eiffel tower

ইউরোপ: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শীর্ষ ৭টি স্থান

মশিউর রাকিব
4.1
(8)
Bookmark

No account yet? Register

বাঁশের নল দিয়ে পুরো পৃথিবী দেখা যায় না। জাপানি এই মতবাদটি বলে দেয় ভ্রমণ কতটা আবশ্যকীয়। ভ্রমণের জন্য ইউরোপের আকর্ষণীয় স্থান কোনটি? এক বাক্যে এর জবাব দেয়া অসম্ভব। কারণ, ইউরোপ হলো ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইউরোপ ভ্রমণে গিয়ে সেখানকার আকর্ষণীয় স্থানের প্রেমে পড়েনি এমন ভ্রমণপ্রেমীর দেখা পাওয়া ভার। 

ইউরোপের প্রতিটি দেশেই রয়েছে অসংখ্য স্থাপত্য, আকর্ষণীয় স্থান। যেখানে ভ্রমনপ্রেমীরা নিজেদেরকে মেলে ধরবে, সেখানের আকৃষ্ট না হয়ে উপায় নেই। তারপরও আমরা সেই অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান থেকে ৭ টি জনপ্রিয় স্থানের সন্ধান দেয়ার চেষ্টা করবো।        

বার্সেলোনা

ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম, বার্সেলোনা, স্পেন, ইউরোপ
  ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়াম! চিত্রসুত্র: পিক্সাবে  

বার্সেলোনা নামটি শুনলেই সবার প্রথমে চোখে ভাসে ফুটবল বিশ্বের দামি ক্লাব ‘এফসি বার্সেলোনার’ কথা। বিশ্ববাসীর কাছে বার্সেলোনা নামটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত এই ক্লাবটির মাধ্যমে। প্রতিবছর, এই ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য পর্যটক পাড়ি জমায় বার্সেলোনায়। কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনা একটি অত্যাশ্চর্য সমুদ্র উপকূলীয় শহর। দৃষ্টিনন্দন সব আকর্ষণীয় স্থান, দুরন্ত স্থাপত্যশৈলী যেকোনো ভ্রমণকারীকে আকর্ষিত করতে বাধ্য। 

প্রায় ২,০০০ বছর পূর্বের ঐতিহাসিক নিদর্শন গথিক কোয়ার্টারটি বার্সেলোনা শহরের আধ্যাত্মিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ কেন্দ্র হিসেবে দাড়িয়ে আছে। প্রাচীন রোমান আমলের ধ্বংসাবিশেষের দেখা মিলে ঐতিহাসিক গথিক কোয়ার্টারে। এছাড়া রয়েছে, ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত ‘কাসা মিলা‘ যা অ্যান্তোনিও গৌড়ের সর্বাধিক ধর্মনিরপেক্ষ কেন্দ্র। তবে, বার্সেলোনা নগরীর প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো প্রায় ৯৯,৩৫৪ আসনের ফুটবল স্টেডিয়াম ক্যাম্প ন্যু। একদিকে, ইউরোপের বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল মাঠ ক্যাম্প ন্যু। দৃষ্টিনন্দন এই মাঠটিতে ১৯০২ সালে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।    

এছাড়াও রয়েছে ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত বিশ্বের অন্যতম প্রচলিত গির্জা বেসিলিকা দে লা সাগ্রাদা যা বার্সেলোনার ফামিলিয়া শহরের উত্তর অংশে অবস্থিত। যার প্রধান ফটকে ঢুকলেই, সবার প্রথমে দৃষ্টি পড়বে যিশুর জন্মচিত্র; যিশুর মৃত্যযন্ত্রণার নানান চিত্রসহ আরো অসাধারণ সব আকর্ষণীয় চিত্র। যার প্রধান ফটকে ঢুকলেই সবার প্রথমে দৃষ্টি পড়বে যিশুর জন্মচিত্র; পাশাপাশি যিশুকে আলোকপাত করে আঁকা তাঁর করুণ মৃত্যযন্ত্রণার চিত্রসহ আকর্ষণীয় নানা চিত্র। 

