভুলে যান? 

উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নিন এবং আপনি নিজের ইকিগাই জীবন যাপনের জন্য একেবারে তৈরি হয়ে যাবেন।

নিজের প্যাশনের উপর জীবন যাপনের সেরা সময়

নিজের প্যাশনের উপর জীবন যাপনের সেরা সময় হচ্ছে 'এখন'
নিজের প্যাশনের উপর জীবন যাপনের সেরা সময় হচ্ছে ‘এখন’ । চিত্রসূত্র: YesMagazine

আসলে কী জানেন, আমরা জানি আমাদের কী পছন্দ, আমরা জানি আমরা কোন কাজটি করতে ভালোবাসি, কিন্তু চক্ষুলজ্জা – অন্যরা কী বলবে না বলবে, নিজেকে ছোট করে দেখা – আমাকে দিয়ে এসব হবে না, এমন কিছু বাজে অজুহাত আমাদেরকে আমাদের প্যাশনকে চিহ্নিত করতে বাঁধা দেয়, জীবনের লক্ষ্য খুঁজে নিতে দেয় না।  

জানতে চান নিজের প্যাশনের উপর জীবন যাপনের সেরা সময় কোনটি?

একটি গাছ লাগানোর সেরা সময় ছিল ২০ বছর আগে এবং গাছটি লাগানোর দ্বিতীয় সেরা সময় হচ্ছে ‘এখন।’ 

চীনা প্রবাদ

দ্বিতীয় ধাপ: নিজের খেলাঘরের বাইরে বের হতে শেখা

আমাদের প্রত্যেকেরই একটি করে খেলাঘর রয়েছে, যেখানে আপনিই হচ্ছেন মধ্যমণি। আপনার খেলাঘর হচ্ছে আপনার সেই ছোট্ট দুনিয়া যেখানে আপনি বাস করেন, যেখানে আপনি খেলতে পছন্দ করেন। আপনি নিজের ভালো থাকা নিয়ে চিন্তিত থাকেন এবং খারাপ থাকার বিন্দুমাত্র কোনও ইচ্ছাই আপনার নেই, সেটি হতে পারে জীবনে সফল হওয়ার মাধ্যমে, নিজের ব্যক্তিগত আনন্দ লাভের মাধ্যমে (ইয়ামি খাবার, স্টাইলিশ জিন্স, রক মিউজিক ইত্যাদি)।

নিজের খেলাঘর থেকে বের হয়ে ইকিগাই খুঁজে বের করুন
নিজের খেলাঘর । চিত্রসূত্র : TabascoHoy

যখন আপনাকে কেউ বলে, ‘তুই মোটা’ আপনি শুনেই কষ্ট পান, কেননা আপনি আপনার খেলাঘরে আছেন। আপনি তার কথাটা সোজাসুজি ধরে নেন এবং বিশ্বাস করেন যে লোকটি যা বলেছে সেটিই আপনি (মোটা) এবং অপমান বোধ করেন বা লজ্জিত হন। এতে অনেক কিছুই যায় আসে, কেননা আপনার খেলাঘরে যা কিছু আসে যায় তা হচ্ছে কীভাবে সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে আপনার উপর প্রভাব ফেলে।

এই খেলাঘর আমাদের আরও, আরও যেসব সমস্যা তৈরি করে:

  • নিজের খেলাঘরে আমরা আমাদের আনন্দ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি সজাগ থাকি এবং চেষ্টা করি বিব্রত না হতে, অস্বস্তিতে না পড়তে। একারণে আমরা ব্যায়াম করি না, কেননা ব্যায়াম আমাদের ঘাম ঝরায়; আমরা স্বাস্থকর খাবার খাই না, কেননা স্বাস্থকর খাবার মোটেও ইয়ামি হয় না।
  • অপরিচিত কারো সাথে আলাপ করতে গিয়ে লজ্জায় পড়া বা উদ্বিগ্ন হওয়ার পিছনেও এই বিব্রত হওয়া বা অস্বস্তিবোধ করার ভয়টি কাজ করে। এটা আমাদের সামাজিক জীবনকে যেমন শেষ করে ফেলে, তেমনি আমাদের ভালবাসার সম্পর্ককেও। 
  • যেহেতু আমরা চাই না আমাদেরকে খারাপ দেখাক, নিজের খেলাঘরেই আমরা পরিপাটি থাকতে পছন্দ করি– আমরা ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে ভীত থাকি। একারণে আমরা কঠিন কিছু সামলাতে রাজী হই না। এই ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে বা অস্বস্তিবোধ করার ভয়ে আমরা দীর্ঘসূত্রিতা করি। 
  • যখন আমাদের সাথে কেউ কিছু করে বা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলে আমরা প্রথমে মেলানোর চেষ্টা করি সেটি আমাদেরকে কীভাবে আঘাত করে, আর এটিই অস্বস্তি বা রাগের জন্ম দেয়।   
  • আমরা লোকেদের থেকে প্রত্যাশা করি যে আমরা যা চাই তারা আমাদেরকে সেটাই দিবে, কিন্তু যখনই পাই না, আমরা হতাশ হয়ে পড়ি বা রেগে যাই। অজান্তেই মুখ ফুটে বলে ফেলি – “কেউ আমাকে ভালোবাসে না।” 

আসলে, আমাদের প্রায় সব সমস্যায় এই খেলাঘর তৈরি করে থাকে। আপনি আপনার খেলাঘরকে বলতে পারেন– সমস্যা তৈরির কারখানা।  

কিন্তু এর সাথে জীবনের লক্ষ্যের কী সম্পর্ক? চলুন হিসেবটা মিটিয়ে ফেলি।

 “লক্ষ্যহীন জীবন বৈঠাবিহীন নৌকার মতো”

টমাস কার্লাইল

বড় পরিসরে দেখা এবং আমাদের জীবনের লক্ষ্য

খেলাঘরের বাইরে বেরিয়ে বড় পরিসরে দেখতে শিখুন।
খেলাঘরের বাইরে বেরিয়ে বড় পরিসরে দেখতে শিখুন । চিত্রসূত্র: Lifehack

আমরা একবার আমদের খেলাঘর থেকে বের হতে পারলে এবং আত্মকেন্দ্রিক ভাবে না দেখে আরও বড় পরিসরে দেখতে শিখলে, আমরা নতুন নতুন পথের খোঁজ পেতে পারি, যেমন:

  • আমরা আমাদের নিজেদের থেকে আরও বড় কিছুকে গুরুত্ব দিতে শিখি।
  • আমরা অন্যদের কী প্রয়োজন সেটা দেখতে শিখি এবং তাদের কষ্টকে অনুভব করতে শিখি।
  • আমরা তখন তাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলা এবং তাদের কষ্ট কমানোর চেষ্টা করি।
  • এমনকি আমরা যদি অমন কিছুতে আদৌ দক্ষ না হই, তবুও আমরা শিখতে থাকি, অন্ততপক্ষে শেখার চেষ্টা করি। আর এমন ধ্যান-ধারণাই আসল পার্থক্য তৈরি করে দেয়।
  • তখন আমরা এই মহৎ উদ্দেশ্যকে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের সাথে জুড়ে নিতে থাকি। আমরা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ি, নিজেকে আরও সেরা করে তুলতে থাকি, কেবলমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং অন্যদের জন্যও আমরা হয়ে উঠি নিজেদের সেরা সংস্করণ
  • এই ভাবনাটা আমাদেরকে প্রতি মুহূর্তে অনুপ্রেরণা যোগায়। নিজেদের অস্বস্তি বা ভয়কে দূরে ঠেলে নিজেকে যুক্ত করতে হবে নিজের থেকে আরও বড় কোনো উদ্দেশ্যের সাথে। 

আপনি অন্যদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য নির্দিষ্ট করে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা কোন দক্ষতা রপ্ত করছেন তাতে কিছু আসে যায় না। আপনি নিজের পেশা হিসেবে কী বেছে নিলেন তাতেও কিছু আসে যায় না, আসল পার্থক্য করে দেয় – নিজের থেকে বড় ওই লক্ষ্যটি।  

নিজের থেকে আরও বড় কিছু হয়ে ওঠার উপরেই সবকিছু নির্ভর করে। একবার আপনি সেটা করতে শুরু করলে, স্বাগত, আপনি আপনার জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছেন।  

কীভাবে খেলাঘরের বাইরে বের হওয়া যায়

এতক্ষণ পর্যন্ত তো সব চমৎকারই ছিল, কিন্তু খেলাঘরের বাইরে বের হওয়াটা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। এমন না যে বলে দিলাম, ঠিক আছে, তবে তাই হোক। এর জন্য দরকার নিজের ইচ্ছেশক্তি এবং চেষ্টা। 

এক প দু পা করে নিজের খেলাঘরের বাইরে বেরিয়ে আসুন । চিত্রসূত্র : TheTeenagerToday
এক পা দু পা করে নিজের খেলাঘরের বাইরে বেরিয়ে আসুন । চিত্রসূত্র : TheTeenagerToday