দর্শনার্থীরা নিঃসন্দেহে বার্সেলোনা শহরকে ভ্রমনের জন্য তালিকায় রাখতে পারেন।   

প্যারিস

ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার
  ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ার। চিত্রসুত্র: পিক্সাবে

ইউরোপ তথা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস। অর্ধেক নগরী, তুমি অর্ধেক কল্পনা এ উক্তির যথার্থতা পাওয়া যায় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানে ভরপুর বৃহত্তম নগরী প্যারিসে। প্রায় ১০৫ কি.মি আয়তনের এই শহরটি প্রায় ২০টি উপশহরে বিভক্ত। প্রতিটি উপশহরে রয়েছে বিশেষ নিজস্বতা। 

প্যারিসের দর্শনীয় স্থানের সন্ধান করতে গেলে মনে পড়বে প্রায় ১০০০ ফুট উচ্চতার এক অনন্য নিদর্শন আইফেল টাওয়ারের কথা। ১৮৮৯ সালে বিখ্যাত আলেকজান্দ্রে-গুস্তাবের ডিজাইনে নির্মিত এই নিদর্শনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে অধিকাংশ পর্যটক। এটি মূলত ফরাসি বিপ্লবের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে যা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষনীয়। যেখানে, দিন এবং রাতের বেলায় এর সমান সৌন্দর্যের দেখা পাওয়া যায়। চারদিকে সবুজের সমারোহ সাথে প্যালেস এবং ঝর্ণার দেখা যেকোনো পর্যটকদের বিমোহিত করবে। 

আপনি যদি জাদুঘরপ্রেমী হন, তাহলে আপনার জন্য সেরা গন্তব্য প্যারিস। কারণ, এখানে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম জাদুঘর ল্যুভর মিউজিয়াম যেখানে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি নির্মিত বিখ্যাত মোনালিসার দেখা মিলে। প্রায় ৩০ হাজার ছোট-বড় বিখ্যাত প্রাচীন নিদর্শনের দেখা পাওয়া যায় ঐতিহাসিক এই ল্যুভর মিউজিয়ামে। এছাড়াও, রয়েছে সিন নদীর বাম তীরে অবস্থিত লুক্সেমবার্গ পার্ক হিসেবে অভিহিত ল্যাটিন কোয়ার্টার, প্রাচীন বিখ্যাত ভাস্কর্য সংগ্রাহক মিউজিয়াম ডি ওরসে।         

আপনি যদি ইউরোপে ভ্রমণের ইচ্ছে রাখেন তাহলে পর্যটন নগরী প্যারিসে যেতে ভুলবেন না। 

ভেনিস

রিয়াল্টো ব্রিজ, ভেনিস, ইতালি, ইউরোপ
রিয়াল্টো ব্রিজ। চিত্রসুত্র: Touropia.    

ইউরোপের রোমান্টিক শহর কোনটি? এমন প্রশ্নে সবার প্রথমে মাথায় আসবে ভাসমান শহর নামে খ্যাত ভেনিসের নাম। আসলেই তাই। প্রায় ১১৮ টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই শহরটিতে কোথায়ও গাড়ি নিয়ে ঢোকার রাস্তা নেই। ফলে ফেরি এবং নৌকা এই অঞ্চলের ভ্রমণের প্রধান মাধ্যম। 

আপনার হাতে যদি পর্যাপ্ত  সময় থাকে তাহলে, ঐতিহ্যবাহী গন্ডোলা ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। গন্ডোলা বিশেষ এক ধরনের নৌকা। ভেনিসের খালের জলে ভাসতে ভাসতে দেখে নিতে পারেন পর্যটন আকর্ষণগুলো। আর যদি ভ্রমণকালে গন্ডোলার মাঝি মাঝে মধ্যে গান ধরে, তাহলে তো কথাই নেই। এ যেন সারা জীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।

এছাড়া, আপনি যদি পুরো ভেনিসের সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করতে চান তাহলে আপনার জন্য সেরা স্থান হতে পারে গ্যান্ড খাল। নিঃসন্দেহে,  ভেনিসের সবচেয়ে আইকনিক একটি স্থান এই গ্যান্ড খাল। যেখানে ভ্রমণের মাধ্যমে দিন-রাত উভয় সময়ে ভেনিসের পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। 

এছাড়াও ভেনিসে দেখার মতো একটি আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে দোজের প্রাসাদ, যেখানে পূর্বে সরকারি বাসভবন ছিল। ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড খালের উপর নির্মিত রিয়াল্টো সেতু, আকর্ষণীয় বেসিলিকা ডি সান মার্কো গির্জা এবং ইতালির (তাদের নিজেদের উচ্চারণে ইতালিয়া) সবচেয়ে নামকরা অপেরা হাউজের মধ্যে একটি হাউজ ট্যাট্রো লা ফেনিস, যা ১৭৯২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনবার আগুনে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে আছে। দ্য ফিনিক্স নামেও পরিচিত এই অপেরা হাউজটি। নান্দনিক এই অপেরা হাউজের শো দেখার জন্য অসংখ্য পর্যটকদের জমায়েত হয় প্রতিদিন।

 আপনি যদি ঘুরতে গিয়ে একটু রোমান্টিকতার ছোঁয়া পেতে চান, তাহলে ভেনিসকে নিঃসন্দেহে ইউরোপের ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন।       

রোম

রোমান জাদুঘর
রোমান জাদুঘর। চিত্রসুত্র: Touropia.    

ইউরোপ তথা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম শহরের মধ্যে একটি ইতালির রাজধানী রোম। ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবেও খ্যাত রোম। 

রোম নগরীর ইতিহাস হাজার হাজার বছর ধরে। রোমকে পাশ্চাত্য সভ্যতার কেন্দ্র বলা হয়। ইউরোপ তথা বিশ্বের ঐতিহাসিক সকল নিদর্শনের দেখা মিলে প্রাচীন নগরী খ্যাত এই রোম নগরীতে। প্রাচীন রোমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নানান ঐতিহাসিক সকল নিদর্শনের দেখা পাওয়া যায় রোমে অবস্থিত রোমান জাদুঘরে। অবিশ্বাস্য পালাজ্জো ম্যাসিমো আল টার্মের অ্যাম্বার, পুরনো নানান অলংকার এবং প্রাচীন রোমান রাজাদের ভাস্কর্যের দেখা মেলে এই ঐতিহাসিক জাদুঘরে। 

এছাড়াও, আপনি যদি গাড়িতে চড়ে ভ্রমণ করে ঐতিহাসিক সব নিদর্শন দেখতে চান তার জন্য আপনি ভ্রমণ করতে পারেন, রোমের বিখ্যাত প্রাচীন রাস্তা অ্যাপিয়ান ওয়ে। প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে চারপাশে নানান ঐতিহাসিক সব স্মৃতিস্তম্ভের দেখা মিলবে এই অ্যাপিয়ান ওয়েতে। 

অনেকে আবার রেনেসাঁ যুগের বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী। তাহলে প্রাচীন নগরী রোমে অবস্থিত প্রায় ১৫০৫ সালে নির্মিত ভিলা ফার্নেসিনা হতে পারে সেরা গন্তব্য। কারন, এখানে রেনেসাঁ যুগের প্রচীন ধনী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়।     

ঐতিহাসিক সকল নিদর্শনের দেখার ইচ্ছে যদি আপনাকে কাবু করে, তাহলে প্রাচীন এই রোম নগরীতে একবার ঘুরে আসতে পারেন। 

আরও পড়ুন: এশিয়া ভ্রমণের সেরা ১০ টি দর্শনীয় স্থান 

লন্ডন

বাকিংহাম প্যালেস, লন্ডন, যুক্তরাজ্য। ইউরোপ
বাকিংহাম প্যালেস। চিত্রসুত্র: পিক্সাবে  

পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় শহরের মধ্যে একটি ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন শহর। আভিজাত্য এবং আধুনিকতার ছোঁয়া মেলে এই শহরে। প্রায় প্রতি বছর ২০ মিলিয়ন পর্যটক ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন শহরে ভ্রমণে আসে। প্রাণবন্ত সকল শিল্পকলা, বিনোদন কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক আকর্ষণসমূহের ঐতিহ্যবাহী এই শহরে। 