প্রথমত, আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে আপনি কখন নিজের খেলাঘরে আটকে যাচ্ছেন। যখনই আপনি রেগে যাচ্ছেন বা হতাশ, দ্বিধাগ্রস্ত, বিব্রত, ভীত, উদ্বিগ্ন হচ্ছেন বা কষ্ট পাচ্ছেন, দীর্ঘসূত্রিতা করছেন বা ভাবছেন সবাই আমার সাথে এমন না করে অমন করতে পারত……তখনই জানবেন আপনি আপনার খেলাঘরে আটকে আছেন। এগুলোই চিহ্ন। আপনি আপনার পৃথিবীর মধ্যমণি এবং সবকিছু আপনি এবং আপনার অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত। আমাদের খেলাঘরে ক্ষণস্থায়ী আনন্দই প্রাধান্য পায়। কিন্তু খেলাঘরের বাইরে এগুলো কেবলই তুচ্ছ ঘটনা ছাড়া আর কিছুই নয়, যেগুলোকে তাড়ানো যেতে পারে। 

দ্বিতীয়ত, যখন আপনি বুঝবেন যে আপনি আপনার খেলাঘরে আটকে আছেন, নিজের মনকে প্রসারিত করুন, বড় পরিসরে চিন্তা করুন। নিজের থেকে বড় ছবিটি চোখের সামনে এনে হাজির করুন। অনুভব করুন অন্যদেরও কী কষ্টের অনুভূতি হচ্ছে। কাউকে দোষ না দিয়ে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। নিজের ভয় বা সমস্যাগুলো কতটা ক্ষুদ্র সেটা মেপে দেখার চেষ্টা করুন। বোঝার চেষ্টা করুন যে কেউ যদি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে, সেটার সাথে আপনার নিজের ব্যক্তিগত কোনও সম্পর্ক নেই, এমন খারাপ ব্যবহারের উৎস হচ্ছে ওই ব্যক্তির নিজের কষ্টটা, সে যে দুর্দশায় আছে সেখান থেকেই এই খারাপ ব্যবহারের জন্ম। 

তৃতীয়ত, অন্যদের মঙ্গল কামনা করুন। ঠিক যেভাবে নিজে সুখী হতে চান তেমন নিঃস্বার্থ এবং সততার সাথে তাদেরও সুখের প্রত্যাশা করুন। তাদের কষ্টটাকে অনুভব করার চেষ্টা করুন এবং কমানোর চেষ্টা করুন বা অন্ততপক্ষে প্রার্থনা করুন যেন দ্রুত তাদের কষ্টের শেষ হয়। 

জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার উপায়ঃ আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন । চিত্রসূত্র: Pexels

চতুর্থত, ভেবে দেখুন আপনি কীভাবে তাদের সাহায্য করতে পারেন। কীভাবে আপনি অন্যদের কষ্ট কমাতে পারেন? মাঝেমধ্যে কেবল মনোযোগ দিয়ে কারো কথা শুনলেই চলে। অন্যসময় আপনাকে তার পাশে গিয়ে তার কাঁধে আপনার শক্ত হাতটা রাখতে হবে। আপনাকে দুনিয়ার সবার সমস্যা সমাধান করতে যেতে হবে না– সবাই এমনটা চায়ও না। কেবলমাত্র নিজের বড় মনটা নিয়ে তাদের পাশে গিয়ে হাজির হোন, আর দেখুন আপনি কোনো ভাবে তাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারেন কি না– এমন কিছু করুন যা তাদেরকে হাসাতে পারে। তাদের দুনিয়ার ছোট্ট একটা অংশ বানাতে পারেন কি না– সেটা এক কাপ চাপ বা শীতের দিনে আপনার নিজের হাতে বোনা উলের সোয়েটারের মতো সাধারণ কিছুও হতে পারে।  

দিনে কয়েকবার এভাবে চর্চা করুন, আস্তে আস্তে আপনি এক্ষেত্রে গুরু হয়ে উঠবেন। আপনি নিজের থেকে আরও বড় হতে শিখবেন। আপনি শিখবেন যে আমাদেরকে যে জীবনটা দেয়া হয়েছে সেটি সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে একটি উপহার এবং আমাদেরকে অবশ্যই এর সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে, একটি সেকেন্ডও নষ্ট না করে। আপনি শিখবেন যে অন্যদেরকে হাসাতে পারা, তাদের জীবনে আরেকটু রং এনে দেয়ার থেকে পরিতৃপ্তির আর কিছুই নেই। 

তাহলে এবার বলুন, খুঁজে পেলেন আপনার জীবনের লক্ষ্য?

ফিচার চিত্রসূত্র: Unsplash

তথ্যসূত্র:

১। Forbes
২। Zenhabits
৩। Ikigai-living
৪। Becomingminimalist

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on ইকিগাই: জীবনের লক্ষ্য খুঁজে পাওয়ার উপায়

কমেন্ট করুন


সম্পর্কিত নিবন্ধসমূহ:

error: Content is protected !!