লন্ডনে ভ্রমণের জন্য প্রথম পছন্দ হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে রাজকীয় প্রাসাদের একটি বাকিংহাম প্যালেস। দূর থেকে প্রাসাদের সৌন্দর্য যতটা উপভোগ করা যায়, কাছে গেলে প্যালেসের সৌন্দর্য এর থেকেও বেশি পাওয়া যায়। এর সামনের ফটকে গেলে বিশালাকার একটা বাগান আর অসংখ্য মানুষ সাথে সিংহের নজরকাড়া ভাস্কর্যের দেখা মিলবে। 

আপনি যদি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনপ্রেমী হন, তাহলে ভ্রমণ করতে পারেন প্রায় ১৩ কোটির বেশি নানান ঐতিহাসিক সকল নিদর্শনের সমাহার ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। বিখ্যাত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পার্থেনন, রোজটা স্টোন, দ্বিতীয় রামসিসের মিশ্রিত মূর্তি, মিশরীয় অসংখ্য মমি এবং চতুর্থ শতাব্দীর রোমান রৌপ্যের দর্শনীয় জলাথা মিলডেনহল ট্রেজার অন্যতম। এছাড়াও রয়েছে, ১৭৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর যা পৃথিবীতে সর্বাধিক ভ্রমণ করা আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি।      

আপনি যদি একের ভিতর সব পেতে চান, তাহলে লন্ডনকে কোন দ্বিধা ছাড়াই ভ্রমণতালিকায় স্থান দিতে পারেন।     

ভিয়েনা

হফবার্গ প্রাসাদ
হফবার্গ প্রাসাদ। চিত্রসুত্র: পিক্সাবে   

ইউরোপের বসবাসের জন্য উপযুক্ত শহর এবং সবুজ শহর হিসেবে খ্যাত অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। প্রায় ৪১৫ কি.মি আয়তনের এই শহরটি ২০০১ সালে ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা মূল পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিবছর ইউরোপ ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত পর্যটকগণ এই মনোমুগ্ধকর স্থান ঘুরে বেড়ান। ঐতিহাসিক সব স্থাপনা, আকর্ষণীয় স্থান এবং নানান ঐতিহাসিক নিদর্শনের দেখা মেলে ভিয়েনায়। 

আপনি যদি ভিয়েনায় এসে একটু আকর্ষণীয় প্রাসাদের খোঁজ করেন, তাহলে সেরা স্থান হতে পারে ভিয়েনার সবচেয়ে ঐতিহাসিক হফবার্গ প্রাসাদ। প্রায় ১৩ শতাব্দীতে নির্মিত এই প্রাসাদটির প্রধান আকর্ষণ হল ইম্পেরিয়াল অ্যাপার্টমেন্ট, সিসি জাদুঘর এবং সিলভার কালেকশন। এছাড়াও, কমপ্লেক্সের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলোতে রয়েছে ইম্পেরিয়াল চ্যাপেল (বার্গকাপেল) এবং হফবার্গ ট্রেজারি; যার বিশাল বিশাল সংগ্রহ রয়েছে ইম্পেরিয়াল রেগালিয়া এবং পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের নানান ধ্বংসাবশেষ।

প্রাসাদ ঘোরার পর যদি এবার ঐতিহ্যবাহী খাবারের ভিন্ন স্বাদ নিতে চান, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ভিয়েনার উন্মুক্ত এই ন্যাশমার্কেটটি। নানান বহিরাগত খাবারের পাশাপাশি সাথে আছে হোয়াইন ওয়ান, আচার ও পনিরের মতো একধরনের স্ট্রাটেড জলপাই। নানান ঐতিহাসিক অস্ট্রিয়ান খাবারের স্বাদ পাবেন এই ন্যাশমার্কেটে।     

অভিজাত সব প্রাসাদ এবং দালান-কোঠা দেখা যদি আপনার প্রধান ইচ্ছে হয়, তাহলে ভিয়েনা আপনারই অপেক্ষায়!         

অসলো

সিটি হল, অসলো
সিটি হল, অসলো। চিত্রসুত্র: পিক্সাবে     

পরিপূর্ণ অপরূপ প্রকৃতির মাঝখানে এক সৌন্দর্যমন্ডিত শহর, নরওয়ের রাজধানী অসলো। ২০১৯ সালে নরওয়ের অন্যতম এই নগরী ইউরোপিয়ান গ্রিন ক্যাপিটাল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছ। এছাড়াও, ভ্রমণ বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট লোনলি প্লানেটের সেরা ভ্রমণ স্থানের তালিকায় ২০১৮ সালে জায়গা করে নিয়েছিল।

অসাধারণ সব আধুনিক স্থাপত্য, শিল্পকর্ম এবং নানান রহস্যময় জাদুঘরে ঘেরা এই শহরটি প্রচুর সব নান্দনিক স্থাপনায় পরিপূর্ণ। অসলোর সবচেয়ে পর্যটক আকর্ষণ হলো ভিজল্যান্ড ভাস্কর্য উদ্যান। অসলোর বিখ্যাত ফ্রোগনার পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই উদ্যানটিতে গুস্তভ ভিজল্যান্ডের জীবনকর্ম এবং ব্রোঞ্জ, গ্রানাইট, লোহা দ্বারা তৈরি প্রায় ৬৫০ টির মতো ভাস্কর্য রয়েছে। যেগুলোর একেকটি প্রায় ৮৫৩ মিটার পর্যন্ত উচুঁ আবার তার মধ্যে ১২১ টি ভাস্কর্যতে মানবদেহের অংশবিশেষ বিদ্যমান রয়েছে।       

এছাড়াও, অসলোর আরেকটি দুর্দান্ত নিদর্শন হলো সিটি হল। ইট দিয়ে কংক্রিটের মুখোমুখি নির্মিত এই চাপানো স্কয়ার বিল্ডিংটি আর্স্টেইন আর্নেবার্গ এবং ম্যাগনাস পলসন ডিজাইন করেছিলেন। সিটি হলে দুটি টাওয়ার রয়েছে যার মধ্যেখানে একটি বিশাল ঘড়ির মুখ দিয়ে সজ্জিত আছে। বিশাল এই ঘড়িগুলোর মধ্যে একটিতে ৩৮ টি ঘণ্টা রয়েছে, যার শব্দ পুরো বন্দর অঞ্চল জুড়ে শোনা যায়।  

তবে, অসলোর যেই জিনিসটি বড্ড অবাক করে তা হলো অসংখ্য জাদুঘর। অসলোকে জাদুঘরের শহর বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, ভাইকিং শিপ জাদুঘর, জাতীয় জাদুঘর, মঞ্চ জাদুঘর, ফ্রেম জাদুঘর, সাংস্কৃতিক ইতিহাস জাদুঘরসহ অসংখ্য সব জাদুঘরের এই শহরটি নিঃসন্দেহে ভ্রমণপিপাসুদের ভ্রমনের তৃষ্ণা মেটাতে একটুকু কমতি রাখবে না।     

আপনি যদি জাদুঘরপ্রেমী হন, তাহলে নরওয়ের রাজধানী আসলো নগরীতে একবার নিজেকে মেলে ধরতে পারেন।    

শেষকথা

ইউরোপ পর্যটনকেন্দ্রে ভরপুর একটি মহাদেশ। ইউরোপের প্রত্যেকটি দেশেই দৃষ্টিনন্দন সকল স্থাপনা যেকোনো পর্যটককে নিমিষেই বিমোহিত করবে। তারপরও অসংখ্য পর্যটকনির্ভর ইউরোপের দর্শনীয় স্থান থেকে কিছু আকর্ষণীয় পর্যটনস্থানের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এই নিবন্ধে। আপনি ইউরোপ ভ্রমণে বের হলে, কোনটিকে প্রথমে রাখবেন?                               

প্রচ্ছদ ছবিসূত্র: Pixabay     

তথ্যসূত্র:

  1. Britannica   
  2. PlanetWare
  3. Cometoparis
  4. TravelTriangle
  5. Touropia
  6. TimeOut

আপনার অনুভূতি জানান

Follow us on social media!

আর্টিকেলটি শেয়ার করতে:
No Thoughts on ইউরোপ: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য শীর্ষ ৭টি স্থান

কমেন্ট করুন

অসামান্য

error: Content is protected !!